অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রণালয়-রেলওয়ে দ্বদ্ব

অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রণালয়-রেলওয়ে দ্বদ্ব

ইসমাইল আলী:
ট্রেন মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে নেওয়া বা মেরামতের পর ইঞ্জিনের সঙ্গে যাত্রীবাহী কোচ সংযোজনের জন্য আনার কাজে ব্যবহার করা হয় শান্টিং লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন)। সাধারণত পুরোনো ইঞ্জিন দিয়েই এ কাজটি করা হয়। তবে এ কাজের জন্য নতুন শান্টিং লোকোমোটিভ কিনতে চায় রেলপথ মন্ত্রণালয়। আর এ প্রকল্পের জন্য এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ঋণ নেওয়া হবে, যদিও প্রস্তাবটি এরই মধ্যে ফেরত দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এআইআইবির অর্থে বাস্তবায়নযোগ্য আরেকটি প্রকল্প নিয়ে একই অবস্থা। যদিও প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য রেলওয়েকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়। গত ১২ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি রেলওয়েতে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে রেলওয়ে ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে দ্বদ্ব।

উল্লেখ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৪ সালে গঠন করা হয় এআইআইবি। চীনের উদ্যোগে গঠিত এ ব্যাংক আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ২০১৫ সালের শেষ দিকে। বাংলাদেশসহ মোট ৩০টি দেশ শুরুতেই যোগ দিয়েছে। আরও কিছু দেশ এর সদস্যপদ লাভের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদস্য দেশগুলোর অবকাঠামো খাতে ঋণ দিতে চাইছে এআইআইবি।

সূত্র জানায়, গত বছর শুরুর দিকে এআইআইবি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তা কমিয়ে তিনটি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়, যাতে এআইআইবি প্রাথমিকভাবে সম্মতও হয়। এগুলো হল ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান কেনা, ৩০টি (২০টি ব্রডগেজ ও ১০টি মিটারগেজ) শান্টিং লোকোমোটিভ কেনা ও রেলওয়ের ইঞ্জিন মেরামতে খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা।

এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে লাগেজ ভ্যান কেনা হচ্ছে। আর নতুন বেশকিছু ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো ইঞ্জিন শান্টিংয়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া নতুন ইঞ্জিনের সঙ্গে খুচরা যন্ত্রাংশও কেনা হবে। তাই এ প্রকল্প দুটিরও প্রয়োজন নেই বলে গত জানুয়ারিতে মত দেয় রেলওয়ে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উপরিউক্ত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে প্রথমটি এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্প এআইআইবির অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা যায় কি না পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য এআইআইবির প্রস্তাব বহাল রাখার বিষয়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

সূত্র জানায়, ৩০টি শান্টিং লোকোমোটিভ কেনায় এআইআইবি থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১৪ কোটি ডলার বা এক হাজার ১২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্রডগেজ প্রতিটি লোকোমোটিভ কেনায় ব্যয় হবে ৪০ কোটি টাকা। আর মিটারগেজ লোকোমোটিভের দাম পড়বে ৩২ কোটি টাকা। যদিও শান্টিং লোকোমোটিভের কার্যক্ষমতা বা হর্সপাওয়ার অনেক কম হয়। ফলে সাধারণ ট্রেন পরিচালনায় এসব লোকোমোটিভ ব্যবহার করা যাবে না। এর চেয়ে কিছু বেশি ব্যয়ে সাধারণ ইঞ্জিনই কেনা যায়।

এদিকে এআইআইবির ঋণে পুরোনো ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা হবে। এতে ব্যয় করা হবে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ৪৩২ কোটি টাকা। তবে রেলে চলমান বিভিন্ন ধরনের পুরোনো ইঞ্জিনের জন্য কোন ধরনের যন্ত্রাংশের ঘাটতি বা প্রয়োজন রয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই কেন্দ্রীয় স্টোর বিভাগে। এজন্য এআইআইবির ঋণেই সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

এর বাইরে এআইআইবির ঋণে দুটি প্রকল্পের সমীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এগুলো হলো ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন আধুনিকায়ন এবং রাজবাড়ীতে একটি আধুনিক ওয়ার্কশপ নির্মাণ। সমীক্ষার পাশাপাশি প্রকল্প দুটির বিস্তারিত নকশাও প্রণয়ন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ডলার বা ৪৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, এআইআইবির ঋণের বিষয়টি তার জানা নেই। কবে ও কখন এ চিঠি রেলওয়েতে গেছে তাও জানেন না। তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। এ অর্থে সেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। শান্টিং লোকোমোটিভ কেন কেনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্র:শেয়ার বিজ,অক্টোবর ২৪, ২০১৭

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।