মাস্টারের অভাবে বন্ধ হলো সাতখামাইর রেলস্টেশন

মাস্টারের অভাবে বন্ধ হলো সাতখামাইর রেলস্টেশন

নিউজ ডেস্ক: প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরের সাতখামাইর রেলস্টেশনের সিগনাল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ হয়েছিল ২০১৬ সালে। অথচ এর দুই বছর না কাটতেই স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লোকবল সংকট, বিশেষ করে স্টেশন মাস্টার না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১২ সালে একই কারণ দেখিয়ে বন্ধ করা হয় উপজেলার ইজ্জতপুর রেলস্টেশনটিও।সাতখামাইর স্টেশনের অবস্থান শ্রীপুর থেকে চার কিলোমিটার দূরে। এক সময় এ স্টেশনে লোকাল ট্রেনগুলো নিয়মিত যাত্রাবিরতি করলেও ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা হয়। সর্বশেষ এখানে যাত্রাবিরতি করত দুটি ট্রেন।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, স্টেশনটি চালু রাখার জন্য কমপক্ষে তিনজন স্টেশন মাস্টারের প্রয়োজন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এখানে কর্মরত ছিলেন স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক দুজন স্টেশন মাস্টার। এদের মধ্যে চুক্তিভিক্তিক স্টেশন মাস্টারের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দায়িত্বভার পরে বাকি একজনের ওপর। কিন্তু একজনের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় স্টেশনটি বন্ধ করে তাকে গত ৭ জুলাই রাজেন্দ্রপুরে বদলি করে কর্তৃপক্ষ।

সাতখামাইর থেকে রাজেন্দ্রপুরে বদলি হওয়া স্টেশন মাস্টার ফরিদ মিয়া জানান, স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন এখানে বলাকা ও ভাওয়াল এক্সপ্রেস যাত্রাবিরতি করত। প্রতিদিন ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করতো গড়ে আড়াই থেকে তিন শতাধিক যাত্রী। টিকিটের বিক্রিও ভালো ছিল। তার পরও মূলত মাস্টারের অভাবেই স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাটি এখন জনশূন্য। অলস সময় কাটাচ্ছেন ক্রেতাহীন দোকানিরা। ব্যবসা অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন তাদের অনেকেই।এ সময় দেখা হলে স্টেশনের পয়েন্টম্যান আলাউদ্দিন জানান, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দেখাশোনার জন্য তিনি ছাড়া আরো দুজন সিগন্যাল ম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন। দামি যন্ত্রপাতি পাহারা দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করছেন তারা।

কথা হলে ভাওয়াল বদরে আলম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতকের এক শিক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এখন আমাদের ৩০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে শ্রীপুর গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়।’এদিকে এ স্টেশনকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শতাধিক ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাশেই রয়েছে সাতখামাইর বাজার। এ বাজারে ব্যবসার ক্ষেত্রেও স্টেশনটির ভালো প্রভাব ছিল। ফলে স্টেশনটি বন্ধ হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও।

সার্বিক বিষয়ে কথা হলে, রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘৬ জুলাই একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ১১ জন স্টেশন মাস্টারের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে মাস্টারের অভাবে স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে চুক্তিভিত্তিক মাস্টারদের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্টেশনের দামি যন্ত্রপাতি নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই স্টেশনটি আবার চালু করা যাবে।’

সুত্র:বণিক বার্তা, জুলাই ১৮, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।