শিরোনাম

জমজমাট ব্যবসাকেন্দ্রটি এখন নিষ্প্রাণ

জমজমাট ব্যবসাকেন্দ্রটি এখন নিষ্প্রাণ

নিউজ ডেস্ক:

জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরে ইজ্জতপুর রেলস্টেশন। দূরে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা এখনো গড়ে না ওঠায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। তাছাড়া স্টেশনটি ঘিরে জমজমাট ছিল ইজ্জতপুর বাজার, এখন ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। অনেকেই ধারাবাহিক লোকসান দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেললাইনের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ইজ্জতপুর। ব্রিটিশরা উনিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে এ রেলস্টেশন নির্মাণ করেন। স্টেশনটিকে কেন্দ্র করেই তখন গড়ে ওঠে ইজ্জতপুর বাজার। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে এ স্টেশনের সঙ্গে। কিন্তু ২০১৩ সালের ১১ মার্চ জনবল সংকটের অজুহাতে রেল বিভাগ এ স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই শুরু দুর্ভোগের। প্রতিদিন মাত্র ২ মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেয় ভাওয়াল এক্সপ্রেস। ঝুঁকি নিয়ে তাড়াহুড়ো করে উঠতে হয় যাত্রীদের। তাছাড়া টিকিটের ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই পরে হয়রানির শিকার হতে হয়।

ইজ্জতপুর বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, এ রেলস্টেশন ঘিরেই ইজ্জতপুর বাজার বসে। এখানে কয়েকশ দোকান আছে। কয়েক হাজার মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয় এ বাজারে। স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার পর সপ্তাহের একদিন হাটবার ছাড়া বাজার থাকে ক্রেতাশূন্য। স্টেশন একদিন চালু হবে সে আশায় কোনোরকম ব্যবসা ধরে রেখেছেন তার মতো কিছু ব্যবসায়ী।

এদিকে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কয়েক লাখ টাকার প্যানেল বোর্ড বা সিগন্যাল কেবিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্টেশনের স্থাপনাগুলোও অরক্ষিত। সন্ধ্যা হলেই অব্যবহূত কক্ষগুলোতে চলে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ।

কাগজপত্রে এ স্টেশনের মাস্টার আছেন এমদাদুল হক। তিনি জানান, ইজ্জতপুর স্টেশনে দীর্ঘদিন তিনি মাস্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বন্ধ হওয়ার আগে এখানে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন যাত্রাবিরতি দিত। দিনে অন্তত ২০০ মানুষ স্টেশনটি ব্যবহার করতেন। ২০১৩ সালে তাকে কাওরাইদ স্টেশনে বদলি করা হয়। এরপর থেকে স্টেশনটি বন্ধ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাকে আবার ইজ্জতপুরে বদলি করা হয়। তবে অন্যান্য জনবল না পাওয়ায় স্টেশনটি আর চালু হয়নি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখন বিভিন্ন স্টেশনে কাজ করছেন তিনি। অবসরেরও সময় হয়ে গেছে।

স্টেশনটি চালুর দাবিতে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আন্দোলন করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়ক যোগাযোগ এখনো তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। আমাদের এলাকার প্রায় ১০ হাজার লোকের যোগাযোগের অন্যতম ব্যবস্থা ছিল রেল। তা বন্ধ থাকায় অসুবিধায় পড়েছেন স্থানীয়রা। নানা ধরনের কাজে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে অর্থ ও সময় অপচয় হয়। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের দুর্ভোগ চরমে। রেলস্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নিতে রেল বিভাগে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সারা দেশেই জনবল সংকটের কারণে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলেই ইজ্জতপুর স্টেশন চালু করা যেতে পারে।

সুত্র:বণিক বার্তা, মার্চ ০২, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।