দীর্ঘদিন বন্ধ কুলাউড়ার তিন রেলস্টেশন

দীর্ঘদিন বন্ধ কুলাউড়ার তিন রেলস্টেশন

নিউজ ডেস্ক:
লোকবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার টিলাগাঁও, ভাটেরা ও মনু রেলস্টেশন। এতে রেলপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার লাখো মানুষকে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে বাণিজ্যিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, লোকবলের অভাবে ২০০৯ সালে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের কুলাউড়ার টিলাগাঁও ও ভাটেরা এবং ২০১৬ সালে মনু রেলস্টেশনের কার্যত্রম বন্ধ হয়ে যায়। এসব স্টেশন ব্যবহার করত উপজেলার রাউতগাঁও, হাজীপুর, শরিফপুর, বরমচাল, ভাটেরা ও রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের মানুষ। লোকাল ও মেইল ট্রেনে তারা কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও সিলেটে যাতায়াত করত। সূত্র আরো জানায়, একসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য স্টেশনগুলো ব্যবহার করতেন। কিন্তু স্টেশন তিনটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে উভয় ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ বেড়েছে। স্টেশনগুলো চালুর জন্য স্থানীয়রা বারবার দাবি জানিয়েছেন। পালন করেছেন আন্দোলন কর্মসূচিও।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর বন্ধ স্টেশনগুলো চালু ও কুলাউড়ায় আন্তঃনগর ট্রেনের আসনসংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন ‘কুলাউড়ার সমস্যা ও সম্ভাবনা গ্রুপ’।

সরেজমিন দেখা যায়, একসময়ের দারুণ ব্যস্ত এসব স্টেশন এখন একেবারেই ফাঁকা পড়ে আছে। তালা ঝুলছে স্টেশনের কার্যক্রম-সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলোয়। ভাটেরা স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সাইদুল হাসান শিপন বলেন, প্রায় দশ বছর ধরে স্টেশনটি বন্ধ। আগে এ স্টেশনে লোকাল ও মেইল ট্রেন যাত্রাবিরতি দিত। তখন বিভিন্ন স্থানে সহজেই যাতায়াত করা যেত। কিন্তু স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, মনু একটি ঐতিহ্যবাহী স্টেশন। স্টেশনটি ব্রিটিশ আমলে চালু করা হয়। এটি বন্ধ করায় সীমান্তবর্তী এ এলাকার মানুষের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। স্টেশনটি পুনরায় চালু করার জন্য বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও আন্দোলন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

টিলাগাঁও স্টেশন চালুর দাবিতে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের’ আহ্বায়ক আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, এ স্টেশনের আশপাশে শতাধিক ছোট ব্যবসায়ী রয়েছেন। স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বেচাকেনা হচ্ছে না। এতে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। তাছাড়া স্টেশন বন্ধ হওয়ায় কম খরচে ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাটেরা স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। রেলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ স্টেশনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টেশনটি চালু করার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিকাঈল সিপার ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরীর কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়ে রেলসচিবের কাছে দিয়েছি। আশা করছি, অচিরেই স্টেশনটি চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে কথা হলে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনমাস্টার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, লোকবলের অভাবে স্টেশনগুলো বন্ধ করা হয়। মূলত স্টেশনমাস্টার, বুকিং সহকারী ও পয়েন্টম্যানের অভাবে এগুলো বন্ধ রয়েছে। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে স্টেশনগুলো আবার চালু করবে।

সুত্র:বণিক বার্তা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।