সীমাহীন ভোগান্তির নাম ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’

সীমাহীন ভোগান্তির নাম 'ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস'

নিউজ ডেস্ক:একসময় জামালপুর-ময়মনসিংহবাসীর প্রিয় ট্রেন ছিল আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। সপ্তাহে ৭ দিন চলাচল করে এই ট্রেনটি। সেইসঙ্গে থাকে ভরপুর যাত্রী। একসময় দিবাগত রাতে চলাচল করলেও বছর পাঁচেক আগে এর সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন সময়ে দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ভোর ৬:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু হয় এই ট্রেনের। ঢাকায় পৌঁছার কথা ১২:৩০ মিনিটে। কিন্তু এই টাইমিং কেবল কাগজে-কলমেই বিদ্যমান। একসময়ের দুর্দান্ত সার্ভিস আর দিতে পারছে না ব্রহ্মপুত্র।

প্রারম্ভিক এবং গন্তব্য স্টেশনসহ এই ট্রেনের স্টপেজ মোট ১০টি। যেগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় নান্দিনা-পিয়ারপুরের মতো ছোট স্টেশনও যুক্ত রয়েছে। বাস্তবে এই ট্রেনটি যাত্রাপথে প্রায় দ্বিগুন সংখ্যক স্থানে দাঁড়িয়ে পড়ে। কখনও ক্রসিংয়ের জন্য, আবার কখনও অজানা কারণে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে এই ট্রেনে ভ্রমণ করে দেখা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেনটি মোট ১৮বার থেমেছে! যাত্রীদের প্রচুর সময়ের অপচয় হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে অসংখ্য ভিক্ষুক, হকার আর হিজড়ার উৎপাত।

সময় পরিবর্তনের আগে এবং পরে যাত্রীরা এই ট্রেনে চেপে ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায় গিয়ে অফিস ধরতে পারতেন। এখন অফিস তো দূরের কথা, ট্রেন চলে গরুর গাড়ির মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় ক্রসিংয়ের জন্য এমনিতেই এই রুটে ট্রেনের শিডিউল টাইম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় দেওয়া হয়েছে সবগুলো ট্রেনকে। তবে এরপরেও সময় মেনে চলতে পারছে না ট্রেনগুলো।

জামালপুর-ঢাকা রুটে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এই রুটের প্রতিটি ট্রেনে প্রতিদিনই ব্যাপক যাত্রীচাপ থাকে। ট্রেনগুলোর মধ্যে তিস্তা এক্সপ্রেস কেবল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা লাল-সবুজ রেক পেয়েছে। এটিই একমাত্র ট্রেন যা কমবেশি ৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-জামালপুর যেতে পারে এবং সময় মেনে চলে। বাকী তিনটি ট্রেন ব্রহ্মপুত্র, অগ্নিবীণা এবং যমুনা চলছে বহু আগের পুরনো লক্করঝক্কর কোচ দিয়ে। সম্প্রতি সরকারের আমদানিকৃত মিটারগেজ কোচগুলোর দুটি চালান দেশে পৌঁছলেও এই রুটের কোনো ট্রেনের রেক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের টিকিট অনলাইনে কাটতে গেলেও বিরাট বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ১০ দিন আগে সিট সিলেকশনের সুযোগ থাকার পরেও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে শুধুমাত্র শোভন শ্রেণি ছাড়া আর কোনো শ্রেণির টিকিট কাটার সময় সিট সিলেকশন করা যায় না। এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই রেলকে অনলাইন সেবা দেওয়া বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান সিএনএসবিডির। জামালপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ অনেকদিন ধরেই নতুন ট্রেনের দাবি তুলেছেন। বাস্তবে পুরনো ট্রেনের স্থান হয়েছে আইসিইউতে, নতুন ট্রেন তো বহুদূর!

সুত্র:কালের কন্ঠ, ১২ অক্টোবর, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।