৫টি রেলস্টেশন তালাবদ্ধ সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

৫টি রেলস্টেশন তালাবদ্ধ সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

শংকর পাল চৌধুরী:
আখাউড়া-সলেট রেল সেকশনের মাধবপুর উপজেলার ৫টি রেলস্টেশনের এখন করুণ দশা। রেলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি লোপাট হয়ে যাচ্ছে। তালাবদ্ধ রেলস্টেশনগুলো চালু করার কোন উদ্যোগ নেই। এর মধ্যে ইটাখোলা, তেলিয়াপাড়া, কাশিমনগরে তিনটি রেলস্টেশনে কিছু লোকাল ট্রেন যাত্রা বিরতি করলেও স্টেশন মাস্টার না থাকায় প্রচুর যাত্রী বাধ্য হয়ে বিনাটিকেটেই ট্রেন ভ্রমণ করছেন। স্টেশন ৫টি সংস্কার করে চালু করলে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তিসহ এলাকাবাসী ট্রেন চলাচলে সুবিধা হতো। এছাড়া স্টেশনগুলো বন্ধ ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় এখানে নানা অসামাজিক ও অপরাধীদের নিরাপদ আস্থানায় পরিণত হয়েছে। কাশিমনগর রেলস্টেশনের টিকেট মাস্টার নুরুল ইসলাম প্রায় ১০ বছর আগে মারা যাবার পর এ স্টেশনে কোন নতুন লোকবল পদায়ন করা হয়নি। যে কারণে রেলস্টেশনের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

স্টেশনের দোকানদার সুধির চন্দ্র দাস জানান, এখন পার্শ্ববর্তী ১৫-২০টি গ্রাম থেকে আখাউড়া-সিলেট রোডে প্রায় প্রতিদিন ২টি লোকাল ট্রেনে ২-৩শ’ যাত্রী সাধারণ ওঠানামা করে। কিন্তু এ স্টেশনে তালাবদ্ধ থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বিনাটিকেটেই ভ্রমণ করছেন। একই অবস্থা তেলিয়াপাড়া ও শাহপুর ইটাখোলা রেলস্টেশনের। ব্রিটিশ আমল থেকে তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন এক সময় খুবই জমজমাট ছিল। এ স্টেশনটি বাগান অধ্যুষিত হওয়ায় নিম্ন বিত্ত চা বাগানের শ্রমিকরা কম খরচে নিরাপদ ও আরাম দায়ক ভ্রমণ হিসাবে রেল পথকে বেচে নেয়। সুরমা, তেলিয়াপাড়া চা বাগান থেকে নিরাপদ ও খরচ কম হওয়ায় উৎপাদিত চাপাতা সহজেই চট্টগ্রাম ওয়েজ হাউসে পাঠানো হতো। কিন্তু রেলস্টেশনটি ক্রমে ক্রমে এখন বন্ধ হয়ে পড়েছে।

প্রায় ৯ বছর আগে টিকেট মাস্টার আবদুল হাই মারা যাবার পর এখানে নতুন করে কোন জনবল দেয়া হয়নি। এ রেলস্টেশনে অনেক সরকারী সম্পদ ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রয়াত এনামুল হক মোস্তফা শহিদ তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তিনি মারা যাবার কারণে তা আর হয়নি। এছাড়া ইটাখোলা স্টেশন একটি সুপ্রসিদ্ধ স্টেশন ছিল। এ রেলস্টেশন থেকে অনেক পণ্য ও মানুষ রেলপথে আসা যাওয়া করত। কিন্তু এ ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনে এখন দু’একটি লোকাল ট্রেন যাত্রা বিরতি করলেও প্রায় ১ যুগের বেশি সময় ধরে এটি বন্ধ রয়েছে। অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি এখান থেকে খোয়া গেছে। ছাতিয়াইন রেলস্টেশন প্রায় ২ যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অনেক স্থানে গেট ও গেটম্যান না থাকায় সাধারণ যানবাহন রেলের উপর দিয়ে পাড় হচ্ছে। এতে করে অনেক স্থানেই ঘটছে রেল দুর্ঘটনা।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ আলমগীর জানান, মাধবপুরে দেশের প্রায় ১ শ’টির বেশি নামী-দামী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ কারণে এখন রেলপথে মানুষের পণ্য, চালানসহ যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সড়ক পথে বেশি দুর্ঘটনা হওয়ায় রেল পথকে মানুষ বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ মনে করে। এ কারণে বন্ধ ৫টি রেলস্টেশন সংস্কার করে চালু করলে এলাকার মানুষের সুবিধার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী চালান দেয়া সহজ হবে। এতে সরকারেরও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বলেন, মাধবপুরের ৫টি রেলস্টেশনগুলোর সংস্কার ও লোকবল নিয়োগ খুবই প্রয়োজন।

৫টি রেলস্টেশন চালু হলে রেল পথে মানুষের ভ্রমণ সহজ হবে। এ বিষয়ে সংসদে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করি সরকার যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে মাধবপুরে ৫টি রেলস্টেশনে উন্নয়নে যুগপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে।

সুত্র:দৈনিক জনকন্ঠ,২৬ নভেম্বর ২০১৭

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।