আমদানিতেই মধু পেয়েছে রেল

আমদানিতেই মধু পেয়েছে রেল

পার্থ সারথি দাস ও তোফাজ্জল হোসেন লুতু   :

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ১৮৭০ সালে (তখনকার আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল) প্রথম শ্রমিকরা রেলের যাত্রী পরিবহন কোচ উত্পাদন করে। এরপর আরো অনেক সাফল্যের সাক্ষী এ কারখানা।কিন্তু ১৯৯৩ সাল থেকে সেখানে কোচ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। জনবল সংকট আর অর্থ বরাদ্দের অভাবে এ রেলওয়ে কারখানাটি ধুঁকছে। শুধু সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাই নয়, রেলওয়ের আরো তিনটি কারখানা চরম দুর্দশায় পড়েছে।রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির পরামর্শে জনবল কমাতে গিয়ে ওই সব কারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করাহয়েছিল। তার জেরে সৈয়দপুরে কোচ উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে বাকি তিনটি কারখানা খারাপ সময় পার করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর নেপথ্যে আছে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য। আর এ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতেই দেশের চারটি রেল কারখানাকে আরো আধুনিক না করে ‘অকার্যকর’ করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে রেলওয়ে আরো দুটি নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

রেল কারখানার অভিজ্ঞ শ্রমিকরা নিজের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারছেন না। বরাদ্দ না থাকার পরও শ্রমিকরা মাঝে-মধ্যে কোচ তৈরি করছেন। এই উৎসাহী শ্রমিকদের দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে তাঁরা এখন শুধু কোচ ও ওয়াগন মেরামত করার কাজ পাচ্ছেন। সৈয়দপুর রেল কারখানায় যে মেরামত কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে তা-ও ব্যাহত হচ্ছে জনবল, অর্থ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংকটে। অনুমোদিত জনবলের ৫৫ শতাংশই নেই প্রাচীন এ কারখানায়।

কারখানার অভিজ্ঞ শ্রমিকরা জানান, দেশে যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ তৈরিতে খরচ পড়ে গড়ে ৮০ লাখ টাকা। অথচ বিদেশ থেকে তা আমদানিতে খরচ পড়ছে সাত কোটি টাকা পর্যন্ত। বহুগুণ অর্থ ব্যয়ে শুধু কোচ নয়, আমদানি হচ্ছে ওয়াগন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশও। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, গত আট বছরে যাত্রীবাহী ২৩০টি কোচ আমদানি করা হয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। এ ছাড়া ওয়াগন আমদানি করা হয়েছে ৫১৬টি।

রেলওয়ের বর্তমান ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের একটি হলো ১০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচ ক্রয় প্রকল্প। এডিবির আর্থিক সহযোগিতায় এ প্রকল্পের অধীন এরই মধ্যে ১৫০টি কোচ আনা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একটি কোচে খরচ পড়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৈয়দপুরে কোচ তৈরি বন্ধ রয়েছে। তাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। কেন বেশি খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মান ভালো হয় বলে বাইরে থেকে কেনা হয়। পশ্চিম রেলের প্রধান কারিগরি প্রকৌশলী দুলাল কুমার রায় বলেন, ‘ভারত থেকে ১২০টি কোচ কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০টি এসেছে। এখানে প্রতিটি কোচে খরচ পড়ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা করে। ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা কোচ কিনছি। তাতে আমদানি শুল্কই দিতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। দেশে কোচ তৈরি করলে খরচ কম পড়ত। ’

লোকবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকার পরও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় শ্রমিকরা নিয়মিত মেরামত কাজের পাশাপাশি ২০১২ সালের জুনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক রেল কোচ নির্মাণ করেন। কারখানার শ্রমিকরা ৫০ কার্যদিবসে মিটারগেজ লাইনে চলাচলের এ কোচ তৈরি করেন। ওই কোচটি পরে ঢাকা-দিনাজপুর রুটে চলাচলকারী একতা আন্তনগর ট্রেনে যোগ করা হয়। এ কারখানা এখন চলছে ধুঁকতে ধুঁকতে। ১৪৬ বছর বয়সী নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানাটি ১১০ দশমিক ২৯ একর এলাকাজুড়ে দাঁড়িয়ে। বিশাল আয়তনের তুলনায় কর্মকাণ্ড তেমন একটা নেই। কারখানায় আছে ২৮টি শপ (উপকারখানা)। কারখানায় পশ্চিম রেলের ব্রডগেজ ও মিটার গেজ রেলপথের যাত্রীবাহী বগি (ক্যারেজ), মালবাহী বগির (ওয়াগন) পিরিওডিক্যাল ওভারহোলিং (পিওএইচ) এবং জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের স্টিম রিলিফ ক্রেন ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেল কোচ ওয়াগন মেরামত করা হয়। এ ছাড়া ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের এক হাজার ২০০ রকমের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির সক্ষমতা আছে। বছরের পর বছর জনবল, অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকটে ধুঁকছে কারখানাটি। তাতে কারখানায় মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্মকর্তা-শ্রমিকরা জানান, কারখানায় এক সময় ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী ছিলেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে ছাঁটাই ও অনেক শ্রমিক-কর্মচারী অবসরে যাওয়ায় চরম শ্রমিক সংকটে পড়েছে কারখানাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারখানায় কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর মঞ্জুরিকৃত পদ আছে তিন হাজার ১৭১টি। এর মধ্যে নিয়োগ আছে এক হাজার ১৪৬ জনের। ৫৫ শতাংশ পদেই জনবল নেই। নেই পর্যাপ্ত বরাদ্দও। চলতি অর্থবছরে ৩৯ কোটি আট লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু মিলেছে ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা এসব তথ্য জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই কারখানায় যাত্রীবাহী কোচ তৈরি শুরু হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারখানায় এখন নতুন কোচ উত্পাদন করা হচ্ছে না। পুরনো কোচ মেরামত করা হয়। জনবল, অর্থ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংকটে এই কাজও ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকটের ফলে কারখানার যাত্রীবাহী কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। কারখানায় প্রতিদিন তিন ইউনিট লক্ষ্যমাত্রা স্থির থাকলেও অর্জন হচ্ছে দুই ইউনিট। যাত্রীবাহী কোচ মেরামতের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বলতে বোঝানো হয় চার চাকাবিশিষ্ট একটি কোচকে। এ ক্ষেত্রে আট চাকার কোচগুলোকে দুই ইউনিট হিসেবে ধরা হয়।

কারখানায় সময়মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহও মিলছে না। কর্মকর্তারা জানান, মালামাল ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের ফলে কাজের মানও রক্ষা করা যাচ্ছে না। ওই সব নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারে অতিরিক্ত জনবল, শ্রমঘণ্টা ও বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। ১০০ বছরের পুরনো ও মেয়াদ উত্তীর্ণ সনাতন পদ্ধতির প্লান্টস ও মেশিনে চলছে কারখানার মেরামত কাজ। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি রেল কোচ চার বছর পর পর পিরিওডিক্যাল ওভারহোলিং (পিওএইচ), ১২ বছর পর পর জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) করার কথা। এ কারখানায় বরাদ্দ, জনবল সংকট ও কাঁচামালের অভাবে কোচ মেরামতে ওভারডিউ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন কারখানায় নতুন কোচ উত্পাদনের শপটির নাম ছিল ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন শপ বা সিসি শপ। ১৯৮০ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে ২৩০টি নতুন মিটার গেজ কোচ নির্মাণ করা হয় এ কারখানায়। নতুন কোচ নির্মাণে ব্যবহার করা হতো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি। দেশীয় মালামাল ব্যবহার করায় খরচ কম হতো। কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা জানান, আমদানি মূল্যের অর্ধেক মূল্যে সৈয়দপুর রেল কারখানায় নতুন যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণ করা হতো। কিন্তু ১৯৯৩ সালে এসে তত্কালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে সৈয়দপুর কারখানার ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন শপ বন্ধ করে দেয়।

রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুল মোমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকার গণপরিবহনের অন্যতম সেবা খাত হিসেবে রেলওয়েকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আর এ কারখানার জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিসি শপ পুনরায় চালু করে কম খরচে অত্যাধুনিক নতুন ক্যারেজ নির্মাণ করা সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ দেশের অর্থও সাশ্রয় হবে। তিনি সিসি শপ চালু ও কারখানায় জরুরিভিত্তিতে জনবল নিয়োগের দাবি জানান।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কার্স ম্যানেজার মো. আমিনুল হাসান জানান, জনবলের অভাবের পরও কারখানায় প্রতিদিন দুই ইউনিট ক্যারেজ (যাত্রীবাহী কোচ) মেরামত করা হচ্ছে। কারখানা চাঙ্গা রাখতে হলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ  প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্প নিলে ২০১২ সাল থেকে কারখানায় আধুনিকায়নের কাজ হয়। ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অধীন কারখানার ১৭টি শপ সংস্কার, ওয়াটার পাম্প স্থাপন, কারখানার ভেতরের রেলপথ সংস্কার, বিভিন্ন শপে প্লান্টস ও মেশিন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। গত ডিসেম্বরে আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়েছে। তবে কারখানা শতভাগ উত্পাদনক্ষম হয়নি।

সৈয়দপুর রেলওয়ের কারখানা ছাড়াও দেশে আছে পাবর্তীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কারখানা, পার্বতীপুর ডিজেল লোকোমোটিভ কারখানা, পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন কারখানা। এগুলোও চলছে ধুঁকতে ধুঁকতে।

২০০১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গুনবতী-দর্শনা রেলপথে দুর্ঘটনার পর একটি নষ্ট ইঞ্জিন পার্বতীপুর লোকোমোটিভ কারখানায় নেওয়া হয়। ইঞ্জিন মেরামতের জন্য যন্ত্রাংশ কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে বাজেট না থাকায় সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় কারখানার প্রকৌশলীরা মাত্র দেড় কোটি টাকায় ইঞ্জিনটি সচল করেন। এই উদাহরণ দিয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মেধাবী প্রকৌশলী, কারিগর থাকার পরও শুধু আমদানি নির্ভরতার কারণে রেলে লোকসান আরো বাড়ছে। দেশের কারিগররা রেল কোচ তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম রেলব্যবস্থা আছে পাশের দেশ ভারতে। দিনে এক কোটি ৯০ লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করে সে দেশের বিভিন্ন রেল রুটে। ভারতীয় রেলে কর্মচারীই আছেন ১৪ লাখ। আছে ছয় হাজার ৯০৯টি রেলস্টেশন। রেলপথ আছে ৬৩ হাজার ৩২৭ কিলোমিটার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা ছাড়াও উত্তর প্রদেশের বারানসিতে ডিজেল লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ, পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় ডিজেল লোকো মডার্নাইজিং ওয়ার্কশপ, তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি, পাঞ্জাবের কাপুরখালায় রেল কোচ কারখানা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে রেলের চাকা তৈরির কারখানা ও  মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়রে রেলের স্প্রিং তৈরির মতো কারখানা রয়েছে।

ঋণ করে তৈরি করা হবে নতুন কারখানা : রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে রেল কারখানা নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি তৈরি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ব্যয় হবে ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সৈয়দপুরের কারখানার পাশে পতিত জমিতে কোচ ও ওয়াগন তৈরির জন্য নতুন কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকারের কাছ থেকে ঋণ করে আনা অর্থে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তার মধ্যে ভারতের কাছ থেকে ৫৮৪ কোটি টাকা ঋণ সহায়তার আশা করছে বাংলাদেশ। সৈয়দপুরে নতুন কারখানা হলে বছরে ৬০টি কোচ তৈরি করা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাতে করে ভবিষ্যতে কোচ আমদানি কমে যাবে। সৈয়দপুরে ২২২ একর জমির মধ্যে ১১০ একর জমির ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। ১১২ একর জমি পতিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে হবে নতুন কারখানা।

রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক গত মঙ্গলবার রাজধানীতে নীলসাগর ট্রেনে নতুন কোচ সংযোজন করে উদ্বোধনকালে বলেছেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে সৈয়দপুরে নতুন কোচ তৈরির কারখানা করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আগে আমাদের দেশে কোচ তৈরি হতো। তা কেন বন্ধ হয়েছে জানি না। রেলসহ পদ্মা সেতু ছাড়াও নতুন নতুন রেলপথ হবে। তাতে বেশি কোচ লাগবে। আমাদের কোচ তৈরির দক্ষ জনবল আছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কোচ আমদানি করতে হচ্ছে। তাতে আমদানি শুল্ক বাবদই অনেক অর্থ চলে যায়। দেশে তৈরি করলে কোচ আমদানি বাবদ অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। ’

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) মো. শামছুজ্জামান বলেন, নতুন কোচ তৈরির কারখানা গড়তে আমরা প্রকল্প নিচ্ছি। বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ করে সম্ভাব্যতা যাছাই করা হবে।

সুত্র :২৬ জানুয়ারী ২০১৭, কালের কন্ঠ

 

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Be the first to comment on "আমদানিতেই মধু পেয়েছে রেল"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*