শিরোনাম

রেলস্টেশন বন্ধে ভোগান্তিতে হিলির মানুষ

রেলস্টেশন বন্ধে ভোগান্তিতে হিলির মানুষ

নিউজ ডেস্ক:

জনবল সংকটের কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশন। বর্তমানে আন্তঃনগর তিনটিসহ অন্যান্য ট্রেন ২ নং লাইন দিয়ে চলাচল করছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া টিকিট এবং আসন না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে রেলস্টেশনটি খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধনসহ রেলপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা।

হিলি স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশনটি ‘বি’ শ্রেণীর। এ ধরনের স্টেশনে তিনজন মাস্টার, পাঁচজন পয়েন্টম্যান, তিনজন বুকিং সহকারী এবং দুজন পোর্টার থাকার কথা থাকলেও এত দিন একজন স্টেশনমাস্টার ও দুজন পয়েন্টম্যান দিয়ে কার্যক্রম চলছিল। গত ৮ জানুয়ারি স্টেশন মাস্টার ও একজন পয়েন্টম্যানকে অন্যত্র বদলি করে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। যেখানে স্টেশনটি দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগরসহ ১১টি ট্রেন চলাচল করে। যদিও থামে মাত্র তিনটি।

হিলি রেলস্টেশন ও রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা পয়েন্টম্যান মীর আলম জানান, স্টেশন বন্ধ রয়েছে। মাস্টার না থাকায় টিকিট বিক্রিও বন্ধ। পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি ও বিরামপুর স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সব ট্রেন ২ নং লাইন দিয়ে চলাচল করছে। এখানে স্টপেজ থাকা আপ ও ডাউন মিলিয়ে তিনটি ট্রেন বরেন্দ্র, তিতুমীর ও খুলনা মেইল ২ নং লাইনে থামে এবং যাত্রী তোলে। তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে আমি একা দায়িত্বে আছি। স্টেশনের যন্ত্রপাতি এবং রেলক্রসিং পাহারা দিচ্ছি।

যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে হিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, হিলির অনেক ছাত্রছাত্রী রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। তারা নিয়মিত এ রেলপথ দিয়েই যাতায়াত করেন। কিন্তু হঠাৎ করে রেলস্টেশন বন্ধ করে দেয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের পার্শ্ববর্তী বিরামপুর বা পাঁচবিবি স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে এবং সেখানে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচবিবিতে শুধু বরেন্দ্র থামে। ওই ট্রেনে স্টেশনটির জন্য আসন বরাদ্দ মাত্র ১৪টি। অন্য ট্রেনগুলো বিরামপুরে থামলেও সেখানে আসন বরাদ্দ সীমিত। হিলি স্টেশন বন্ধ হওয়ার পর ওই দুটি স্টেশনে আসন বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। ফলে হিলির যাত্রীরা সেখানে গিয়ে প্রায়ই আসন পান না। আন্তঃনগর ট্রেনে অনেককেই স্ট্যান্ডিং টিকিটে যেতে হয়।

এদিকে হিলি স্টেশন বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়েছে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং ইমিগ্রেশনেও। বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, হিলি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। সরকার প্রতি বছর এখান থেকে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। হিলি রেলস্টেশনটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পেঁয়াজ, চাল, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভারত থেকে আসে। আমদানিকারকসহ পাইকারদের অনেকেই বন্দরে আসেন রেলপথে। এছাড়া চিকিৎসা, বেড়ানোসহ নানা কাজেই মানুষ ভারতে যায়। হিলি ইমিগ্রেশনে তাদের অধিকাংশই যাতায়াত করে ট্রেনে করে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন রেলস্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হলো, তার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।

হিলি রেলস্টেশন চালুর দাবিতে নানা তত্পরতার কথা জানান হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র মো. জামিল হোসেন চলন্ত। তিনি বলেন, হিলি রেলস্টেশনের উন্নয়নসহ সব ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে এমপির ডিও লেটারসহ পৌরসভার পক্ষ থেকে রেল মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এর পরও হঠাৎ করে গত ৮ জানুয়ারি স্টেশনটিই বন্ধ করে দেয়া হলো। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সুপারিশসহ পৌরসভার পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে আবার আবেদন করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি সংসদে স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী বিষয়টি উত্থাপন করলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমরা আন্দোলনে নেমেছি। ১০ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন করা হবে। তার পরও ব্যবস্থা না নেয়া হলে আগামী ১ মার্চ হিলি রেলপথ অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে।

সুত্র:বণিক বার্তা, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।