বেসরকারিতে লাভে চললেও সরকারিতে লোকসানে ট্রেন!

বেসরকারিতে লাভে চললেও সরকারিতে লোকসানে ট্রেন!

সাইদ সবুজ:
বাংলাদেশ রেলওয়ের জনবল সংকটের কারণে ৮০টির বেশি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে সরকারিভাবে পরিচালনার তুলনায় আয়ও হচ্ছে বেশি। কিন্তু কিছু ট্রেন এরই মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে সরকারিভাবে পরিচালনার জন্য ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আয় কমার পাশাপাশি ট্রেনগুলোতে লোকসান গুনতে শুরু করেছে রেলওয়ে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে ৪২টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে আরও চারটি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। বর্তমানে এ ট্রেনগুলো সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু ওই ট্রেনগুলো থেকে রেলওয়ের আয় বাড়ছে না। উল্টো আগের তুলনায় এসব ট্রেনের আয় কমেছে বেশ কয়েকগুণ। এছাড়া লোকবল সংকটে যাত্রীরা ওই ট্রেনগুলোর কাক্সিক্ষত সেবা হতেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ট্রেনের আয়ের তুলনামূলক বিবরণীতে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে গড়ে ৫৭ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির পরও বেসরকারি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনা ট্রেনগুলোয় ৮-৯ বছর আগের তুলনায় আয় হ্রাস পেয়েছে।

পূর্বাঞ্চল সূত্রে আরও জানা যায়, আখাউড়া-সিলেট-আখাউড়া রুটে চলাচলকারী ১৭/১৮ নং কুশিয়ারা এক্সপ্রেস ৮ সেপ্টেম্বর ২০১০ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়েছে। নোয়াখালী-ঢাকা-নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী ১১/১২ নং নোয়াখালী এক্সপ্রেস ফেব্রুয়ারি ২০০৭ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত চলেছে। নোয়াখালী-আখাউড়া-নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী ৪৫/৪৬ নং সমতট এক্সপ্রেসও একই সময় পর্র্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালিত হতো। এছাড়া ভৈরব বাজার-ময়মনসিংহ-ভৈরব রুটে চলাচলকারী ২৪১/২৪২/২৪৩/২৪৪ নং লোকাল ট্রেন বেসরকারিভাবে পরিচালিত হতো। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গের কারণে দুই মাস পরিচালনার পর ২০১২ সালে ওই চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়।
ওই চারটি ট্রেন সরকারি ও বেসরকারিভাবে পরিচালনায় আয়ে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। বেসরকারিভাবে পরিচালিত চারটি ট্রেনে বছরে আয় করেছিল পাঁচ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে কুশিয়ারা এক্সপ্রেস থেকে ৭৬ লাখ তিন হাজার, নোয়াখালী এক্সপ্রেস থেকে ৮৩ লাখ ১৬ হাজার, সমতট এক্সপ্রেস থেকে ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার ও ভৈরব-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন থেকে এক কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা আয় হয়েছিল।

এরপর দু’দফায় ৫৭ দশমিক ২০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রেন চারটি থেকে বছরে প্রায় আট কোটি ৬২ লাখ টাকা আয় হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে এ চার ট্রেন সরকারিভাবে পরিচালনা করে বাৎসরিক আয় হচ্ছে মাত্র এক কোটি ৪৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, যা ৮-৯ বছর আগের তুলনায় প্রায় চার কোটি টাকা কম। আর ৫৭.২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি বিবেচনা করলে আয় কম হচ্ছে প্রায় সাত কোটি টাকা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ এপ্রিল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার এসএম মুরাদ হোসেন রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর চিঠিও দিয়েছেন। একই সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশন)। ওই চিঠিতে মুরাদ হোসেন বলেন, লোকসান হ্রাস করতে বর্তমানে ৪২টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে পূর্বাঞ্চলে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলে রেলওয়ের ব্যয় (টিটিই মাইলেজ, টিকিট প্রিন্টিং খরচ) হ্রাস পাবে। তাই উন্নত যাত্রীসেবা ও আয় বৃদ্ধির জন্য চারটি ট্রেন পুনরায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য উম্মুক্ত দরপত্রের (ওটিএম) মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগের অনুরোধও করেন তিনি।

যদিও এ প্রস্তাব মানতে রাজি নয় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম এ প্রসঙ্গে শেয়ার বিজকে বলেন, ‘রেলওয়েতে লোকবল সংকটের কারণে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু বেসরকারিভাবে পরিচালিত ট্রেনে যাত্রীরা ভালো সার্ভিস পাচ্ছেন না। তারা নির্দিষ্ট সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। এছাড়া আয়ের হিসাব যদি তুলনা করেন, তাহলে বলব বেসরকারিভাবে পরিচালনার সময় হয়তো বগির পরিমাণ বেশি ছিল। বর্তমানে রেলওয়েতে নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাই আস্তে আস্তে সবগুলো ট্রেন সরকারি পরিচালনায় নিয়ে আসা হবে। রেলপথমন্ত্রী এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। তার কথা অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর কোনো ট্রেন বেসরকারি খাতে থাকবে না।’

সুত্র:শেয়ার বিজ, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।