প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ছয় বছর পরও রেলপথ হয়নি

দর্শনা-মুজিবনগর-মেহেরপুর

শাহ আলম :   ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে আয়োজিত জনসভায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিন গুনতে গুনতে ছয়টি বছর পেরিয়ে আবার ১৭ এপ্রিল এসেছে। কিন্তু রেলপথের দৃশ্যত কোনো কাজই শুরু হয়নি।

মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল উপলক্ষে আজ সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মুজিবনগরে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত দর্শনা-মুজিবনগর-মেহেরপুর রেলপথের বিষয়টি জানাবেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক তহিদুল আনোয়ার চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল একই বছরের ২৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর এবং মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর এলাকা পরিদর্শন করে। তহিদুল আনোয়ার চৌধুরী বলেছিলেন, দর্শনা থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। এ জন্য প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণের দরকার পড়বে। রেলওয়ের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা তখন আশ্বাস দেন, পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে রেল বিভাগ এই রেলপথ স্থাপনের চূড়ান্ত নকশা, বাজেটসহ প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেবে। অর্থ ছাড় হলে দুই বছরের মধ্যে রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ হবে।

এরপর ২০১২ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী (বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী) ওবায়দুল কাদের মেহেরপুরে আসেন। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূরণে বর্তমান সরকারের আমলেই মেহেরপুরকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত ৫৩ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, হাতিভাঙ্গা ও চন্দ্রবাস, মেহেরপুর সদর, মোনাখালী ও মুজিবনগরে ছয়টি রেলস্টেশন এবং মুজিবনগর উপজেলার বল্লভপুর ও দামুড়হুদার কানাইডাঙ্গায় ভৈরব নদ ও চিৎলা পয়েন্টে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। মেহেরপুর সদর থেকে মুজিবনগর হয়ে দামুড়হুদার জয়রামপুরে লাইনটি সংযুক্ত হবে।
কিন্তু প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ এখন হতাশ হয়ে পড়েছে। মুজিবনগর স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাগোয়ান ইউপির চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি নিয়ে যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খেয়াল রাখা জরুরি।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, দর্শনা-মুজিবনগর-মেহেরপুর রেলপথের বিষয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তারা বেশ আগেই ঢাকায় রেলভবনে পাঠায়। কিন্তু রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনাবিদ আনোয়ারুল হক ডিপিপির কিছু সংশোধন করে আবার পাঠাতে বলেছেন। শিগগিরই সংশোধিত ডিপিপি পাঠানো হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সংশোধিত ডিপিপি রেলভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অনুমোদনের পর পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অর্থ ছাড় হলেই কাজ শুরু হবে।

 

সুত্র: প্রথম আলো ,১৭ এপ্রিল ২০১৭,

 

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।