বেশি দামে টিকিট বিক্রি প্রতিবাদ করলেই লাঞ্ছনা

জয়দেবপুর জংশন

দেশের অন্যতম বড় রেল জংশন গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে হয়নারির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। সেখানে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় যাত্রীদের। যাত্রীদের মারধর করে টাকা ও সঙ্গের মালপত্রও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রধান বুকিং ক্লার্ক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে জয়দেবপুর জংশন স্টেশনে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। এ চক্রের অন্যতম সদস্য টালিম্যান মো. আইনুল হক। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে আন্তনগর ট্রেনের ক্ষেত্রে টিকিটপ্রতি ১০-২০ টাকা এবং অন্য ট্রেনের ক্ষেত্রে টিকিটপ্রতি ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন। যাত্রীদের কেউ প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হয়। কখনো কখনো মারধর করে যাত্রীদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। রেল পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই এসব ঘটনা ঘটে।

যাত্রীরা জানান, গাজীপুর জংশন হয়ে প্রতিদিন ৪২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে।

প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজারের বেশি যাত্রী এ স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। টিকিট কাউন্টার থেকে লোকাল ও মেইল ট্রেনের প্রতি টিকিটে সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা এবং আন্তনগর ট্রেনের প্রতি টিকিটে সর্বনিম্ন ১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। এভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে গড়ে আট টাকা বেশি নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দাঁড়ায় প্রতিদিন ৪০ হাজার ও মাসে ১২ লাখ টাকা। তবে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করে চক্রটি মাসে ৩০ লাখ টাকার বেশি পকেটে পুরছে বলে তাদের অভিযোগ।
জয়দেবপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী নিয়মিত যাত্রী গাজীপুরের বাসিন্দা আবদুল হাই জানান, গত সোমবার তিনি ভাওয়াল এক্সপ্রেস ট্রেনে (মেইল) ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে গেলে তাঁর কাছ থেকে ২০ টাকা আদায় করা হয়। অথচ টিকিটে মূল্য লেখা ১৫ টাকা। প্রতিবাদ করলে টিকিট ফেরত দিতে বলেন কাউন্টারম্যান। বাধ্য হয়ে ওই দামেই টিকিট নেন আবদুল হাই। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গন্তব্য দূরে হলে ভাড়া থেকে ১০-১৫ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। স্টেশন মাস্টারকে বহুবার জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ কারণে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া বাধ্য হয়ে মেনেই নিয়েছেন।

একই কথা জানিয়ে আরেক নিয়মিত যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, জয়দেবপুর থেকে ঢাকার ভাড়া আন্তনগরে ৪৫ টাকা। কিন্তু রাখা হয় ৫০ টাকা। এ ছাড়া অন্য যেকোনো গন্তব্যে গেলে আন্তনগরের টিকিটে ১০-২০ টাকা বেশি আদায় করা হয়। বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। গড়ে ১০ টাকা বেশি আদায় করা হলেও শুধু আন্তনগর ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিন সিন্ডিকেট সদস্যদের পকেটে যাচ্ছে ১৫ হাজার, মাসে সাড়ে চার লাখ টাকা। বুকিং ক্লার্ক গোলাম মোস্তফার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে গত ১৪ মার্চ গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মোকাদ্দেস বিল্লাহ স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে টালিম্যান আইনুল হক বলেন, ‘জয়দেবপুর থেকে ঢাকার ভাড়া ২০ টাকা। টিকিটগুলো পুরনো, তাই আগের মূল্য ১৫ টাকা লেখা রয়েছে। ’ তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে। ’ তবে দূরের টিকিটে বেশি নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাড়া বেশি নেওয়া হয় না। ’

অভিযোগ প্রসঙ্গে বুকিং ক্লার্ক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘খুচরা না থাকলে অনেক সময় ৫-১০ টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়। ’

এসব বিষয়ে জয়দেবপুর জংশন স্টেশনের প্রধান স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান প্রথমে টালিম্যানের মতো ঢাকার ভাড়া ২০ টাকা বলে জানান। তিনিও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তথ্যপ্রমাণ দেখানো হলে পত্রিকায় না লেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সুত্র:কালের কন্ঠ,২৯ অক্টোবর, ২০১৭

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।