রেলপথে ঈদযাত্রা : কোচ-ইঞ্জিন নিয়ে এবারো শঙ্কায় রেলওয়ে

রেলপথে ঈদযাত্রা : কোচ-ইঞ্জিন নিয়ে এবারো শঙ্কায় রেলওয়ে

সুজিত সাহা:
প্রতি বছরই ঈদের সময় অতিরিক্ত সার্ভিস চালুর পাশাপাশি ট্রেনে বাড়তি কোচ সংযোজন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি করতে গিয়ে কোচ ও ইঞ্জিন সংকটে পড়ে সংস্থাটি। কোচ ও ইঞ্জিনের পাশাপাশি এবার পাওয়ার কার নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে রেলওয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বহরে থাকা কোচগুলো দিয়ে অধিকসংখ্যক সার্ভিস পরিচালনার সুযোগ থাকলেও ইঞ্জিনের অভাবে তা ব্যর্থ হচ্ছে। ঈদে যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে টানা এক সপ্তাহ বিশ্রাম পায় না রেলের ইঞ্জিনগুলো। এতে অনেক সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাত্রা বিলম্বিত হয় এবং শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

কোচ ও ইঞ্জিনের পাশাপাশি এ বছর পাওয়ার কার নিয়েও শঙ্কায় আছেন রেলের পরিবহন বিভাগ-সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গরমের কারণে এবার ট্রেনে বৈদ্যুতিক পাখা ও এসির ব্যবহার বেড়ে যাবে। এছাড়া ট্রেনগুলোয় স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের চেয়েও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ফলেও বাড়তি চাপ পড়ছে পাওয়ার কারের ওপর। ফলে যাত্রাপথে যেকোনো সময় পাওয়ার কার বিকল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

জানা গেছে, পাওয়ার কারের সমস্যা সমাধানে এরই মধ্যে রেলের উভয় অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ও বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারদের রেলভবন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৯ মে পাঠানো ওই নির্দেশনায় এয়ারকন্ডিশনড কোচগুলোর এসি সচল রাখা এবং পথিমধ্যে পাওয়ার কার বিকল হওয়া থেকে রক্ষা করতে ঈদের আগেই বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তার পরও কোনো পাওয়ার কার নষ্ট হয়ে গেলে পথিমধ্যে প্রতিস্থাপনের সুযোগ রাখতে বিভিন্ন সেকশনে স্পেয়ার পাওয়ার কার রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রতি বছর রোজা এলেই রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঘটা করে বাড়তি কোচ সংযোজনের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে কয়েক বছর ধরে বাড়তি কোচ সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় এবার ঘোষণা দেয়া হয়নি। যদিও এবার পূর্বাঞ্চলে বিদ্যমান ট্রেনগুলোয় প্রায় ৮০টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৩০টি কোচ সংযোজন করবে রেলওয়ে। এক্ষেত্রে ঈদের আগে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ট্রেন সার্ভিস বন্ধ রেখে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস হিসেবে চালানো হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ৯ মে ঈদ-পূর্ব ও পরবর্তী স্বাভাবিক এবং বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনায় একটি বৈঠক করে। বৈঠকে স্বাভাবিক ট্রেন সার্ভিসের পাশাপাশি সারা দেশে আট জোড়া বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের প্রস্তাব করা হয়। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে এসব সার্ভিস নির্বিঘ্নে চালানো যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন রেলের কর্মকর্তারা।

রেলের পাওয়ার সেকশনের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চল রেলের ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে প্রতিদিন ১১১টির চাহিদা থাকলেও নিয়মিত পাওয়া যায় ১০০ থেকে ১০৩টি। প্রতিদিন প্রায় ১০টি ইঞ্জিন ঘাটতি রেখে ট্রেন পরিবহন ব্যবস্থাপনার শিডিউল ঠিক করতে হয় রেলওয়েকে। বহরে থাকা ১৫০টির মধ্যে মাত্র ৪৭টি ইঞ্জিন অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের মধ্যে আছে (২০ বছর)। এছাড়া ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩৪টি এবং ৩০ বছরের অধিক বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ৬৯টি। অর্থাৎ পূর্বাঞ্চল রেলের মোট ইঞ্জিনের ১০৩টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এতে করে যাত্রীবাহী ট্রেনের শিডিউল কোনো রকমে ঠিক রাখা হলেও রেলের জন্য লাভজনক মালবাহী ট্রেনগুলো বসিয়ে রাখা হয়। পশ্চিমাঞ্চলে ১২৪টি ইঞ্জিন থাকলেও নিয়মিত সর্বোচ্চ ১০০টি পাওয়া যায়। পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ থাকায় বিভিন্ন সময় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারাসহ পথিমধ্যে ইঞ্জিন বিকল হয়। এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ওমর ফারুকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা এমএম শাহনেওয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, ঈদে কোচ ও ইঞ্জিনের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এবারো যাত্রীদের সুবিধার্থে ৩০টি কোচ সংযোজন করা হবে। তবে ঈদে যাত্রী চাহিদা বাড়লেও রেলের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুত্র:বণিক বার্তা, মে ১৫, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।