ভাঙ্গা থেকে পায়রা রেলপথ প্রকল্প: ২১২ কিমি. রেলপথে হবে আড়াইশ’ রেলসেতু

ভাঙ্গা থেকে পায়রা রেলপথ প্রকল্প: ২১২ কিমি. রেলপথে হবে আড়াইশ’ রেলসেতু

আকতার ফারুক শাহিন:

ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা ও বরিশাল নগরী হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ২১২ কিলোমিটার রেললাইনে প্রায় আড়াইশ’ রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পথে ১২টি প্রধান স্টেশন ছাড়াও কিছু সাব-স্টেশন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ১০০ মিটার প্রশস্ত এই রেলপথে প্রথম পর্যায়ে ব্রডগেজে সিঙ্গেল লাইন স্থাপন করা হবে। তবে আগামী দিনে ডাবল লাইনের রেলপথ স্থাপনের ব্যবস্থাও থাকবে। সেভাবেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে এই প্রকল্পে অর্থ প্রদানে আগ্রহ দেখিয়েছে এডিবি, জাইকা, বিশ্বব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি সংস্থা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের শুরুর দিকে রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

গত বছর জানুয়ারি থেকে ভাঙ্গা-পায়রা রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্ট লিমিটেড (ডিডিসি) কাজটি করছে। মে থেকে মাঠপর্যায়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে ডিডিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেফ গার্ড কনসালট্যান্সি (ডিএসসি)। কথা হয় প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সরোয়ার জাহান পার্থর সঙ্গে। তিনি জানান, ‘দেড় থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে মাঠপর্যায়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। আমরা এরই মধ্যে ভাঙ্গা-পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইনের ম্যাপ তৈরি এবং জায়গা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করেছি।

সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে বৈঠক, তাদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং প্রকল্প সম্পর্কে তাদের মনোভাবও জেনেছি। আশার কথা হচ্ছে, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রায় সবাই বৃহত্তর স্বার্থের কারণে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে প্রস্তুত। ২৮ আগস্ট বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙ্গা-বরিশাল রেলপথ সংক্রান্ত কয়েকশ’ মানুষের সভায় তেমনই মনোভাব প্রকাশ করেন সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তরা।

তারা কেবল জানতে চেয়েছেন জমি অধিগ্রহণে সঠিক মূল্য পরিশোধ করা হবে কি না। আমরা তাদের এসব বিষয় বুঝিয়ে দিয়েছি।’ সভায় উপস্থিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিএসসির কনসালট্যান্ট আহসান আলী জহির বলেন, ‘মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া থেকে বরিশাল জেলার সীমানা দপদপিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথের জরিপে প্রায় ৩ হাজার ১৫০টি অবকাঠামো পাওয়া গ্যাছে।

২১২ কিলোমিটার প্রকল্পে এরকম অবকাঠামোর সংখ্যা ৭ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে মসজিদ, মন্দিরসহ যেসব কমিউনিটি প্রোপার্টি রয়েছে, সেগুলো সরকারি খরচে স্থানান্তর ও পুনর্স্থাপন করে দেয়া হবে। এর বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন যেসব অবকাঠামো ও জমি রয়েছে, তা অধিগ্রহণ করা হবে যথাযথ মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে সহজেই অধিগ্রহণের জমির অর্থ মালিকরা পেয়ে যাবেন। বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে সরকার।’
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মাঠ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কনসালট্যান্ট আকতারুল ইসলাম খান বলেন, ‘২১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে এখন পর্যন্ত ১২টি স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্টেশনগুলো হবে- টেকেরহাট, মাদারীপুর, বরিশালের গৌরনদী, বরিশাল বিমানবন্দর, বরিশাল নগরীর কাশিপুর, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরগুনার আমতলী, পায়রা বন্দর, পায়রা বিমানবন্দর এবং কুয়াকাটা। এছাড়া আরও কয়েকটি সাব-স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে চূড়ান্ত নয়।’ ২ বছরের চুক্তিতে ৯ মাস আগে এই সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘২৫ মে থেকে আমরা মাঠে কাজ শুরু করেছি। এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এরপর আরও দুটি স্টাডি করা হবে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৩টি সংস্থা একসঙ্গে এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেয়ার পর আনুষঙ্গিক আরও কিছু কাজ শেষে বৃহত্তম এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। তবে পুরো প্রকল্পটি যেহেতু সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় রয়েছে, তাই এই কাজের গতিও হবে অনেক দ্রুত।’

এই পথে আড়াইশ’ রেলসেতুর মধ্যে ৮টি বড় সেতু। এগুলো আড়িয়াল খাঁ নদ, দোয়ারিকা ও শিকারপুরে থাকা সন্ধ্যা নদী, কীর্তনখোলা, পায়রা, লোহালিয়া, আন্ধারমানিক এবং হাজীগঞ্জ নদ-নদীর ওপর নির্মিত হবে। এছাড়া টেকেরহাট-মহিপুরসহ কয়েকটি নদীতে নির্মাণ হবে মাঝারি রেলসেতু। বাকি সেতুগুলো হবে ছোট আকৃতির।

সুত্র:যুগান্তর, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।