চীনের ঋণ অনিশ্চিত পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে

চীনের ঋণ অনিশ্চিত পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে

ইসমাইল আলী: পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ স্থাপনে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এজন্য ২০১৬ সালের আগস্টে চায়না রেলওয়ে গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি সই করা হয়। জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর পর প্রায় দেড় বছর পেরোলেও এখনও ঋণের নিশ্চয়তা মেলেনি। এজন্য চলতি অর্থবছর ছয় হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ বাতিল করতে হচ্ছে।

সূত্রমতে, চলতি অর্থবছর প্রকল্পটিতে বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৬০৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। তবে চীনের ঋণ না পাওয়ায় তা কমিয়ে ৯৯৩ কোটি আট লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির বরাদ্দ ৮৭ শতাংশ কমানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। এতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঋণচুক্তি ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বিবেচনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সাত হাজার ৬০৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে ঠিকাদারকে ২০ শতাংশ অগ্রিম প্রদান ছাড়াও মালামাল সরবরাহ ও নির্মাণ কাজের ব্যয় এবং সিডি-ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ডিজাইন রিভিউ ও নির্মাণ তত্ত্বাবধানের জন্য পরামর্শক খাতেও বরাদ্দ ছিল।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) সঙ্গে ২৭ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার বাণিজ্যিক চুক্তি সই হয় ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট। এর পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে সে বছর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফা ও ২০১৭ সালের ১৯ আগস্ট সংশোধিত ঋণ প্রস্তাব চীনা দূতাবাসে পাঠানো হয়। ঋণচুক্তি স্বাক্ষর ত্বরান্বিত করার জন্য কয়েক দফা চিঠি ও আধা-সরকারিপত্র (ডিও) দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রতিনিধিদল চীন সফরও করেছে। উচ্চ পর্যায়ের আরেকটি দল চীন সফরে যাবে শিগগিরই। যদিও এখনও প্রকল্পের ঋণ মঞ্জুরি ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে চীন সরকারের কোনো কনফারমেশন পাওয়া যায়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের পর ওই লোন কার্যকর হয়ে চীনা এক্সিম ব্যাংকের অর্থ ছাড় হওয়াটাও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের এক বছরের বেশি সময় পর চীনা এক্সিম ব্যাংক অর্থ ছাড় করে। আর বেইজিংস্থ বাংলাদেশ ইকোনমিক কাউন্সিলরের পাঠানো ই-মেইল থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আরও অনেক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে এবং ঋণচুক্তি সই কতটা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় ইআরডি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডি থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আলোচ্য প্রকল্পে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের পর তা কার্যকর ও চলতি অর্থবছর ছাড় হওয়ার সম্ভব নয়। ফলে প্রস্তাবিত এডিপি বরাদ্দ ব্যয় করা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে নির্মাণ শুরু না হওয়ায় ডিজাইন রিভিউ ও সুপারভিশনের জন্য অর্থ ব্যয় করা প্রয়োজন হবে না। আর নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জনবল নিয়োগের সম্ভাবনাও নেই। ফলে এ দুই খাতে অর্থ ব্যয় হবে না। ফলে রেলওয়ের সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন ৪৫ শতাংশ কম হবে ও জাতীয় অগ্রগতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

এ অবস্থায়, ইআরডির পরামর্শক মোতাবেক পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের অনুকূলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমিয়ে ৯৯৩ কোটি আট লাখ টাকা নির্ধারণের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।

জানতে চাইলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন এ. চৌধুরী বলেন, ঋণচুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্পটির জন্য ছয় হাজার ৫৮৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। তবে কবে নাগাদ চুক্তি সই হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে চীনের ঋণ চলতি অর্থবছর ছাড় হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, চীনের ঋণ না পাওয়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি দেখা দেয়। সে অর্থবছর সংশোধিত এডিপিতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয় চার হাজার ৮১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ৭৪২ কোটি ১৩ লাখ ছিল বৈদেশিক সহায়তা, যার পুরোটাই ব্যয় হয়নি। এদিকে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা ছিল চার হাজার ৯৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয় দুই হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

সুত্র:শেয়ার বিজ,জানুয়ারি ১৫, ২০১৮

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।