ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ও ঈদযাত্রা

ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ও ঈদযাত্রা

পবিত্র ঈদুল আজহা অত্যাসন্ন। ইতোমধ্যে গ্রাম-গঞ্জে ঈদ করিতে যাইবার প্রস্তুতি শুরু হইয়া গিয়াছে। অনেকে আগেভাগে রাজধানী ঢাকা ছাড়িতে শুরুও করিয়াছেন। বাসের টিকিট হাওয়া হইয়া গিয়াছে, এখন আর পাওয়া যাইতেছে না। ট্রেনের টিকিট লইয়াও চলিতেছে কাড়াকাড়ি। আমাদের দেশে ঈদ উত্সবের সময় ঘরমুখী মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেনযাত্রাকে বাছিয়া নেন। কেননা তুলনামূলকভাবে ট্রেনযাত্রাই অধিক নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক। এই সময় ট্রেনে এতটাই ভিড় থাকে যে, অনেকে বিপজ্জনকভাবে ছাদেও ভ্রমণ করেন, যদিও তাহা নিষিদ্ধ।

কেহ কেহ ট্রেনের ইঞ্জিনেও চড়িয়া বসেন বা দরজার হাতল ধরিয়া ঝুলিয়া যান। এবারও ট্রেনের টিকিটের জন্য অনেকে স্টেশনগুলিতে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করিতেছেন। কিন্তু এতকিছু করিবার পরও তাহারা কি নিরাপদে ট্রেনে বাড়িতে ফিরিতে পারিবেন? সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হইয়াছে, এবারের বন্যায় সারাদেশে ১৫০ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। ইহার মধ্যে ওয়াশ আউট হইয়া গিয়াছে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার রেলপথ। অর্থাত্ বন্যার পানির তোড়ে সেখানকার মাটি ধুইয়া গিয়াছে । তন্মধ্যে ২২ কিলোমিটার পশ্চিম ও ১১ কিলোমিটার পূর্বাঞ্চলের রেলপথ। ইহার কারণে দুইটি রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রহিয়াছে। শুধু তাহাই নহে, সব মিলাইয়া এই মুহূর্তে ৫০০ কিলোমিটার রেলপথ ঝূঁকিপূর্ণ রহিয়াছে। বিভিন্ন স্থানে আছে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেখানে নড়বড়ে নাট-বল্টুর কারণে ট্রেন চলে ধীরগতিতে। ঈদের সময় সড়কপথের মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুরূপভাবে এইসব ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথও দ্রুত সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।

আমাদের রেলপথগুলিতে নানা মাত্রার ঝুঁকি ও বিপদ রহিয়াছে। একে তো বিভিন্ন স্থানে রেলপথের দুই ধারে বস্তি এলাকা রহিয়াছে, যেখানে ট্রেনের গতি কমিয়া আসে। এমনকি রেলপথের উপর অনেক স্থানে বসে হাট-বাজার। যাহাদের ইহা দেখিবার কথা, তাহারা সকল অনিয়ম দেখিয়াও না দেখিবার ভান করেন। কেহ কেহ এই রকম অনিয়মের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াইয়া পড়েন। তাহা ছাড়া রেলপথের স্লিপার নষ্ট হওয়া, নাট-বল্টু খোয়া যাওয়া ইত্যাদি লাগিয়াই আছে। অনেক জায়গায় রেললাইন গভীরভাবে দাবিয়া গিয়াছে। ইহাতে যে কোনো সময় ঘটিতে পারে দুর্ঘটনা। এবারের বন্যায় রেলপথ সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে গাইবান্ধা জেলায়। ইহা ছাড়া জামালপুর জেলায় পাঁচ ও কুড়িগ্রাম জেলায় অর্ধকিলোমিটার রেলপথ ভাঙিয়া গিয়াছে। এইসব ভাঙা রেলপথ কখন মেরামত করা হইবে? বন্যায় চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথও ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। বগুড়া, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর প্রভৃতি স্থানেও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের দেখা মিলে।

ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথগুলি অবিলম্বে মেরামত না করা হইলে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকিয়াই যাইবে। কোনো কোনো স্থানে বন্যার পানি প্রবাহিত হইবার কারণে রেলপথের নিচ হইতে মাটি ও পাথর সরিয়া গিয়া গর্তও তৈরি হইয়াছে। এইসব রেলপথের প্রতিবন্ধকতা অচিরেই দূর করা প্রয়োজন। আমাদের রেলপথগুলি ঝুঁকিপূর্ণ হইবার উল্লেখযোগ্য বড়ো কারণ হইল অরক্ষিত রেলক্রসিং। অনেক রেলক্রসিং গড়িয়া উঠিয়াছে অবৈধভাবে যেখানে কোনো গেইটম্যান নাই। এই ঈদযাত্রাকালে সেইসব রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিও দূর করা অত্যাবশ্যক।

সুত্র:ইত্তেফাক, ০৩ আগস্ট, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।