শিরোনাম

শ্রীপুরে দু’বছরেও মেলেনি যমুনা ট্রেনের স্টপেজ

শ্রীপুরে দু’বছরেও মেলেনি যমুনা ট্রেনের স্টপেজ

এম.এম ফারুক: 

গাজীপুরের শ্রীপুর রেলস্টেশনে গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজনের দাবির মুখে আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন অননুমোদিতভাবে দু’মিনিট দাঁড়ালেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যাত্রা বিরতির অনুমোদন আজও মেলেনি। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট মোঃ রহমত আলী গত বছর সংসদে বিল আকারে দাবি উত্থাপন করেন এবং মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন। শুধু তাই নয় ব্যক্তিগতভাবে তিনি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে শ্রীপুরবাসীর ট্রেন স্টপেজের দাবি উত্থাপন করেছেন। এতে পাওয়া গেছে শুধু প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি। মেলেনি আজও সরকারিভাবে ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন। বর্তমানের দু’মিনিটের যাত্রা বিরতি অননুমোদিত হওয়ার কারণে টিকিট হয় না আর টিকিট না পাওয়ায় প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

 

শ্রীপুর রেলস্টেশন থেকে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী জয়দেবপুর, ঢাকা, বিমানবন্দর, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয় বৃহস্পতিবার, রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনে। বিশেষ করে শ্রীপুর থেকে ঢাকায় অনেক চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার নারীপুরুষ ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে বা সময় বাঁচাতে প্রতিদিন এই ট্রেনে যাতায়াত করে থাকেন। একদিকে যাত্রীদের টিকিট না থাকায় সরকার গড়ে প্রতি মাসে ৫/৬ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে রেলের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রশাসনেরও অনেকে এতে জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়।

 

স্থানীয়রা প্রতিদিন সকাল-বিকাল আপ-ডাউনে লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটি থামান। তাদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন, সাড়ে তিন বছর আগে শ্রীপুর রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে একটি সভায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে যমুনা ট্রেনের যাত্রা বিরতির অনুমোদনের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট মোঃ রহমত আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ জলিলসহ অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি মন্ত্রী ও মহাপরিচালকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলেও শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন।

 

অভিযোগ উঠেছে, পতাকা দেখিয়ে ট্রেন থামানোর কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, রেলমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় তিনি এই মহতী কর্মকাণ্ডের অনুমোদন দিতে পারছেন না।

 

ট্রেনটির যাত্রা বিরতির দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রীপুর ট্যুরিজমের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জায়দুল কবির জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল, কোষাধ্যক্ষ আমান উল্লাহ সুজন, সাবেক সভাপতি খন্দকার মাসুদ রানা, শ্রীপুর ট্যুরিস্ট যুব উন্নয়ন সমিতির সভাপতি মোঃ জুবায়ের আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক হিজবুল বাহার, শ্রীপুর বাজার ব্যবসায়ী নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন রতন, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ, বণিক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মন্ডল।

 

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রী তপন বণিক জানান, এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরসহ আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শ্রীপুর স্টেশনে যমুনা ট্রেনের দু’মিনিটের যাত্রা বিরতির সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও অদ্যাবধি কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জানা যায়, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় সাড়ে তিন বছর যাবত্ ফাইলটি রেল মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। তপন বণিক বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

 

আন্দোলনকারীদের মতে, শ্রীপুর থেকে ঢাকা, জয়দেবপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন শত শত লোক তো যাচ্ছেই, তাছাড়া শ্রীপুরে সহস াধিক শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোতে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা, শ্রমজীবী কাজ করছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তারা প্রতিদিন শ্রীপুরে যাতায়াত করে থাকেন। তাই শ্রীপুরে একটি আন্তঃনগর ট্রেন স্টপেজের অনুমোদন দ্রুত প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
সুত্র:ইত্তেফাক, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।