২০৪৬ সালে দেশে থাকবে না মিটারগেজ রেলপথ (পর্ব-২)

২০৪৬ সালে দেশে থাকবে না মিটারগেজ রেলপথ

ইসমাইল আলী: দেশের সব মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরে ২০১৩ সালে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকে মিটার গেজ রেলপথ নির্মাণে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রেলপথ এখনও মিটার গেজ রয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ এ দুই রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হবে। ২০৪৫ সালের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আর ২০৪৬ সালে সব মিটার গেজ রেলপথ তুলে ফেলা হবে।

রেলওয়ের ৩০ বছরমেয়াদি (২০১৬-২০৪৫) মাস্টারপ্ল্যানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সব রেলপথকে এ সময়ের মধ্যে ডাবল লাইনে পরিণত করা হবে। এতে ট্রেন চলাচলে গতি অনেক বাড়বে। এছাড়া রেলের দ্রুত উন্নয়নে অতি গুরুত্বপূর্ণ ২০টি প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এশীয় উন্নয়নের ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় মাস্টারপ্ল্যানটি প্রণয়ন করছে সিপিসিএস ট্রান্সকম লিমিটেড ও ই.জেন কনসালটেন্টস লিমিটেড।

মিটার গেজ রেলপথ বন্ধে একটি টাইম ফ্রেম তুলে ধরা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে। এতে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে সব প্রধান রেলপথের অন্তত একটি লাইনকে মিটার গেজ থেকে ব্রড গেজ বা ডুয়েল গেজে রূপান্তর করতে হবে। পরের পাঁচ বছরের মধ্যে অন্য লাইনটিও ব্রড গেজ বা ডুয়েল গেজে রূপান্তর করতে হবে। ২০৪০ সালের মধ্যে অন্যান্য রেলপথকেও ডুয়েল বা ব্রড গেজে রূপান্তর করতে হবে। আর ২০৪৫ সালের মধ্যে সারা দেশে ব্রড গেজ ট্রেন চলাচল শুরু করতে হবে। পরের বছর থেকে সব মিটার গেজ লাইন তুলে ফেলা যাবে।

এদিকে মাস্টারপ্ল্যানের প্রথম দুই পর্বে মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজ রূপান্তরে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্বে (২০১৬-২০২০) আখাউড়া থেকে সিলেট, দ্বিতীয় পর্বে (২০২১-২০২৫) টঙ্গী-ভৈরববাজার ও লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর উল্লেখযোগ্য। আর তৃতীয় (২০২৬-২০৩০) ও চতুর্থ (২০৩১-২০৩৫) পর্বে সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। তবে যাত্রী চাহিদা বাড়ায় ২০২০ সালের মধ্যেই জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্রড গেজে রূপান্তরের কিছু সুবিধা তুলে ধরে মাস্টারপ্ল্যানে বলা হয়, বিদ্যমান সেবাকে ব্যাহত না করে ২০৩৫ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের সুপারিশও করা হয়। এদিকে ব্রড গেজ রেলপথ চালুর নতুন ইঞ্জিন-কোচ কিনতে হবে। আর ব্রড গেজ ইঞ্জিন-কোচের গতি বেশি হয়। এজন্য এগুলো ব্যবহারে বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর থেকে নতুন কোনো রেলপথ আর মিটার গেজ নির্মাণ করা হচ্ছে না। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে ডুয়েল গেজ রূপান্তরে এডিবির সহায়তায় সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ রেলপথটিকে ডুয়েল গেজ করা হবে। এরপর ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করতে হবে।

এদিকে ২০টি প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে। এগুলো অতি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ। এরপর রয়েছে যথাক্রমে ভাঙ্গা-বরিশাল-পায়রা বন্দর রেলপথ নির্মাণ, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর, একই রুটে ডাবল লাইন নির্মাণ, বগুড়া-বঙ্গবন্ধু রেল সেতু সংযোগ রেলপথ নির্মাণ, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল লাইন নির্মাণ, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর, পাহাড়তলী কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ আধুনিকায়ন, নারায়ণগঞ্জে নতুন লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ নির্মাণ, ডেমু মেরামতে পৃথক ওয়ার্কশপ নির্মাণ, ৯টি ডিজেল লোকোশেডকে ব্রড গেজে রূপান্তর ও পুনর্নির্মাণ, গাজীপুরের ধীরাশ্রমে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, যশোর-বেনাপোল রেলপথ সংস্কার, ৩০টি ব্রড গেজ ইঞ্জিন কেনা, ৩০০ ব্রড গেজ কভার্ডভ্যান কেনা, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেল ক্রসিংগুলোয় ওভারপাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন চলাচলে এক্সপ্রেস রেলপথ নির্মাণ, টঙ্গী-ভৈরববাজার রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর, চট্টগ্রামে ইন্টার-মোডাল টার্মিনাল নির্মাণ, বিদ্যমান ভৈরব ও তিস্তা রেল সেতু পুনর্নির্মাণ। এ প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর সংশ্লিষ্ট।


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।