মির্জাপুরের ৩০ রেলক্রসিং ওভারে গেটম্যান নেই, ঝুঁকিপূর্ণ আরো ৫৯

মির্জাপুরের ৩০ রেলক্রসিং ওভারে গেটম্যান নেই, ঝুঁকিপূর্ণ আরো ৫৯

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল :

জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু ট্রেন লাইনের মির্জাপুর অঞ্চলের ৩০টি রেল ক্রসিং ওভারে গেটম্যান না থাকার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, আরো ৫৯টি রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার ট্রেন লাইনের এই ৫৯টি রেলক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গত এক যুগে বঙ্গবন্ধু সেতু ট্রেন লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিং ওভারে শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ক্রসিং ওভারে বেড়ি ও গেটম্যান  না থাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা হচ্ছে। সরেজমিনে ট্রেন লাইনের কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে গেইটম্যান বিহীন ক্রসিং অভার দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে লোকজন ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে।
উপজেলার ট্রেন স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৯০ কিঃমি ট্রেন লাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ রোড। এই ৯০ কিঃমি ট্রেন লাইনে ক্রসিং ওভার রয়েছে ১০২টি। কিছু ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো রয়েছে অরক্ষিত। এই রোড দিয়ে প্রতিদিন খুলনা, রাজশাহী ও কলকাতাগামী অন্তত ১৫-২০টি ট্রেন নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর কিছুদিন ট্রেন লাইন ও ক্রসিং ওভার ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও পরে ক্রসিংগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর-টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৯০ কিঃমি রেলপথ এখন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

ইতোপূর্বে মির্জাপুরের মহেড়া, ডোকলাহাটি, কড়াইল, বহনতরী, ধেরুয়া, রাজাবাড়ি, গোড়াইল, টাঙ্গাইলের গারিন্দা, বাসাইলের নাটিয়াপাড়া ও এলাঙ্গায় ক্রসিং ওভারে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি ঘটেছে অনেকের। এ ছাড়া, জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, মৌচাক, সফিপুর,  কালিয়াকৈর, ক্যাডেট কলেজ, নয়াপাড়া, ধেরুয়া, কুমারজানী, মির্জাপুর বাইপাস, কুরনী, দেওভোগ, ডোকলাহাটি, কড়াইল, মহেড়া, নাটিয়াপাড়া, হাবলা, বাঐখোলা, কাসিল, করটিয়া, গারিন্দা, এলাঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৫৯টি ক্রসিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
রেলওয়ে ও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ট্রেন লাইনের মৌচাক, নয়াপাড়া, বহনতুলী, করটিয়া ও এলাঙ্গা এই পাঁচটি ক্রসিং ওভার দেখাশুনার জন্য টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ২০০৯ সালে ১৫ জন গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয় তিন হাজার টাকা মাসিক বেতনে। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। ফলে ঐ ক্রসিং ওভারগুলো আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে গোড়াই এলাকার নয়াপাড়ায় ভটভটি ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত ও আটজন আহত হয়। ডোকলাহাটি ক্রসিং ওভারে পিকআপ-ট্রেন সংঘর্ষে ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হয়। ধেরুয়া ক্রসিং ওভারে ট্রাক-ট্রেন ও ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়। সর্বশেষ কিছুদিন আগে কালিয়াকৈরের গোয়াল বাথান এলাকায় ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়। এভাবে গত ১২ বছরে এই রোডে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় শতাধিক নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এ ব্যাপারে রেলওয়ের পশ্চিম জোনের (জয়দেবপুর) সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১০২টি ক্রসিং ওভার রয়েছে। কিছু কিছু ক্রসিং ওভারে গেটম্যান থাকলেও অর্থনৈতিক সমস্যাসহ নানা জটিলতার কারণে বাকি ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ ও বেড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জনগণকে নিজ দায়িত্বে পারাপারের জন্য সতর্কবাণী দেওয়া রয়েছে।’
সুত্র: ইত্তেফাক, ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।