বিশেষ সংবাদ

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সচল

নিউজ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সচল হয়েছে। তবে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও সংস্কার শেষ হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে…


টানা দুই বছর বৃদ্ধির পর আয় কমেছে রেলের

সুজিতসাহা:গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ কোটি টাকা কম। যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি, নতুন কিছু সেবা চালু ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এভাবে আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি ভাবাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। গত অর্থবছরে কিছুটা হ্রাস পেলেও আগের দুই অর্থবছরে রেলওয়ের আয় ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেলের আয় হয়েছিল প্রায় ৯০৪ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) এক ধাক্কায় ৪০০ কোটি বেড়ে আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকায়। এরপর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পায় আরো ১৮২ কোটি টাকা। এ সময় রেলওয়ের মোট আয় হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। সেখান থেকে ৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে গত অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ নেমে আসে প্রায় ১ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকায়। রেলওয়ের আয়ের প্রধান দুটি উৎস হলো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাত। রেলওয়ের গত অর্থবছরের আয় খাত পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় অন্যান্য খাতে বাড়লেও মূলত এ দুটি খাতেই আয় হ্রাস পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিক আয়ে। প্রতি বছর রেলের বহরে নতুন নতুন ট্রেন যুক্ত হচ্ছে। পণ্য পরিবহন খাতেও ব্যবসায়িক ও সরকারি প্রয়োজনেও রেলের ব্যবহার বেড়েছে। ভাড়া বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যাত্রীদের মধ্যে রেলভ্রমণের আগ্রহও দেখা যাচ্ছে বেশি। বাড়ানো হয়েছে বহরের কোচ সংখ্যাও। রেলওয়ের অবকাঠামো খাতে গত এক দশকে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করেছে সরকার। এছাড়া ট্র্যাক উন্নয়ন, নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ লোকবলও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও সেবার মানে নতুনত্ব আনতে না পারায় বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রত্যাশিত মাত্রায় আয় করতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রেলওয়ের হিসাব বিভাগ থেকে সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলভবনে সংস্থাটির আয়ের হিসাব পাঠানো হয়। এটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ের যাত্রী খাতে আয় হয়েছে ৮৮২ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল ৯০৫ কোটি ৩০ লাখ ৩১ হাজার টাকা। গত অর্থবছরে পণ্য পরিবহন খাতে রেলওয়ের আয় ছিল ২৬৬ কোটি ৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৯৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এছাড়া গত অর্থবছরে পার্শেল খাতে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও বিবিধ খাতে ৩০৪ কোটি ৭৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা আয় করেছে রেলওয়ে। দুটি খাতেই আয়ের ধারা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। আয় হ্রাসের কারণ হিসেবে ইঞ্জিনস্বল্পতাকে দায়ী করছেন রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা। বিভাগটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, রেলের উন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইঞ্জিন। এটি না থাকায় রেলওয়ে কার্যত ধুঁকছে। কোচ আমদানি, ট্র্যাক সংস্কার ও নতুন ট্র্যাক নির্মাণ হলেও ইঞ্জিনস্বল্পতায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এ কারণে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য পরিবহন ধীরে ধীরে কমে আসছে। এছাড়া অতিরিক্ত কোচ সংযোজনে রেলভবন থেকে অনুমতি নেয়ার নিয়মটিও রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির অন্তরায়। রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকট বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। যাত্রী চাহিদা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চালাতে পারছে না রেলওয়ে। এছাড়া গত কয়েক বছরে ট্রেন পরিচালনার ওয়ার্কিং টাইম টেবিল বাস্তবায়ন না করায় রেলওয়ে সেবার মানেও পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন রেলসংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সড়কপথের দ্রুত উন্নতিও রেলওয়ের আয় হ্রাসের ক্ষেত্রে কিছুটা অনুঘটকের কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এক সময়ের ব্যস্ততম রেলরুট ঢাকা-চট্টগ্রামে রেলওয়ের যাত্রী চাহিদায় এখন কিছুটা মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। এ রেলপথের ৩২১ কিলোমিটারের সিংহভাগ ডাবল লাইন হয়ে যাওয়ার পরও দ্রুতগামী ট্রেনের গন্তব্যে পৌঁছতে ন্যূনতম সময় লাগে সোয়া ৫ ঘণ্টা। রেলওয়ের পক্ষ থেকে এ রুটে যাতায়াতের (বিরতিহীন ট্রেন) সময় সাড়ে ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হলেও সেটি কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকার মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীত হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলের বদলে সড়কপথকেই বেছে নিচ্ছেন অনেক যাত্রী। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে রেলসেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি রেলওয়ে লাভজনক খাতে পরিণত হবে। সুত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ০৫, ২০১৯


ট্রেনের দায়িত্ব ফেলে আত্মীয়ের বাড়িতে, গার্ড বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক:ট্রেনের গার্ড আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যাওয়ায় প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে ছিলেন। পরে গার্ডকে ডেকে আনতে হয়েছে। এরপর ট্রেনটি যাত্রা করে। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট শাখা রেলপথে গত মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর ওই…


‘ফিরিয়ে দাও আমার রেলপথ’

নিউজ ডেস্ক: ‘ফিরিয়ে দাও আমার রেল পথ’ এমন দাবী জয়মনির হাটের ৮৫ বছরের বৃদ্ধ কৃষক হযরত আলীর। তিনি বলেন, ভূরুঙ্গামারী রেল স্টেশনের পাশেই জয়মনিরহাটে তার বেড়ে ওঠা। ঐসময় স্টেশন এলাকা ছিলো জাঁকজমক ও কোলাহলপূর্ণ। কত…


ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

নিউজ ডেস্ক: ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বেনাপোল-ঢাকাগামী ৭৯৫ নম্বর আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেসে’র দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার হলে রাতেই ওই রুটে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঈশ্বরদী জংশন…


বিনা মূল্যে ৩৮০ টিকিট চায় কৃষক লীগ, বিব্রত রেলওয়ে

সুজিত সাহা : আগামী ৬ নভেম্বর ঢাকায় কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম থেকে কয়েকশ প্রতিনিধি এতে যোগ দেবেন। তাদের জন্য রেলওয়ের কাছ থেকে বিনা মূল্যে ৩৮০টি স্লিপিং বার্থ টিকিট চেয়েছে কৃষক লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি। সংগঠনটির এই আবদারে বিব্রত রেল কর্তৃপক্ষ। বিনা মূল্যে টিকিট দেয়ার সুযোগ না থাকার বিষয়টি রেলওয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সংগঠনটিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার শীর্ষ নেতারা ফ্রিতে টিকিট নিতে নাছোড়বান্দা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর ফ্রিতে টিকিট নিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে (সিসিএম)  উদ্দেশ করে চিঠি দেয় বাংলাদেশ কৃষক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি। সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৬ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলাদেশ কৃষক লীগ জাতীয় কাউন্সিল-১৯’-এর প্রথম অধিবেশন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ওই কাউন্সিলে ১৯০ জন কাউন্সিলর যোগ দেবেন বলে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জানানো হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে ৫ নভেম্বর তূর্ণা-নিশীথায় (চট্টগ্রাম-ঢাকা) ট্রেনের ১৯০টি প্রথম শ্রেণীর সিট বা চারটি বগি এবং ৬ নভেম্বর ফিরতি পথে তূর্ণা-নিশীথা (ঢাকা-চট্টগ্রাম) ১৯০টি প্রথম শ্রেণীর সিট বা চারটি বগি বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। নিয়ম না থাকায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের এ চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও কমিটির নেতারা মৌখিকভাবে এ দাবি জানিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি দলসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচিকে সামনে রেখে টিকিট কিনতে চাইলে রেলওয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করে। কিন্তু এই প্রথম রেলে ফ্রি টিকিটের দাবি এসেছে। একটি স্বনামধন্য রাজনৈতিক সংগঠনের এ ধরনের কাজে রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা বিব্রতবোধ করছেন। রেলস্টেশন ও বাণিজ্যিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে ফ্রি টিকিটের কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রদানসাপেক্ষে ট্রেনে ফ্রিতে ভ্রমণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা একটি ট্রেনের সর্বোচ্চ শ্রেণীর টিকিটও ফ্রিতে সংগ্রহ করতে পারবেন। একটি ট্রেনে চারটি আসন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট পেলেও টিকিটের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি আন্তঃনগর বা অন্যান্য ট্রেনে কোটার মাধ্যমে ২০টি টিকিট অর্ধেক মূল্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি টিকিট অর্ধেক মূল্যে সরবরাহ করা হলেও চাইলে আরো একটি টিকিট পূর্ণ ভাড়া প্রদান করে সংগ্রহ করতে পারবেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ওয়ারেন্টের মাধ্যমে টাকা না দিয়েও টিকিট নিতে পারেন। তবে আন্তঃমন্ত্রণালয় হিসাবের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে টিকিটের টাকা রেলওয়েকে পরিশোধ করা হয়। সম্মেলনে যেতে বিনা মূল্যে টিকিট চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলনের জন্য আমরা টিকিটগুলো চেয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত রেলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্মেলনে যেতে আগামী শনিবারের মধ্যে টিকিট সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রেলের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা-নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১৭টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যে দুটি কোচ এসি বার্থ, একটি নন-এসি বার্থ, সাতটি শোভন চেয়ার এবং সাতটি এসি চেয়ার কোচ থাকে। যদিও কৃষক লীগ আসা ও যাওয়ার জন্য প্রতিটি ট্রেনে চারটি নন-এসি বার্থ শ্রেণীর (১৯০ করে সর্বমোট ৩৮০টি) টিকিট সংগ্রহের আবেদন করেছে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৭৩৫ টাকা হিসাবে এসব টিকিটের মোট ভাড়া হবে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা। এরই মধ্যে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,  রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে ফ্রিতে টিকিট প্রদানের জন্য তদবির করছে কৃষক লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি। সুত্র:বণিক বার্তা, অক্টোবর ২৪, ২০১৯


বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ থমকে গেছে!

সমুদ্র হক :প্রতিক্ষার আর শেষ হয় না। কোথায় জট পেকেছে তাও জানা যায় না। এক বছর ধরে বলা হচ্ছে ‘শীঘ্রই’ শুরু হচ্ছে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুত যোগাযোগের বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ কাজ। গত বছর…


১৬ বছরেও বাড়েনি জমির ইজারামূল্য

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০২ সালের দিকে সিএনজি স্টেশন বা রূপান্তর কারখানা স্থাপনের জন্য জমি ইজারা দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ওই সময় প্রতি বিঘা জমির মাসিক ইজারামূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ১০ হাজার ও অন্যান্য এলাকায় ৫ হাজার টাকা। এরপর ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বাড়ানো হয়নি তা। এছাড়া ইজারা শেষে জমি উদ্ধারেও নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে রেলওয়েকে। এ অবস্থায় সিএনজি স্টেশনের জন্য নতুন করে জমি ইজারা না দেয়ার পক্ষে রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে স্থাপিত সিএনজি ফিলিং স্টেশন বা রূপান্তর কারখানার লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণের পর করণীয় নিয়ে গঠিত এক কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছেসম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।রেলের জমি ইজারা নিয়ে গড়ে ওঠা সিএনজি স্টেশনগুলোর ইজারা নবায়ন, ইজারামূল্য পুনর্নির্ধারণ ও জমি ইজারার জন্য নতুন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত বছরের জুলাইয়ে এ কমিটি গঠন করে রেলওয়ে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব (আইন) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের এ কমিটি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণসহ তিনটি সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে সিএনজি স্টেশনের জন্য নতুন করে রেলের জমি ইজারা না দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রমবর্ধিষ্ণু। রেলওয়ের প্রধান কাজ রেল পরিচালনা করা, জমি ইজারা দেয়া নয়। যদিও বাড়তি আয়ের জন্য নন-কোর ব্যবসা হিসেবে জমি ইজারা দেয়া হয়। তবুও সিএনজি স্টেশনে ইজারা দেয়া জমি পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করতে সমস্যায় পড়তে হয় রেলওয়েকেএসব কারণে নতুন করে আর কোনো সিএনজি স্টেশনে জমি বরাদ্দ না দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে বর্তমানে রেলের জমিতে যেসব সিএনজি স্টেশন রয়েছে, ইজারার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যতদিন বাংলাদেশ রেলওয়ের সেই জমি প্রয়োজন না হচ্ছে, ততদিন তারা সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে এক্ষেত্রে বিদ্যমান ইজারামূল্য পুনর্নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। এ বিষয়ে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ ও ২০০৩ সালের অর্থনীতি আর ২০১৮ সালের অর্থনীতি এক নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির স্বার্থে ইজারামূল্য পুনর্নির্ধারণ করে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন ২০০২ সালে যে হারে ইজারামূল্য প্রদান করা হতো, ২০১৮ সালেও একই হার বহাল থাকবে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রতি বছর বর্ধিত মূল্যে নবায়নের শর্তে জমির ইজারা চুক্তি করতে হবে। একইভাবে নবায়নের প্রথম বছর যে হারে ইজারামূল্য নির্ধারণ হবে, পরের বছর থেকে সেটি ৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এদিকে নতুন করে রেলের জমি ইজারা না দেয়ার খবরে উদ্বিগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রেলপথমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করেছেন চট্টগ্রামের ফোরস্টার সিন্ডিকেট নামের একটি সিএনজি স্টেশনের মালিক। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে সিএনজি স্টেশন চালু করা হয়েছেএমন অবস্থায় যদি আমাদের ইজারার মেয়াদ বাড়ানো না হয়, তাহলে আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবআগামী পাঁচ বছরের জন্য ইজারার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য রেলপথমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ফোরস্টার সিন্ডিকেট সিএনজি স্টেশনের মালিক আনোয়ার হোসেন। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য বলছে, বর্তমানে রেলওয়ের জমিতে তাদের ১০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এজন্য নির্ধারিত হারে রেলওয়েকে ইজারামূল্য দিয়ে আসছে আরপিজিসিএল। অর্থাৎ ঢাকা মহানগরে ১৫ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম মহানগর, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, টঙ্গী পৌরসভার জন্য ১০ হাজার টাকা ও অন্যান্য মহানগরে সিএনজি স্টেশনের জমিপ্রতি ৫ হাজার টাকা ইজারা প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থাকে ইজারা দেয়া জমি উদ্ধারে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে কমিটির প্রতিবেদনে। মূলত এ সমস্যা থেকে বাঁচতে নতুন করে জমি ইজারা দেয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি অনেক বেশি। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা এসব জমির বড় অংশই অব্যবহূত। ফলে ক্রমেই বেহাত হচ্ছে রেলওয়ের জমি। সর্বশেষ হিসাবে সংস্থাটির ৪ হাজার ৩৯১ একরেরও বেশি জমি বেদখল হয়ে আছে, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও জমি উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্যের খবর নেই। জানা গেছে, সারা দেশে রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৬০৬ একর। এর মধ্যে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৪০২ ও পশ্চিমাঞ্চলের জমির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৭০৪ একর। এর প্রায় অর্ধেক বা ৩০ হাজার ৫১৪ একর জমি রেলের অপারেশনাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আর ৩১ হাজার ৯২ একর জমি রেলের নিজস্ব কোনো ব্যবহার নেই। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৩ একর জমি ইজারা দিয়েছে রেলওয়ে। ১৩ হাজার ৪২৩ একর পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকি অংশ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেলের জমি ইজারা দেয়া হয়েছে একটা নীতিমালার মাধ্যমে। ইজারামূল্য বাড়াতে হলে নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য একটু সময় দরকার। সংসদীয় কমিটি কয়েকটি সুপারিশ করেছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’ ১৬ বছর আগের ইজারামূল্য এখনো কার্যকর থাকায় রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। সুত্র:বণিক বার্তা, অক্টোবর ১৭, ২০১৯


ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে ১৮ ট্রেন

গোলাম মোস্তফা আনছারী: রংপুরের তিস্তা সেতুর মেয়াদোত্তীর্ণের ১৮ বছর পর আগামীকাল ১৬ অক্টোবর এর ওপর দিয়ে যাত্রা শুরু করবে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। এছাড়াও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে লালমনিরহাট রেল ডিভিশনের তিস্তা রেলসেতু পারাপার হচ্ছে মেইল, লোকাল ও…


কুড়িগ্রামে রেল বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান

কল্লোল রায়:আজ কুড়িগ্রাম সদরের রেল স্টেশন এলাকার রেল বিভাগের দখলকৃত জমি উদ্ধার অভিযান চালায় রেল বিভাগ। বিভাগীয় স্টেট অফিসার(লালমনিরহাট) মোঃ রেজোয়ানুল হক এর নেতৃত্বে এ অভিযানে অনেক কাঁচা-পাকা বাড়ি,গরুর খমার,মুরগীর খামার উচ্ছেদ করা হয়।এতে অনেক…