২৭ মার্চ উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী

২৭ মার্চ উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী

কথা ছিল ঢাকা থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর। তবে শেষমেশ ট্রেনটির পরিধি জলপাইগুড়িতেই সীমিত থাকছে। ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটি যৌথভাবে চালুর ঘোষণা দেবেন।
তবে ট্রেনটি এখনই চালু হচ্ছে না। করোনা মহামারীর কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন ট্রেনটি যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। গতকাল রেল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী বলেন, মিতালী এক্সপ্রেস সপ্তাহে দুইদিন চলাচল করবে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ট্রেনটি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। অন্যদিকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে প্রতি রবি ও বুধবার ঢাকার উদ্দেশে আসবে মিতালী এক্সপ্রেস।

ঢাকা থেকে মিতালী এক্সপ্রেসের এসি বার্থে করে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যেতে একজন যাত্রীর খরচ হবে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪ হাজার ৯০৫ টাকা। একইভাবে এসি সিটের ভাড়া ঠিক করা হয়েছে ৩ হাজার ৮০৫ টাকা। আর এসি চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০৫ টাকা। অন্যদিকে চিলাহাটী থেকে জলপাইগুড়ির যাত্রীদের জন্য শুধু এসি চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখান থেকে ভাড়া ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩৫ টাকা। সব ধরনের ভাড়ার সঙ্গে রেলওয়ের প্রাপ্য ভাড়ার পাশাপাশি ভ্যাট ও ট্রাভেল ট্যাক্সও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিলিগুড়ি থেকে ঢাকায় আসার সময় মিতালী এক্সপ্রেসে ১৪৪টি এসি সিট ও ৩১২টি এসি চেয়ার থাকবে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার সময় ট্রেনটিতে ৯৬টি বার্থ ও ৩১২টি এসি চেয়ার থাকবে। ট্রেনটি জলপাইগুড়ি থেকে ছাড়বে দুপর ১২টা ১০ মিনিটে। আর ঢাকায় এসে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। একইভাবে ঢাকা থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে জলপাইগুড়িতে পৌঁছাবে।

ইমিগ্রেশনের জন্য ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের পাশাপাশি চিলাহাটী স্টেশনকেও বেছে নেয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যারা সরাসরি শিলিগুড়ি যাবেন, তাদের ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ ঢাকাতেই করা হবে। তবে উত্তরাঞ্চলের অনেক মানুষ যেন সহজেই ট্রেনটি ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য চিলাহাটী স্টেশনেও ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা রাখা হবে। ঢাকা থেকে চিলাহাটী হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ১০টি কোচের একটি র্যাক নিয়মিত চলাচল করবে। এই ১০টি কোচের যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায় হবে। অন্যদিকে যারা চিলাহাটী থেকে ট্রেনে উঠবেন, তাদের জন্য চাহিদা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কোচ সেখানেই জুড়ে দেয়া হবে। শিলিগুড়ি থেকে আসার সময় অতিরিক্ত জুড়ে দেয়া কোচগুলো আবার চিলাহাটী স্টেশনে রেখে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় কোচ দিয়ে ট্রেনটি পরিচালনা করা হবে। তবে বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিন ও ভারতের অংশে ভারতীয় রেলওয়ের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে।

সবমিলে ট্রেনটি ৫৯৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে চিলাহাটী স্টেশন পর্যন্ত ৫৩৪ কিলোমিটার এবং চিলাহাটী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পর্যন্ত পাড়ি দিতে হবে আরো ৬১ কিলোমিটার রেলপথ।

সূত্র:বণিক বার্তা, মার্চ ২৩, ২০২১

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।