শিরোনাম

পকেটমার-ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য ময়মনসিংহ রেলস্টেশন

পকেটমার-ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য ময়মনসিংহ রেলস্টেশন

নিউজ ডেস্ক: পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশন। তাদের কবলে পড়ে এ স্টেশনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) বলছে, জনবল সংকটের কারণেই এসব অপরাধীকে দমনে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ছিনতাই বা পকেটমারের শিকার হচ্ছে। গত ছয় মাসে এ স্টেশনে শতাধিক পকেটমার ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে শেরপুরে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন নামে এক সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনায় ছিনতাইকারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে।

সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারীর চাপাতির কোপে আশরাফুল আলম রিয়াদ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন রিয়াদ ময়মনসিংহ থেকে গৌরীপুরে নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনের ৫ নং প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ করে অজ্ঞাত তিনজন ছিনতাইকারী তাকে ঘিরে ফেলে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই সঙ্গে থাকা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি মাথা ও পায়ে আঘাত করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা রিয়াদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক শামসুন্নাহার ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি ধোবাউড়া থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

এর আগে ভাইকে মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেয়ার সময় মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির স্মার্টফোন চুরি হয়।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম বলেন, ময়মনসিংহ রেলস্টেশন চুরি, ছিনতাই, পকেটমার ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধীর স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ট্রেন যাত্রীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে জিআরপিকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০০ কিলোমিটার রেল এলাকা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ জিআরপি থানা। অফিসার ও কনস্টেবলসহ ৩৬ জন জনবল দিয়ে কাজ করতে হয়। আন্তঃনগর চারটি ট্রেনে ১২ জন ডিউটি করে প্রতিদিন। সীমিত জনবলের কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পকেটমার ও ছিনতাইকারীরা সবাই ময়মনসিংহ শহর ও তার আশপাশের এলাকার। আমরা ১৫-২০ জন ছিনতাইকারী ও পকেটমারকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছি। তবে তারা জেল থেকে বেরিয়ে আবার এ কাজে নেমে পড়ে। নানা সমস্যা সত্ত্বেও ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সুত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ০৬, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।