কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ছাড়া বিরতি নেই কোনো ট্রেনের

কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ছাড়া বিরতি নেই কোনো ট্রেনের

নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শতবর্ষী তালশহর রেল স্টেশনে আগের মতো নেই যাত্রীদের উপস্থিতি। এই স্টেশনে বর্তমানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি হয় না। শুধু ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (ডাউন) তালশহর স্টেশনে বিরতি করে। ট্রেনের যাত্রাবিরতি না হওয়ায় রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, সিলেটের সঙ্গে তালশহরসহ আশপাশের এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের নেই সহজ কোনো মাধ্যম।

তালশহর রেলস্টেশন মাস্টার নাজমুল হোসেন জানান, শতবর্ষী এই স্টেশনে এখন কোনো ট্রেন যাত্রাবিরতি করে না। শুধু ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (ডাউন) তালশহর স্টেশনে বিরতি করে। অন্যান্য লোকাল ট্রেন ও আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রাবিরতি দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক বার আবেদন করেছি। তালশহর রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ১৯১৪ সালে তালশহর রেল স্টেশন চালু হয়। আগে তালশহর রেল স্টেশনে যাত্রী পরিবহনে আট জোড়া লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল। সব সময় তিন-চারটি মালবাহী ট্রেনের পার্কিং থাকত। নিয়মিত সান্টিং করত এক থেকে দুটো ট্রেন। এখানে যাত্রাবিরতি করা এসএসকার এক্সপ্রেস, চাঁদপুর ও বাল্লা লোকালসহ তিন জোড়া ট্রেন একযুগ পূর্বেই রেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে রেল স্টেশনে পূর্বঘোষণা ছাড়াই কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতিও বন্ধ করে দেয়। যাত্রীদেরও চাপ পড়েছে পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ ও ভৈরব রেল স্টেশনে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে পড়ুয়া তালশহর গ্রামের মাসুম মিয়া জানান, ‘আগে দেখতাম আমাদের বড় ভাই ও বোনেরা ট্রেনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে আসা-যাওয়া করতেন। কিন্তু এখন আমরা পারি না। সিএনজি আর অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে খরচ যেমন বেশি অন্যদিকে সিএনজিতে যাতায়াত হুমকির দিকে দাঁড়াচ্ছে।’ তালশহর এআই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন জানান, ‘আগে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতাম। এলাকার জনসাধারণের রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম ছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে স্বল্প সময়ে আসা-যাওয়া করা যেত। কিন্তু বর্তমানে তালশহর স্টেশনে কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে তালশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সামা বলেন, ‘তালশহর স্টেশনটি ঐতিহ্যবাহী রেল স্টেশন ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্টেশনটি নিষ্প্রাণ হয়ে যাচ্ছে। আমি স্টেশনটিতে অন্য যে কোনো ট্রেন থামানোর ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক বার আবেদন করেছি।’

সূত্র:ইত্তেফাক, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।