শিরোনাম

জনবল ও লোকো সংকটে নড়বড়ে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগ

জনবল ও লোকো সংকটে নড়বড়ে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগ

নিউজ ডেস্ক: মেয়াদোত্তীর্ণ লোকোমোটিভ আর জনবল সংকট নিয়ে ধুঁকছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় দপ্তর। দপ্তরের অধীন ছয়টি সেকশনে জোড়াতালি দিয়ে মাত্র ৩৮টি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে চলাচলের কথা ছিল ৫৬টি। লোকোমোটিভ আছে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এর মধ্যে চারটি পরিত্যক্ত আর ছয়টি মেরামতে। ১২০টি পদে জনবল সংকট চলছে দীর্ঘদিন। এ পরিস্থিতিতে সুলভ ও আরামদায়ক ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গের বিপুলসংখ্যক মানুষ।

লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, লালমনিরহাট-ঢাকা ও রংপুর-ঢাকা বাদে ছয়টি সেকশন (লালমনিরহাট-বুড়িমারী, লালমনিরহাট-তিস্তা, তিস্তা-রমনা বাজার, লালমনিরহাট-পার্বতীপুর, লালমনিরহাট-সান্তাহার, পার্বতীপুর-বিরল ও কাঞ্চন-পঞ্চগড়) রুটে ট্রেনের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন মেইল এক্সপ্রেস ২০টি, লোকাল মিশ্র ২৪টি ও আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ১২টি থাকার কথা। কিন্তু চালক বা ‘ক্রু’ এবং লোকোমোটিভ না থাকায় চারটি মেইল এক্সপ্রেস, ১৪টি লোকাল মিশ্র ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করলে প্রতিদিন ৬২টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন। সেখানে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের সংগ্রহে আছে মাত্র ৩২টি। এর মধ্যে চারটি পরিত্যক্ত। পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) পাঠানো হয়েছে ছয়টি। ছয়টি দুর্বল হয়ে পড়ায় শান্টিং কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। অবশিষ্ট ১২টি লোকোমোটিভ দিয়ে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে ৩৮টি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত লোকোমোটিভগুলো নিলামে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী (লোকো) আকরাম হোসেন।

এদিকে শুধু লোকোমোটিভের সংকট নয়, ভয়াবহ সংকট রয়েছে জনবলেও। মঞ্জুরিকৃত লোকো মাস্টার ৮০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, দ্বিতীয় গ্রেডের (এএলএম) ১৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৭৭ জন ও শান্টিং কাজে ৪২টি পদের বিপরীতে ১৫ জন কর্মরত।

তবে কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা নতুন কোচ ও লোকোমোটিভ লালমনিরহাট বিভাগও পাবে। তখন সংকট কেটে যাবে।

সহকারী লোকো মাস্টার আল আমিন জানান, ১৯৬১ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৩১টি লোকোমোটিভ পায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগ। সর্বশেষ ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আনা একটি লোকোমোটিভ লালমনিরহাট বিভাগকে দেয়া হয়। এটি ছাড়া বাকি সবগুলো লোকোমোটিভের আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি আগে।

লোকো ও জনবল সংকটের কারণে চারটি মেইল এক্সপ্রেস ও ১৪টি লোকাল মিশ্র ট্রেন বন্ধের কথা নিশ্চিত করে আকরাম হোসেন আরো বলেন, দুর্ঘটনা কিংবা রিলিফ লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলে অন্য কোনো ট্রেন বাতিল কিংবা অস্বাভাবিক বিলম্ব করতে হচ্ছে। তাছাড়া কোনো ক্রু অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা ছুটিতে গেলে ট্রেন বাতিল করার উপক্রম হচ্ছে।

এসব সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হলেও কোনো সাড়া মিলছে বলে জানান লালমনিরহাট বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা রবিউল ইসলাম।

সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজার রহমান। তিনি জানান, এরই মধ্যে লোকোমোটিভ ও কোচ ক্রয় এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সমস্যার আশু সমাধান ঘটবে বলেই আশা করছেন এ কর্মকর্তা।

সুত্র:বণিক বার্তা, অক্টোবর ২৮, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।