শিরোনাম

সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই পুনর্নির্মাণে ৪৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই পুনর্নির্মাণে ৪৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

ইসমাইল আলী: বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগ) ছোট-বড় সেতু রয়েছে এক হাজার ৫২৫টি। এর বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী বর্ষণ বা পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলে এগুলোর কয়েকটি ধসেও পড়েছে। তাই সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৭০২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পটি প্রণয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। তাই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ফেরত দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে রেল ভবনে প্রকল্পটি মূল্যায়নে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আগে কারিগরি প্রকল্প গ্রহণ করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়। এর ভিত্তিতে প্রকল্পটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের রেলসেতুগুলো উচ্চগতি ও বেশি এক্সেল লোডের ট্রেন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান রেলসেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করে ২৫ টন এক্সেল লোডের ট্রেস চলাচলের উপযোগী করতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৭০২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা সরকারের তহবিল থেকে সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়।

যদিও এ প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, এটি একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প, যা গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে ডিপিপিতে কোনো সমীক্ষা প্রতিবেদন সংযোজন করা হয়নি। তবে একটি সার্ভে রিপোর্ট সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুগুলো সংস্কার বা আংশিক পুনর্নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ২৫ টন এক্সেল লোডের উপযোগী করতে হলে সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে জানানো হয়, আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিশদ ডিজাইন প্রণয়ন ও দরপত্র দলিলসহ সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করতে  হবে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিপি পুনর্গঠন করতে হবে। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রাথমিক ডিপিপি (পিডিপিপি) প্রণয়ন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠাতে হবে।

ডিপিপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পটির আওতায় এক হাজার ৩৩৩ মিটার বক্স কালভার্ট ও চার হাজার ৬৫ মিটার গ্রিডার সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুগুলোর অবস্থান রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট; রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা এবং খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনায়। এছাড়া ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীর কিছু সেতুও সংস্কার করতে হবে। চলতি বছর শুরু করে প্রকল্পটি ২০২১ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে ওই অঞ্চলে ৪৭টি গুরুত্বপূর্ণ, ১৭৮টি মেজর ও এক হাজার ৩১০টি মাইনর সেতু রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭৫টি সেতু গত কয়েক বছরে সংস্কার করা হয়েছে। বাকি ৬৫০টি সেতুর মধ্যে বেশকিছু পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের বেশকিছু সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২৫ টন এক্সেল লোড নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই এসব সেতু। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম গতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়। এছাড়া কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনায়ও এসব সেতু উপযুক্ত নয়। তাই সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক অর্থায়ন সংস্থানের জন্য সুপারিশও করা হয়েছে।

সুত্র:শেয়ার বিজ

 


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।