নিয়ম ভেঙে আন্তঃনগর ট্রেনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্টপেজ

নিয়ম ভেঙে আন্তঃনগর ট্রেনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্টপেজ

সুজিত সাহা:
আন্তঃনগর ট্রেনের ক্ষেত্রে যেকোনো জেলায় স্টেশন থাকার কথা একটি। যদিও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রতি বছরই বাড়ছে স্টপেজের সংখ্যা। এরই অংশ হিসেবে আখাউড়া-কুমিল্লা সেকশনের আখাউড়া স্টেশন থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে চালু হচ্ছে কসবা স্টেশন। এর ফলে ১৫ ডিসেম্বর থেকে কসবা স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিতে হবে মহানগর এক্সপ্রেসকে।
রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরাই বলছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত স্টপেজের কারণে আন্তঃনগর ট্রেনের প্রতি যাত্রী আগ্রহ কমছে। যাত্রী খাতে আয় কমার পাশাপাশি বাড়ছে রেলের জ্বালানি ব্যয়।
জানা যায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেলের অক্টোবরের অপারেশনাল রিভিউ বৈঠকে (ওআরএম) আন্তঃনগর ট্রেনে আর কোনো স্টপেজ না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে দেয়া ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে নতুন করে কসবা স্টেশনটি চালু করতে যাচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় একটি সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা স্টেশনে ৭২১ ও ৭২২ নং মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। গত ৩০ নভেম্বর রেলের উপপরিচালক (ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন) মো. ময়েনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর থেকে কসবা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কন্ট্রোল অর্ডার পাঠায় রেলের পরিবহন বিভাগ।

রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একটি ট্রেনের নতুন একটি স্টপেজের জন্য রেলওয়ের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এতে করে একদিক থেকে যেমন সেবার মান কমে যায়, অন্যদিক থেকে রেলের পরিচালন ব্যয়েও এর প্রভাব পড়ে। স্টেশনে যাত্রাবিরতির জন্য একেকটি ৭০ কিলোমিটার গতিবেগের ট্রেনের সময় ব্যয় হয় সর্বনিম্ন ১৫ মিনিট। স্টেশনে যাত্রাবিরতির আগে নির্ধারিত দূরত্ব থেকে গতি কমিয়ে আনাসহ যাত্রাবিরতি ও আবারো সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানো পর্যন্ত সময়ে একেকটি ট্রেনের এ পরিমাণ সময় ব্যয় হয়। কসবা স্টেশনে নতুন করে যাত্রাবিরতি দেয়ার কারণে ১৫ ডিসেম্বর থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বর্তমানের তুলনায় কমপক্ষে ১৫ মিনিট বিলম্বে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। এতে করে ট্রেনটির জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াও একই রুটের অন্যান্য ট্রেনের গতি ও নির্ধারিত স্থানে অবস্থানের সময়ের ওপরও এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে নয়টি স্টেশনে। প্রারম্ভিক স্টেশন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার ৭২২ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কুমিল্লা, লাকসাম, লাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এর মধ্যে আখাউড়া-কুমিল্লা সেকশনের আখাউড়া স্টেশন থেকে কসবা স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন করে স্টপেজ দেয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত জানিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল হাই।

অন্যদিকে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে রেলের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্টপেজ দেয়ার ক্ষেত্রে রেলের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের মতামত নেয়ার নিয়ম থাকলেও আইন লঙ্ঘন করেই বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের অনুরোধে এভাবে স্টপেজ দিতে থাকলে রেলের আয় ও সেবার মান— দুটোই নেমে যাবে।
২০০৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত স্টপেজ দেয়া হয়েছে ৩৬টি। এর মধ্যে শুধু ২০১৩ সালেই দেয়া হয় ১৩টি। গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি স্টপেজ দেয়া হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। এ সময় এ রুটে নতুন যুক্ত হয়েছে ১৭টি স্টপেজ। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ছয়টি, ঢাকা-সিলেট রুটে ছয়টি, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চারটি, ঢাকা-নোয়াখালী রুটে দুটি ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে একটি করে স্টপেজ নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।

সুত্র:বণিক বার্তা,ডিসেম্বর ১০, ২০১৭


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।