শিরোনাম

লেভেলক্রসিংয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা

লেভেলক্রসিংয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা

আল ফাতাহ মামুন:
সকাল ৭টা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষের ছুটে চলা পুরোদমে শুরু হয়েছে। কোনো দিকেই যেন নজর নেই কারও। লক্ষ্য একটাই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছা। অফিস-আদালত, দোকান-কারখানা, স্কুল-কলেজ যার যে গন্তব্য যেখানে ছুটে চলছে।

গেন্ডারিয়া বাজার রেললাইনে দাঁড়াতেই ভয়ংকর একটি দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয় প্রতিবেদককে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রেন আসছে। গন্তব্য গেন্ডারিয়া হয়ে কমলাপুর।গেন্ডারিয়া বাজারের লেভেলক্রসিংটি অরক্ষিত। ট্রেন আসতে দেখা যাচ্ছে। হুইশেল বাজছে। তবুও মানুষজন নির্বিকার। হুটহাট করে যাচ্ছে-আসছে।একটি দুটো মোটরসাইকেলও অসম্ভব দ্রুতগতিতে লেভেলক্রসিং পার হয়ে যাচ্ছে। ট্রেন যখন খুব কাছাকাছি চলে এসেছে, তখনো এক দু’জন দৌড়ে-লাফিয়ে লেভেলক্রসিং পার হয়ে গেল।

দু’পাশে অপেক্ষমাণ মানুষজন ও দোকানিরা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও থামিয়ে রাখতে পারেনি অতি ব্যস্ত ওই মানুষগুলোকে। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।এটা শুধু গেন্ডারিয়ার চিত্র নয়, রাজধানীর জুরাইন, শ্যাওড়াবাজার, আশকোনা, মগবাজার, এফডিসি মোড়, তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী লেভেক্রসিং ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র।ট্রেন আসার আগ মুহূর্তে লাইনম্যান দু’দিকে ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা পারাপার বন্ধ করে দেন। তবুও ব্যারিকেডের নিচ দিয়ে কিংবা একটু দূরে লোহার খুঁটি গলিয়ে ঢুকে পড়েন পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালক। ট্রেন কাছাকাছি চলে এলেও নির্বিকারভাবে পার হয়ে যান তারা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর রেল দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ মানুষ মারা যায়। আহতের সংখ্যা ২৫০ জনের মতো। কিন্তু চোখের সামনে এরকম দুর্ঘটনা ঘটলেও সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি মানুষের মাঝে।

রেলওয়ের আইন অনুযায়ী, রেলপথের দুই পাশে ১০ ফুট এলাকায় চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। ওই সীমানার ভেতর কেউ প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতারের বিধান রয়েছে। এমনকি ওই সীমানায় গবাদিপশু প্রবেশ করলেও তা বিক্রি করে এর অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দেয়ার কথা আইনে বলা আছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিনা পরোয়ানায় দায়ী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখে।
রাজধানীর লেভেলক্রসিংগুলো ঘুরে দেখা যায়, ট্রেন আসার আগমুহূর্তে দায়িত্বরত ট্রাফিক গেটম্যানরা সতর্কীকরণ সাইরেন বাজালেও তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই মানুষের।এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজধানীসহ আশপাশের ৩৫ কিলোমিটার রেলপথে ৫৮টি লেভেলক্রসিংয়ের ২৩টি অরক্ষিত ও অননুমোদিত। এর মধ্যে কোনোটিতে নেই গেটম্যান ও সিগন্যাল বার। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রেলওয়ে।

সায়েদাবাদ লেভেলক্রসিংয়ে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পরপরই ট্রেন আসা-যাওয়া করছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে মানুষ।
এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণখানের কাওলা ও আশকোনার মাঝামাঝি জায়গায় রেললাইন পারাপারের সময় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনের ধাক্কায় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
একই তারিখে কুড়িল বিশ্বরোডসংলগ্ন লেভেলক্রসিং দিয়ে পারাপারের সময় একটি ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে এক নারী মারা যান। এভাবে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটলেও সচেতন হয়নি মানুষ।এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, মানুষ এতটা বেখেয়াল-অসচেতন কীভাবে হয় বুঝতে পারি না।

একটু সচেতন হলেই, এক মিনিট অপেক্ষা করলেই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকা যায়। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা রেলওয়ে সপ্তাহ পালন করি। সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করি। সাইনবোর্ড ঝুলাই। আপনারা মিডিয়াকর্মীরাও লেখালেখি করেন।

তাহলে আশা করি মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়বে। অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, এ ধরনের ক্রসিংগুলো দূরনিয়ন্ত্রণী যন্ত্র, যেমন- রিমোট সিস্টেম অথবা এ ধরনের যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করি, অরক্ষিত লেভেলক্রসিংগুলোও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে না।

সুত্র: যুগান্তর, ০৩ আগস্ট ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।