শিরোনাম

মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন সংস্কারের উদ্যোগ রেলওয়ের: ২১ ইঞ্জিন নবরূপদানে ব্যয় হবে ২৮৪ কোটি টাকা

মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন সংস্কারের উদ্যোগ রেলওয়ের: ২১ ইঞ্জিন নবরূপদানে ব্যয় হবে ২৮৪ কোটি টাকা

ইসমাইল আলী: দেশের অধিকাংশ ট্রেন চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনে (লোকোমোটিভ)। ২৮৭টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২২২টির ইকোনমিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ইঞ্জিনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। ফলে বেশ কিছু ইঞ্জিন নিয়মিতই অচল পড়ে থাকছে। এছাড়া চলার পথেও নিয়মিত বিকল হয় ইঞ্জিন। ফলে এগুলো দিয়ে দৈনিক ৩১৯টি ট্রেন পরিচালনায় জটিলতা পড়েছে রেলওয়ে। এজন্য মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে।

তথ্যমতে, রেলওয়ের বহরে ১৯৬১ সালের ইঞ্জিনও রয়েছে। যদিও এসব ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল ১৯৮১ সালেই শেষ হয়ে গেছে। তবে কখনোই এসব ইঞ্জিন বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। তাই প্রথমবারের মতো ২১টি মিটার গেজ ইঞ্জিন সংস্কার তথা নবরূপ দেওয়া হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এরই মধ্যে ‘২১টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের নবরূপদান’ শীর্ষক-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করেছে রেলওয়ে। শিগগিরই এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। এরপর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, রেলওয়ের বহরে থাকা লোকোমোটিভের বড় অংশেরই আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এগুলো মেরামতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। এরপরও বেশ কিছু ইঞ্জিন বিকল পড়ে আছে। এগুলো চালু করতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার। এজন্য ২১টি লোকোমোটিভ নবরূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার সম্পন্ন হলে লোকোমোটিভগুলো থেকে অন্তত ১০ বছর সেবা পাওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, রেলওয়ের ১৯৫৩ সালের ২১শ সিরিজের ১৫টি মিটার গেজ ইঞ্জিন কনডেম (ব্যবহার অযোগ্য) হিসেবে বিক্রি করা হয়। তবে ১৯৬১ সালে আমেরিকা থেকে ২২শ সিরিজের (এমইজি-৯) ৩৬টির মধ্যে ১১টি এখনো চালু রাখা হয়েছে। এগুলো আয়ুষ্কাল দাঁড়িয়েছে ৫৫ বছর। অর্থাৎ ৩৫ বছর আগেই আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে।

১৯৬৯ সালে কানাডা থেকে ২৩শ সিরিজের (এমইএম-১৪) আটটি, কানাডা থেকে ১৯৭৮ সালে ২৪শ সিরিজের (এমইএম-১৪) আরও নয়টি এবং ১৯৮১ সালে হাঙ্গেরি থেকে ৩৩শ সিরিজের (এমএইচজেড-৮) তিনটি ইঞ্জিনও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগে বিভিন্ন লোকাল ও মেইল ট্রেনে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এগুলো নিয়মিতই পথিমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে।

আমেরিকা থেকে আনা ১১টির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে ৩৪ বছর আগেই। কানাডা থেকে প্রথম ধাপে আনা আটটির আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে ৪৬ বছর হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ বছর আগেই। দ্বিতীয় ধাপে কানাডা থেকে আনা নয়টির আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়ে ৩৭ বছর হয়েছে। এগুলোরও মেয়াদ পেরিয়েছে ১৭ বছর আগে। হাঙ্গেরি থেকে আনা তিনটির আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়ে ৩৪ বছর হয়েছে। এ তিনটি ইঞ্জিনের মেয়াদ ফুরিয়েছে ১৪ বছর আগে।

কিছু ইঞ্জিন দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কিছু ইঞ্জিন শাটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ মেরামতের জন্য সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে যাওয়া কোচ টানার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। এতে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনায় গড়ে ৬৫-৭৫ শতাংশ ইঞ্জিন পাওয়া যায়।

জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২০১১ সালে নয়টি ও ২০১৩ সালে ১১টি কেনা মিটার গেজ ইঞ্জিন বেশ ভালো সেবা দিয়ে আসছে। এরপর আর কোনো মিটার গেজ ইঞ্জিন রেলওয়ের বহরে যুক্ত হয়নি। বায়ার্স ক্রেডিটে ৭০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন কেনার জন্য পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো সেগুলো কেনা যায়নি। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার ঋণে ২০টি ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়াও চলছে। তবে এগুলো কেনা সময়সাপেক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১টি ইঞ্জিন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) মো. শামসুজ্জামান বলেন, এডিবি ও কোরিয়ার ঋণে ২০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। বায়ার্স ক্রেডিটে আরও ৭০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন কেনা হবে। তবে এগুলো কেনা সময়সাপেক্ষ। এছাড়া মিটার গেজ ইঞ্জিন বিকলের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন কোচ কেনার পর ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। এতে ট্রেন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১টি ইঞ্জিন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো থেকে ভালো সেবা পাওয়া গেলে আগামীতে আরও ইঞ্জিন সংস্কার করা হবে।


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Be the first to comment on "মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন সংস্কারের উদ্যোগ রেলওয়ের: ২১ ইঞ্জিন নবরূপদানে ব্যয় হবে ২৮৪ কোটি টাকা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*