বিনিয়োগের আগে সবদিক বিবেচনা করুন

বিনিয়োগের আগে সবদিক বিবেচনা করুন

বিপুল অর্থ ব্যয় করে চীন থেকে ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট বা ডেমু ট্রেন আমদানি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ডেমু ট্রেন ব্যবহার করে যানজট নিরসন। কিন্তু মাত্র সাড়ে চার বছরেই আমদানিকৃত এসব ডেমুর অর্ধেকই অচল হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে পুরোপুরি অকেজো ছয় সেট। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, সবদিক বিবেচনা করে কি ডেমু ট্রেন আমদানি করা হয়েছিল?

আমদানির আগে যে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখা উচিত ছিল তা হলো, এ ট্রেনগুলো বিকল হয়ে পড়লে মেরামতের জন্য আধুনিক ওয়ার্কশপ ও দক্ষতা আমাদের রয়েছে কিনা। ডেমুর উভয় পাশেই ইঞ্জিন থাকায় আধুনিক ওয়ার্কশপ ব্যতীত এর মেরামত করা কঠিন। আবার দুদিকে ইঞ্জিন থাকায় একটি ইঞ্জিন বিকল হলেই পুরো সেটটি অকেজো হয়ে যায়। আর মেরামত না করতে পারলে এগুলো পড়ে থাকবে এবং হয়েছেও তা-ই। বাংলাদেশ রেলওয়েতে আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকায় কয়েক সেট ডেমু মেরামতহীনভাবে পড়ে আছে ওয়ার্কশপে। এছাড়া সচল ট্রেনগুলো নিয়মিতই যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে। আর পড়াটাই স্বাভাবিক। ঠিকমতো পরিচর্যা না করতে পারলে যেকোনো যন্ত্রাংশই বিগড়ে যায়। প্রযুক্তিগত জটিলতায় আমদানির পর থেকে শিডিউল মেরামত করা হয়নি কোনো ডেমু সেটই।

এসব কারণে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন রুটের ডেমুগুলোর ত্রুটি ছাড়াও পথিমধ্যে বিকল হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থায় ডেমু ট্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত খোদ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। বিশেষায়িত ওয়ার্কশপের বিষয়টি আমদানির আগেই যাচাই করা আবশ্যক ছিল। রেলওয়ে থেকে বলা হচ্ছে, ডেমু মেরামতে স্পেয়ার পার্টস সংকটই সবচেয়ে তীব্র এবং পার্টস সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব পার্টস সংগ্রহ হলে দেশের প্রকৌশলীরাই নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্রেনগুলো মেরামত করতে সক্ষম হবেন। এখন প্রশ্ন হলো, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কতদিনে? এরই মধ্যে অনেক ডেমু ট্রেন মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাকি ট্রেনগুলোও যদি একই ভাগ্য বরণ করে, তাহলে এর পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তা শুধু জলেই যাবে। বাংলাদেশের জন্য উপযোগী না হলেও ডেমু ট্রেন চালুর ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। ডেমু সার্ভিস চালুর শুরুতে যাত্রীদের তেমন আগ্রহ ছিল না। ট্রেনের জানালা উপরে এবং এসি না থাকায় গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম অনুভব করে যাত্রীরা। পরবর্তীতে রেলওয়ে প্রকৌশলীরা নিজেরাই কাঠামোগত বেশকিছু উন্নয়ন করেন। এ থেকে এটি ভাবা স্বাভাবিক নয় কি, ডেমু ট্রেন চালু করলে কী ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তা নিরূপণে সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন? ডেমু ট্রেন যেখানে শীতপ্রধান দেশে ও স্বল্পদূরত্বে যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হালকা যান হিসেবে বিদেশে জনপ্রিয়, সেখানে তা আমাদের পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে কেন আমদানি করা হলো? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে সরকারের জবাবদিহি চাওয়া উচিত। ডেমু ট্রেন পরিস্থিতি থেকে এ শিক্ষা নেয়া উচিত, বিদেশে কী জনপ্রিয় সেটি নয়, বরং আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোনটি সঠিক, তা বিবেচনায় নিতে হবে। এভাবে সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে শুধু অর্থের অপচয় ও জনদুর্ভোগ বেড়েই চলবে।

সুত্র:বনিক বার্তা,ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।