বগুড়ায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ

বগুড়ায় ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্কঃ
বগুড়ার ওপর দিয়ে চলাচলকারী ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের বেহালদশা। যাত্রীসেবা বলতে কিছু নেই। বগুড়ার যাত্রীদের জন্য মাত্র ৪২টি আসন বরাদ্দ থাকায় ইচ্ছা থাকলে শত শত মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারছেন না। দেখার কেউ না থাকায় ট্রেন দুটি ১৫-২০ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। ৪-৫ দিন আগে টিকিট সংগ্রহের পর গন্তব্যে যেতে ট্রেনের জন্য যাত্রীদের বিভিন্ন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে টিকিট ফেলে দিয়ে বাস-কোচে যাচ্ছেন। এতে নিরাপদ যান খ্যাত ট্রেনের প্রতি মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী জনগণ ট্রেনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে আসন সংখ্যা বাড়ানো ও সঠিক সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের (রাজশাহী) চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) মিহির কান্ত গুহ জানান, যাত্রী বেশি হওয়ায় বগির স্প্রিং বসে যাওয়ায় ট্রেনগুলো ধীরে চলাচল করছে এবং স্টপেজ বেশি হওয়ায় যাত্রী-মাল উঠানামা করার কারণে সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। শিগগিরই পূর্বাঞ্চল থেকে ১৫-১৬ বগি (কোচ) আসবে তখন যাত্রী দুর্ভোগ কমবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোন ও বগুড়া স্টেশন সূত্র জানায়, সপ্তাহে ৬ দিন রংপুর থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাট থেকে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা যায়। রাত সাড়ে ৮টায় রংপুর এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং রাত ১১টায় বগুড়া স্টেশনে পৌঁছে। লালমনি এক্সপ্রেস সকাল ১০.২০ মিনিটে ছাড়ে আর বগুড়া স্টেশনে পৌঁছে বেলা দেড়টায়। বগুড়া থেকে ঢাকায় পৌঁছার সময় ৭ ঘণ্টা। তবে সঠিক সময়ে কোনো ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না।

বগুড়ার স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলাম জানান, লালমনি এক্সপ্রেস শুক্রবার এবং রংপুর এক্সপ্রেস রোববার চলাচল করে না। লালমনি এক্সপ্রেসে বগুড়ার জন্য ২২টি আসন। এর মধ্যে ২টি প্রথম শ্রেণী, ১০টি চেয়ার ও ১০টি সাধারণ আসন। প্রথম শ্রেণীর টিকিটের মূল্য ৫৮০ টাকা, চেয়ার ৩৯৫ টাকা ও সাধারণ ৩৩০ টাকা। লালমনি এক্সপ্রেসে প্রথম শ্রেণী নেই। ২০টি আসনের মধ্যে ১০টি চেয়ার ও ১০টি সাধারণ আসন। তিনি জানান, আসন খুব কম হওয়ায় ৪-৫ দিন আগেই টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ফলে শত শত যাত্রীর ইচ্ছা থাকলেও ট্রেনে ঢাকায় যেতে পারেন না। আসন বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ট্রেন বিলম্ব চলাচল প্রসঙ্গে তিনি জানান, কুয়াশার কারণে ধীরে চলাচল করায় সময় ঠিক থাকছে না।

যাত্রীরা জানান, ট্রেন যাত্রা নিরাপদ হলেও আসন কম হওয়ায় অধিকাংশ যাত্রী ঢাকায় যেতে পারেন না। অনেক সময় কালোবাজারে অধিক দামে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। বগুড়া থেকে যাওয়ার জন্য গাইবান্ধা বা অন্য জেলা থেকেও টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। তারপরও ট্রেনে যাত্রী সেবা নেই বললেই চলে। বগিগুলোর অবস্থা খুব শোচনীয়। বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। অনেক বগির দরজা-জানালা ঠিকমতো লাগে না। আসনের বাহিরে অনেক যাত্রী তোলা হয়। যারা দাঁড়িয়ে ও ঝুঁকি নিয়ে ছাদে চলাচল করেন। সম্প্রতিকালে ট্রেন চলাচলে সিডিউল ১৫-২০ ঘণ্টা বিপর্যয় হওয়ায় টিকিট কেটেও অনেকে যেতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে টিকিট ফেলে দিয়ে কোচে যাতায়াত করেন। তারা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সুত্র:যুগান্তর,২১ ডিসেম্বর, ২০১৭


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।