নোয়াখালী-ঢাকা রুটে রেলওয়ের যাত্রীসেবা বেহাল

নোয়াখালী-ঢাকা রুটে রেলওয়ের যাত্রীসেবা বেহাল

আকাশ মো. জসিম: তলানিতে ঠেকেছে নোয়াখালী-ঢাকা রুটে রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান। ট্রেনের যাত্রীসেবায় নির্দিষ্ট নিয়ম ও উদ্যোগ থাকলেও তা মানা হচ্ছে কাগজে কলমে। ফলে যাত্রীদের নিয়মিত ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিকল্পে প্রতিটি ট্রেনের কোচে খাবারের ক্যান্টিন ও পণ্য বহনসহ সমস্যা সমাধানে এটেন্ডেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ট্রেনের সামনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের পৌঁছে দেবেন টিকিটে উল্লেখ থাকা কোচের নির্ধারিত আসনে। মানসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্যও কোচপ্রতি দায়িত্ব পালন করবেন দুজন।

আর প্রতিটি বগির দু’পাশে থাকবে খাবারসহ মূল্য তালিকা। এমনকি ট্রেনের এ খাবার নিয়ে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা নোট করতে হাতে রেজিস্ট্রার বই নিয়েও প্রতি কোচ ঘুরে বেড়াবেন একজন। তবে নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ধরনের যাত্রীসেবার দেখা মেলেনি।

স্থানীয় সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন, জুয়েল রানা লিটনসহ যাত্রীদের এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে সরেজমিনে। তবুও এর সবকিছুই নিয়ম মতো চলছে বলে রেলের সঙ্গে বারবার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে কাজ হাতিয়ে নিচ্ছেন ঠিকাদাররা। ট্রেনে এ সেবা নিশ্চিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছে রেলওয়ে। রেলের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ কাজ ভাগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, রেলের নোয়াখালী-ঢাকা রুটে উপকূল আন্তঃনগর ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিসে নিয়োজিত রয়েছে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের নিকট খাবার বিক্রি করছে। তবে রেলের সঙ্গে চুক্তি শর্তে নয়, নিজেরা মুনাফা করতে যা করা প্রয়োজন তা করছেন ঠিকাদার। একই অবস্থা এটেন্ডেন্ট সরবরাহকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাটারিং সার্ভিসের ঠিকাদারি নেয়া প্রতিষ্ঠান যাত্রীদের জন্য সরবরাহ করবেন মানসম্মত খাবার। প্রতিটি কোচে থাকবে স্যান্ডউইচ, বার্গার, পাউরুটি, চিকেন কাটলেট, সবজি কাটলেট, মিনারেল পানিসহ মূল্য তালিকা। যাত্রীদের প্রদান করা হবে ক্যাশ ম্যামো। কিন্তু তার কিছুই নিয়মমতো মিলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, যাত্রীদের মালামাল বহনসহ নানা সমস্যা সমাধানে রেলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এটেন্ডেন্ট। জনবল সংকটের মধ্যেও এ সেবা নিশ্চিত করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দিয়েছে রেল। তাদের ট্রেনের সামনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের মালামাল বহনের পাশাপাশি টিকিটে উল্লেখিত কোচের নির্ধারিত আসনে পৌঁছে দেয়ার কথা। তবে চুক্তির এ তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

সরেজমিনে গত সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা যাওয়ার জন্যে স্টেশনে তিনটি ব্যাগ নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। পরে স্টেশনে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হন তার বগিটি সামনে। পরে ব্যাগগুলো নিয়ে বগির সামনে হাজির হলেও ট্রেনে প্রবেশ করতে বেশ বেগ পেতে হয় তাকে। ব্যাগগুলো একটি একটি করে সিটে রেখে আসেন তিনি। অথচ যাত্রীর এ কষ্ট দেখেও এগিয়ে আসেননি ওই বগির দায়িত্বে থাকা এটেন্ডেন্ট। শুধু তাই নয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাফ জানিয়ে দেন, এটি তাদের কাজ নয়। এমনকি, একই ট্রেনের মৌসুমী নামের এক নারী যাত্রী তার বাচ্চার নিরাপত্তার কথা জানিয়ে জানালার চারদিকে জীবাণুুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও তা রাখেননি এটেন্ডেন্ট।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু যাত্রীসেবা বেহাল নয়, স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিনা টিকিটের যাত্রীদের খাবারের বগিতে বসাতে। ট্রেনটিতে ক্যাটারিং সার্ভিস প্রদানের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বগিতে দুজন করে সার্ভিসম্যান থাকার কথা থাকলেও বেচা-বিক্রি কম থাকায় স্টাফও কম।’ চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকা অন্যান্য সেবাও কেন যাত্রীদের দেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে চুপ করে থাকেন তিনি। এমনকি যাত্রীদের অভিযোগ রেকর্ড করে রাখা রেজিস্ট্রি বইতেও এ পর্যন্ত একটি অভিযোগও নেই। যাত্রীদের সেবা প্রদানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ট্রেনে দায়িত্ব পালন করেন রেলের নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরাও। সূত্র জানায়, এ পদের যে পরিমাণ কর্মচারী থাকার কথা, তা নেই। ট্রেনের তুলনায় এ সংখ্যা পাঁচ ভাগের একভাগ বলে জানান রেলওয়ে নোয়াখালীর একজন স্টেশন ম্যানেজার। অভিযোগ উঠেছে, কমসংখ্যক এসব কর্মীও তাদের কাজ না করে নিয়মিত তুলছেন বেতন।

সূত্র:শেয়ার বিজ, জানুয়ারী ২, ২০২১ 


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।