রেলের চার প্রকল্পে আংশিক ঋণ বাতিল এডিবির

রেলের চার প্রকল্পে আংশিক ঋণ বাতিল এডিবির

ইসমাইল আলী: ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালে তিনটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর একটি ছিল টঙ্গী থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম: প্রথম কিস্তি’ শীর্ষক প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়নি। আর নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির আংশিক ঋণ বাতিল করেছে দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
একই অবস্থা সংস্থাটির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের পরের তিন কিস্তিতেও। সময়মতো ব্যবহার না হওয়ায় চারটি প্রকল্পে ৬ কোটি ডলার বা ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ বাতিল করেছে এডিবি। সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি কাজুহিকো হিগুচির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠায় এডিবি।
চিঠির অনুলিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম প্রকল্পের পরিচালককেও দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ৩৩৭৬, ৩০৯৭, ২৩১৭ ও ২৩১৬ নং ঋণ বাতিল করা হল। চিঠির সঙ্গে প্রকল্পগুলোর ঋণের বিস্তারিত বিবরণও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেস্ট প্রোগ্রামের প্রথম কিস্তিতে ১০ কোটি ডলার ঋণ
দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ১০ বছরে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ ডলার ছাড় করা হয়। বাকি ৬৯ হাজার ১৭১ ডলার বাতিল করা হয়।
একই প্রকল্পের সাব প্রজেক্ট হিসেবে রেলওয়ে সংস্কার প্রকল্পে দুই কোটি ৭৮ লাখ ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রকল্পটির বড় অংশই বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার ঋণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে ঋণের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। তবে রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির আওতায় ঋণ বাতিলের পরিমাণ অনেক বেশি।
তৃতীয় কিস্তির আওতায় ১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল এডিবির। এর মধ্যে বাতিল করা হয়েছে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৫১ হাজার ৭২৯ ডলার। চতুর্থ কিস্তির আওতায় এডিবির আরও ১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বাতিল করা হয় দুই কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ ডলার ঋণ। সব মিলে ছয় কোটি ডলার ঋণ বাতিল করে এডিবি।

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, এডিবির চিঠির বিষয়টি জানা নেই। আসলে কী কারণে ও কোন কোন প্রকল্পে ঋণ বাতিল করা হয়েছে, বিস্তারিত না জেনে কিছু বলা যাবে না।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেছে। এজন্য চূড়ান্ত হিসাবের ভিত্তিতে অবশিষ্ট ঋণ বাতিল করেছে সংস্থাটি। এতে সরকারকে ঋণ পরিশোধও কম করতে হবে।
যদিও এ তথ্য সঠিক নয় বলে মনে করছেন ইআরডি সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মূলত রেলওয়ে ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের চার কিস্তির ঋণ বাতিল করা হয়। এতে টঙ্গী-ভৈরব বাজার রেলপথ নির্মাণে কিছু অর্থ ঘাটতি হয়। পরে চতুর্থ কিস্তি (বাড়তি অর্থায়ন) অংশের মাধ্যমে বাকি অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। আর রেলওয়ে সংস্কার প্রকল্পের ধীরগতির জন্য কয়েক দফা চিঠি দিয়েছিল এডিবি। তবে এ প্রকল্পে গতি আনতে পারেনি রেলওয়ে।
এদিকে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম ঋণচুক্তির সময় ২০০৭ সালে কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল এডিবি। প্রতি কিস্তি ছাড়ের আগে পৃথক শর্ত পূরণের কথা ছিল। তা না হলে ঋণ ছাড় করা হবে না। এর মধ্যে কিছু অংশ বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য প্রতিটি কিস্তির কিছু অংশ বাতিল হয়ে গেছে।
এডিবির চিঠিতে প্রকল্প চারটি ঋণ পরিশোধের একটি টাইম ফ্রেমও তুলে ধরা হয়েছে। রেলওয়ে সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম প্রথম কিস্তি পরিশোধ শেষ হবে ২০৩১ সালের নভেম্বরে। এ প্রকল্পের সাব প্রজেক্টের ঋণ পরিশোধ হবে ২০৩৮ সালের নভেম্বরে। তৃতীয় কিস্তির ঋণও পরিশোধ হবে ২০৩৮ সালের নভেম্বরে। আর চতুর্থ কিস্তি পরিশোধ হবে ২০৪১ সালের মার্চে।

 

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।