দ. কোরিয়ার ইঞ্জিন ও ইন্দোনেশিয়ার কোচে গতি পাবে রেল

দ. কোরিয়ার ইঞ্জিন ও ইন্দোনেশিয়ার কোচে গতি পাবে রেল

মফিজুল সাদিক :  চলতি বছরের ৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৫০টি যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩০টি ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কেনারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।বাংলাদেশ রেলওয়ে আশা করছে, ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি বগি আর কোরিয়ার তৈরি ইঞ্জিনে রেলপথে নতুন গতির সূচনা ঘটবে। রেলসেবার মান আরও আধুনিকায়ন,নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে-সূত্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩০টি রেলইঞ্জিন আনার জন্য বাবদ মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। প্রতিটা ইঞ্জিনের পেছনে ব্যয় হবে ৪৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি রিপোর্ট অনুযায়ী এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়েসূ্ত্র জানায়, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইউডিসিএফ কোম্পানি থেকে ৩০টি রেল ইঞ্জিন কেনা হবে। ২০১৭ থেকে জুন ২০২০ মেয়াদে ইঞ্জিনগুলো কেনা হবে।তবে ১ হাজার ১৪২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি)  ঋণ দেবে বলে আশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে কোনো উন্নয়ন সহযোগী যদি সফট লোন ও অনুদান দেয় তাহলে এটাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামসুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, এরই মধেই ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৫০টি বগি বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া আরও ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার একটি পরিকল্পনা আছে। এই উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা এখনও উন্নয়ন সহযোগী খুঁজে পাইনি।’
রেলমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,  ১০০টি মিটার গেজ ও ৫০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। ইন্দোনেশিয়ান কোম্পানি ইনকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে কোচগুলো কেনা হয়। আরও ১৫০টি যাত্রীবাহী মিটারগেজ রেল কোচ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  ১৫০টি কোচ কেনার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফলে প্রতিটা কোচের দাম পড়ছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। ইন্দোনেশিয়ান কোচ ও দক্ষিণ কোরিয়ান ইঞ্জিন রেলে নতুন গতি আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ১ হাজার ১৬৫টি মিটারগেজ (এমজি) কোচ রয়েছে। এসবের মধ্যে ৪৫৬টি কোচের বয়স ৩৫ বছরের বেশি। আর ১৩৫টির বয়স ৩১ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে।মেকানিক্যাল কোড অনুযায়ী যাত্রীবাহী কোচের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৩৫ বছর। অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়ার পথে আরো ১৩৫টি কোচ। ফলে ৫৯১টি কোচ বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে চলাচল করছে। এতে করে যাত্রী সাধারণের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অধিক পুরাতন কোচের স্থলেই যুক্ত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ান নতুন রেল কোচ।সুত্র:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Be the first to comment on "দ. কোরিয়ার ইঞ্জিন ও ইন্দোনেশিয়ার কোচে গতি পাবে রেল"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*