প্রত্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি চার বছর ধরে অকার্যকর

প্রত্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি চার বছর ধরে অকার্যকর

নিউজ ডেস্ক: বছর সাতেক আগেও আন্তঃনগর ট্রেন থামত বগুড়ার সোনাতলার ভেলুরপাড়া স্টেশনে। তখন টিকিট কাউন্টারে লেগে থাকত লম্বা লাইন। এখন আর সেসব নেই। চার বছর পেরিয়ে গেছে স্টেশন মাস্টার নেই। দারোয়ান আর সংকেত দেখানোর জন্য একজন করে কর্মচারী থাকলেও আর কোনো ট্রেন থামে না। দুটি মেইল ট্রেনের স্টপেজ দেয়ার কথা থাকলেও কেউ জানে না তার সময়সূচি।

সম্প্রতি ভেলুরপাড়া স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃনগর, মেইল ট্রেনগুলো স্টপেজ না দিয়েই চলে যাচ্ছে। লোকাল ট্রেন থামছে, যাত্রী উঠছে-নামছে, মালপত্রও উঠছে-নামছে। কিন্তু স্টেশনে কখনই বাজে না ঘণ্টা, দেয়া হয় না সংকেত। স্টেশন মাস্টারের ঘরটি চার বছর ধরেই তালাবদ্ধ। টিকিট কাউন্টারও তাই। এতে একদিকে যেমন মানুষের ভোগান্তি, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার ও ভেলুরপাড়া স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই স্টেশনে দুজন স্টেশন মাস্টার, একজন করে সিগন্যাল ম্যান, গেটকিপার ও পয়েন্টম্যানের পদ রয়েছে। কিন্তু আছেন শুধু গেটকিপার ও সিগন্যাল ম্যান। বাকি পদগুলো চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খালি।

জানা যায়, ১৯৩৭ সালে ভেলুরপাড়া স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। সোনাতলা উপজেলার রেলস্টেশনটি রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের আওতায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামা করে আসছে। এলাকাটিতে সে সময় ট্রেনই ছিল একমাত্র যোগাযোগের বাহন। যমুনা নদীর ভাঙন এলাকার অভাবী মানুষ ট্রেনে অল্প খরচে জেলা সদরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করে আসছে। শুরুর দিকে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ যাত্রী ওঠানামা করত।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন কর্মকর্তারা জানান, ওই স্টেশনের মাস্টার আজাহার আলী ২০১৫ সালের ২৯ জুন অবসরে গেছেন। এরপর স্টেশন মাস্টার দেয়নি রেলবিভাগ। টিকিট কাউন্টার না থাকায় মালপত্র বুকিং ও যাত্রীদের টিকিট কাটার সুযোগ নেই। শুধু বেসরকারি ট্রেন ওই স্টেশনে থামছে। টিটিরা ট্রেনের ভেতরে টিকিট কেটে দিচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলাবাসী জানান, স্টেশন মাস্টারের ঘরে পার্শ্ববর্তী মসজিদের পানির পাম্প ও বাতির সুইচ থাকায় সেখানে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্টেশনে বাজানো হয় না ঘণ্টা। স্টেশনে সন্ধ্যার পর কোনো আলো জ্বলে না। তখন পুরো এলাকা নেশাখোর, ছিনতাইকারীদের দখলে চলে যায়। স্টেশনে দুটি লাইন থাকলেও প্রায় দুই বছর আগে ট্রেনের ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেছে। এ স্টেশন থেকে কিছুদূরে রয়েছে বিশাল বন্দর এলাকা। এখানে একটি ডিগ্রি কলেজ, দুটি মাদ্রাসা, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, তিন-চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাংক, বীমা, অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ১০টি চাতাল রয়েছে। মালপত্র পরিবহনের সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী বাহন ছিল ট্রেন। কিন্তু স্টেশন মাস্টার না থাকায় মালপত্র বুক করতে পারে না ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার বেনজুরুল ইসলাম জানান, জনবল সংকট রয়েছে। যে কারণে এখনো স্টেশন মাস্টার যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বেসরকারি ট্রেন শুধু থামছে। তারা স্টেশনের যাত্রী ওঠানামা করছে। কর্তৃপক্ষ জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সুত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ০৪, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।