তৃতীয়বারের মতো বাড়ল প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়

খুলনায় আধুনিক রেলস্টেশন

খুলনায় আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পকাজের মেয়াদ তৃতীয়বারের মতো আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় দফায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ হবে।

এদিকে কাজ শেষ হওয়ার আগেই নির্মিতব্য স্টেশনের নতুন প্লাটফর্মের ছাদে ফাটল, পরবর্তীতে কাজ বন্ধসহ মূল ভবনের কাজের মান নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের এপ্রিলে শুরু হয়েছিল ‘রি-মডেলিং অব খুলনা স্টেশন অ্যান্ড ইয়ার্ড’ প্রকল্পের কাজ (খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন)। ২০১৬ সালের অক্টোবরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ৫৬ কোটি টাকা থেকে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে নির্মাণাধীন দুই নম্বর প্লাটফর্মের ঢালাই করা ৭০০ ফুট ছাদের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এ কারণে দুই নম্বর প্লাটফর্মের ৫০০ ও তিন নম্বর প্লাটফর্মের ৪০০ ফুট ছাদ ঢালাইয়ের কাজ তিন মাস বন্ধ থাকে।

জাতীয় রেলপথ সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের উন্নয়নকাজ চলছে। কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অথচ খুলনার আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণের সময় ছাদ ফেটে যাওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। শুধু তাই নয়, এটি উদ্বেগজনকও বটে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী মোসাব্বির হক বিপ্লব বলেন, ‘গত এপ্রিলে নির্মাণাধীন প্লাটফর্মের ছাদে ফাটল দেখা দেয়। এরপর বুয়েটের অধ্যাপক ড. শফিউর বারী গত ১ জুন স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। তিনি ফাটলের বিষয়ে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবেই এর সমাধান করা হয়েছে। তবে প্রকল্প এলাকার বস্তি উচ্ছেদে জটিলতা, দোকানপাট সরানো এবং অতিবৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ার জন্য পরবর্তীতে সব কাজেই দেরি হয়েছে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে খুলনার উপসহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, মূল ভবনের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর প্লাটফর্মসহ টিকিট কাউন্টার, গাড়ি পার্কিং নির্মাণকাজ এখনো কিছু বাকি আছে। এছাড়া অন্য সব কাজ এখন একই সঙ্গে চলছে। তাই নতুন বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, ‘পানির ওভার হেড ট্যাংকসহ নতুন কিছু কাজ সংযোজন হওয়ায় বাজেট বৃদ্ধি হয়েছে, তবে নতুন করে আর কোনো অর্থ বাড়ানো হবে না।’ রেলওয়ে সূত্র জানায়, আধুনিক রেলস্টেশনটি নির্মিত হচ্ছে উন্নত বিশ্বের আদলে। তিন তলাবিশিষ্ট স্টেশনের প্রথম তলায় থাকবে ছয়টি টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় থাকবে স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, তফসিলি ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ওয়েটিং রুম, ফাস্টফুড ও রেলের কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় থাকবে রেলওয়ের প্রকৌশলীদের অফিস কক্ষ। এছাড়া থাকবে প্রায় ৫০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাসহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বাউন্ডারি দেয়াল, স্যানিটারি ও প্লাম্বিং ওয়ার্কস, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, পিএবিএ চ্যানেল, সিসি কামেরা ও ফুলের বাগান। থাকবে তিনটি প্লাটফর্ম, যাতে একসঙ্গে ছয়টি ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ ও বের হতে পারে এবং ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। নকশা অনুযায়ী খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশেই হবে স্টেশনের প্রধান গেট। আর স্টেশন ভবনের আকার হবে দৈর্ঘ্য ৪৮ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার এবং প্রতিটি প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০০ ফুট ও প্রস্থ ৩০ ফুট।

সুত্র:বণিক বার্তা,অক্টোবর ২১, ২০১৭


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।