খুলনা রেলওয়ের পশ্চিম জোনে ৬০ শতাংশ লেভেল ক্রসিংই অরক্ষিত

৬০ শতাংশ লেভেল ক্রসিংই অরক্ষিত

২৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ৬০ শতাংশ লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান। অর্থাত্ ১৩৭ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৮২টিই সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এ অবস্থায় পথচারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেভেল ক্রসিং পার হতে হচ্ছে। তাছাড়া এসব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানিসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, রেলওয়ের পশ্চিম জোনের লেভেল ক্রসিংগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলোয় একটি করে দায়সারা গোছের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে রেল বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সাইনবোর্ডগুলোয় লেখা, ‘এটি অবৈধ রেলগেট, এখানে কোনো গেটম্যান নেই, নিজ দায়িত্বে পারাপার হোন’। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, যেসব গেটে গেটম্যান আছে, তারাও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না। লেভেল ক্রসিংগুলোয় ট্রেন আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় গেট ফেলা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, গেটম্যানরা নিজেরাই অস্থায়ীভাবে কাজ করার জন্য অন্য কাউকে মাসহারার বিনিময়ে দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। আবার দেখা গেছে, অনেক লেভেল ক্রসিংয়ে রেল কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া অস্থায়ী গেটম্যানরা কাজ করছেন। অস্থায়ী হওয়ায় তারা দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নন।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার তালতলায় খুলনাগামী একটি রেল ইঞ্জিনের সঙ্গে শ্রমিকবাহী একটি বাসের সংঘর্ষে কদবানু ও নূরজাহান নামের দুই নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। হতাহতদের সবাই স্থানীয় আকিজ জুট মিলের শ্রমিক।
এর আগে গত বছরের ২৩ মে মথুরাপুর-মানিকদিহি জামতলা লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রীসহ পাঁচজন নিহত ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৫ জুন একই স্থানে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে এক এবং ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুজন নিহত হন। প্রতি বছরই ট্রেনের সঙ্গে অন্য পরিবহনের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ লেভেল ক্রসিংগুলোয় গেট বা গেটম্যানের ব্যবস্থা করা না হলে এমন দুর্ঘটনা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

সরেজমিন দেখা গেছে, খুলনা মহানগরীর জনবহুল এলাকা নয়াবাটি, মুজগুন্নি, বিএল কলেজের সামনে, ফুলবাড়ীগেট ও জাব্দিপুরে লেভেল ক্রসিংগুলোয় কোনো গেটম্যান নেই। এবং এসব স্থানে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় নিয়মিত গেট ফেলা হয় না। এছাড়া যে স্থানে গেটম্যান নেই, সেখানে ‘নিজ দায়িত্বে পারাপার হোন’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। দৌলতপুর, আলমনগর, মুজগুন্নি, ফুলবাড়ীগেটসহ বিভিন্ন লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর নিয়মিত বাজার বসছে। এসব বাজারে সবসময় ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকে। রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে উঠেছে অবৈধ বস্তি। রেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানও কয়েক বছর ধরে বন্ধ।
রেলওয়ে খুলনার অপারেটিং বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, খুলনা রেলস্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পর্যন্ত রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের অধীনে লেভেল ক্রসিং বা গেট রয়েছে ২৯টি। এর মধ্যে ১৫টিতে গেটম্যান আছে। আর ১৪টি গেটম্যান নেই। রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তদারকিতে থাকা অন্য ১০৮ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৬৮টিতে কোনো গেটম্যান নেই। তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।

সুত্র:বণিক বার্তা, ১৪ মে ২০১৭

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।