বিশেষ সংবাদ

আটকে গেল চুক্তির ৬৫% অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া

ইসমাইল আলী: দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের সরবরাহকৃত ১০ মিটারগেজ ইঞ্জিনে দরপত্রের শর্তানুসারে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়নি। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা এসব ইঞ্জিনের মূল্য প্রায় ৯ মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে। তবে লকডাউনের মধ্যে গত…


শত বছর পেরোলেও চালু হয়নি শান্তাহার-রহনপুর রেলপথ

আব্দুল্লাহহেলবাকী: শত বছর পার হলেও শান্তাহার-রহনপুর রেলপথ প্রকল্প চালু হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ রেলপথ চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সে দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়নি কোনো সরকার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আঁতুড়ঘরে মৃত্যু…


তিন মাসে ভারত থেকে রেলপথে এসেছে এক লাখ টন চাল

নিউজ ডেস্ক: অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য ভারত থেকে কয়েক লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। আমদানি করা এসব চালের একটা বড় অংশ আসছে রেলপথে। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১ লাখ ৩৪৩ টন চাল রেলপথে এসেছে। একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি করা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৬ গম এসেছে রেলপথে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচটি ট্রেনে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয় ১১ হাজার ৬৭৮ টন চাল। ফেব্রুয়ারিতে ১০টি ট্রেনে আসে ২০ হাজার ৯৫০ টন চাল। আর মার্চে ২৮টি ট্রেনে আসে ৬৭ হাজার ৭১৫ টন। এর বাইরে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিন আটটি ট্রেনে এসেছে আরো ১৮ হাজার ৫ টন চাল। চালের পাশাপাশি একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি করা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৬ টন গম পরিবহন করা হয়েছে রেলপথে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৬টি ট্রেনে ৬৩ হাজার ৩৮ টন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০টি ট্রেনে ১ লাখ ৩২০ টন, মার্চে ৩২টি ট্রেনে ৭৩ হাজার ৬১৫ টন ও ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি ট্রেনে আনা হয়েছে ৩০ হাজার ৪৭৩ টন গম। রেলপথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য এখন পর্যন্ত একপক্ষীয়। বাংলাদেশ কেবল রেলপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করতে পারে, রফতানি করতে পারে না। চাল ও গম ছাড়াও রেলপথের মাধ্যমে পাথর, ভুট্টা, ভোজ্যতেল, ফ্লাই অ্যাশ, পার্সেল, কনটেইনার, মোটরযান, ডিজেল, পেঁয়াজ, রসুন, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রতি মাসে ১০০টিরও বেশি পণ্যবাহী ট্রেন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে। গত জানুয়ারিতে ১৩২টি ট্রেনে আসে তিন লাখ টনের বেশি পণ্য। ফেব্রুয়ারিতে ১১১টি ট্রেনে আসে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৬ টন পণ্য। আর মার্চে ১৪০টি ট্রেনে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টন পণ্য আনা হয়। রেলপথে ভারত থেকে আমদানি পণ্য পরিবহনের এ ধারা চলতি মাসেও অব্যাহত রয়েছে। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৫টি ট্রেনে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৭৭ টন পণ্য এসেছে বাংলাদেশে। এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে প্রত্যেক মাসে গড়ে ১৩০টির বেশি ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনগুলোয় ব্যাপকভাবে চাল ও গম পরিবহন করা হচ্ছে। চারটি সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেনগুলো চলাচল করছে। চলমান করোনা মহামারীর মধ্যে যেন বাজারে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য আমরা ভারত থেকে রেলপথে পণ্য পরিবহন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু চলমান করোনা পরিস্থিতি নয়, সার্বিকভাবে ভারতের সঙ্গে রেলপথে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত ২২ মার্চ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুই দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী পরিবহন এখনো বন্ধ। তবে রেলে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমও ওই সময় বন্ধ হলেও গত বছরের ৯ মে থেকে তা পুনরায় চালু হয়েছে। প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ৯ মে ভারত থেকে পেঁয়াজবাহী একটি ট্রেন গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর গত ২৬ জুলাই প্রথমবারের মতো রেলপথে ভারত থেকে ৫০টি কনটেইনারে সাবান, শ্যাম্পু, টেক্সটাইল ফ্যাব্রিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়। কনটেইনার ট্রেনটি ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। গত বছরের জুনে প্রথমবারের মতো ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচল করা ট্রেনের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। সূত্র:বণিক বার্তা, এপ্রিল ১৬, ২০২১


ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল

নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিযোগের পর ট্রেন চলাচল শুরু হলেও রেলস্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ মার্চ) দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে আটকে…


খুলনা-ঢাকা রুটে বেড়েছে যাত্রী, বাড়েনি ট্রেন

মাহবুবুর রহমান মুন্না : সড়ক পথে যাত্রায় যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় দিন দিন রেল ভ্রমণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এর ব্যতিক্রম নয় খুলনা-ঢাকা রুটেও।যাত্রীর সংখ্যা বাড়ায় অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হলেও এ রুটে…


বাগেরহাট-পিরোজপুরে হচ্ছে না রেলপথ

ইসমাইল আলী: বর্তমানে দেশের ৪৪টি জেলায় রেলের নেটওয়ার্ক রয়েছে। বাকি জেলাগুলো পর্যায়ক্রমে এ নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ২৫ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে রেলওয়ে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় নতুন রেলপথ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজও…


ব্রিটিশ আমলের রেললাইন চলছে জোড়াতালি দিয়ে

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী : দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পর সিলেট-ঢাকা রেললাইন সচল হয়েছে শুক্রবার রাত ৩টার পর থেকে। এদিকে সিলেট রুটে ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সিলেট…


ট্রেনে নারীদের জন্য কামরা বরাদ্দে নির্দেশনা চেয়ে রিট

নিউজ ডেস্ক: ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।রিটে রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট চারজনকে বিবাদী করা…


রেলওয়ের অনুমতি ছাড়াই লেভেল ক্রসিং স্থাপন এলজিইডির

শামীম রাহমান :বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই অঞ্চল মিলে রেলপথ আছে ৩ হাজার ১৯ কিলোমিটার। রেলের এ নেটওয়ার্কে অনুমতি না নিয়ে ১ হাজার ১৪৯টি লেভেল ক্রসিং গড়ে তুলেছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। অনুমোদনহীন এমন লেভেল ক্রসিং নির্মাণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সব মিলিয়ে সংস্থাটি রেলপথের ওপর গড়ে তুলেছে পাঁচশর বেশি অবৈধ লেভেল ক্রসিং। যদিও গেটম্যানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনুমোদনহীন এসব ক্রসিংয়ে নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিসংখ্যানই বলছে, ২০০৮-২০১৮ সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন যানবাহনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের। আইন অনুযায়ী, রেলপথে লেভেল ক্রসিং নির্মাণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি পাওয়া গেলে রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করতে হয় লেভেল ক্রসিং। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে ৫১৬টি লেভেল ক্রসিং বানিয়েছে এলজিইডি। এর মধ্যে ৩৩২টিই বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে। পশ্চিমাঞ্চলে আছে অনুমোদনহীন বাকি ১৮৪টি লেভেল ক্রসিং। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলো বানানোর সময় এর কোনোটিই করেনি এলজিইডি। শুধু রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা পার করিয়েই দায় সেরেছে সংস্থাটি। যানবাহন থামানোর জন্য গেট কিংবা গেটম্যান—রাখা হয়নি কোনোটিই। নেই সতর্কতামূলক সাইন/সিগন্যালও, যা তৈরি করছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা লেভেল ক্রসিংগুলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন খোদ স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মেজবাহ উদ্দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের গ্রামীণ সড়কগুলোতে অনেক লেভেল ক্রসিং রয়েছে, যেগুলো যথাযথ নিময় মেনে বানানো হয়নি। ফলে মাঝেমধ্যেই এগুলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রেলওয়ের সঙ্গে লেভেল ক্রসিং সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সারা দেশে এলজিইডির কত অবৈধ লেভেল ক্রসিং আছে, সেগুলো আমরা শনাক্ত করছি। অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোকে কীভাবে একটা সিস্টেমের মধ্যে আনা যায়, এ বিষয়ে আমরা রেলওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধ লেভেল ক্রসিং সমস্যার সমাধানে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে এলজিইডি। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমতি নিয়ে বা অনুমতি ছাড়া এলজিইডির যেসব লেভেল ক্রসিং বানানো হয়েছে, সেগুলোয় রেলগেট, গুমটি ঘর নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহ করা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। পাশাপাশি এলজিইডি নতুন যেসব সড়ক নির্মাণ করবে, সেগুলোয় যদি লেভেল ক্রসিং দেয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই কাজটি যথাযথ নিয়ম মেনে করার কথা বলছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এলজিইডি ছাড়াও আরো আট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রেলপথে বিপুলসংখ্যক অবৈধ লেভেল ক্রসিং বানিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ১১টি, ইউনিয়ন পরিষদের ৩৬৩টি, পৌরসভার ৭৯টি, সিটি করপোরেশনের ৩৪টি, জেলা পরিষদের ১৩টি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি, বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি, জয়পুরহাট চিনিকল কর্তৃপক্ষের একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি উদ্যোগে তিনটি, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ৯২টি ও ৩৩টি এমন অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা আসলে কার, তা এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪১২টি। এর মধ্যে গেটম্যান আছে মাত্র ৪৪৬টি লেভেল ক্রসিংয়ে। জনবলের অভাবে এখনো গেটম্যানবিহীন রেলের ৬৮ শতাংশের বেশি লেভেল ক্রসিং। লেভেল ক্রসিংয়ের রেলগেট ওঠানো-নামানোর দায়িত্বে থাকেন গেটম্যান। গেটম্যান না থাকায় ৯৬৪টি বৈধ লেভেল ক্রসিং সুরক্ষা-নিরাপত্তার দিক দিয়ে তাই অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর কাতারেই রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুমোদিত ও অননুমোদিত মিলে দেশে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ২ হাজার ১১৩। বিপুলসংখ্যক লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এগারো বছরে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯৭টি। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের। লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় ২০১৪ সালে। ৩৪টি দুর্ঘটনায় ওই বছর মারা যান ৫৪ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয় ২০১৭ সালে। সে বছর ১৫টি দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। বিপুলসংখ্যক বৈধ লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকার কারণ হিসেবে জনবল সংকটের কথা বলছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, জনবলের অভাবে অনেক বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে গেটকিপার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গেটকিপার নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর সিংহভাগই যেহেতু বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বানিয়েছে, সেহেতু সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে লেভেল ক্রসিংয়ের সড়কে গতিরোধক দেয়ার কথাও বলছেন তারা। গতিরোধক বসানো নিয়ে গতকাল রেলভবনে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সূত্র:বণিক বার্তা, জানুয়ারি ১১, ২০২১


শনির দশা কাটছেই না

দেবাশীষ দেবু : যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামাল সংকটসহ নানা অজুহাতে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। সর্বশেষ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর গত ৫ অক্টোবর চালু হয়েছিল এ প্লান্ট। তবে ১০ দিনের মাথায় কাঁচামাল সংকটের দোহাই দিয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। এরপর চলতি মাসের শুরুতে কারখানাটিতে আবার উৎপাদন শুরু হলেও রোববার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এভাবে গত পাঁচ বছর মিলিয়ে ১২ মাসও চালু রাখা যায়নি এ প্লান্ট। একসময় দেশের একমাত্র স্লিপার প্লান্ট ছিল সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। গত এক দশকে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে আরো কয়েকটি স্লিপার কারখানা গড়ে ওঠে। রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তারাই ওসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ করে দিতেই নানা অজুহাতে রেলওয়ের মালিকানাধীন এ প্লান্ট বারবার বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও সংশ্লিষ্টরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্লান্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতকে ১৯৮৮ সালে রেলওয়ের অধীনে স্থাপিত হয় দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে এখানে উৎপাদন শুরু হয়। প্রথমে দৈনিক ২৬৪টি স্লিপার উৎপাদন হতো। বর্তমানে এখানে বছরে ৫০ হাজার স্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্লান্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, কংক্রিট স্লিপার তৈরির অন্যতম উপাদান হচ্ছে সিমেন্ট, পাথর ও বালু। ছাতকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিমেন্ট কারখানা অবস্থিত। এছাড়া এখানে উন্নতমানের পাথর ও বালু পাওয়া যায়। এ কারণে সরকার কংক্রিট স্লিপার প্লান্টটি ছাতকে প্রতিষ্ঠা করে। তবে স্লিপারের প্রধান কাঁচামাল হাইটেনশন স্টিল রড, ইনসার্ট স্টিল পাত ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ছাতক রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ছাতকে তৈরি এসব স্লিপার রেলওয়ে লাইনের নিয়মিত সংস্কারকাজে ব্যবহূত হয় বেশি। এছাড়া রেলওয়ের বড় প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব কাজ হয়, সে কাজের জন্যও স্লিপার দরকার হয়। চালুর পর এ কারখানায় টানা উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও ২০০০ সালের পর থেকেই শুরু হয় নানা গোলযোগ। বিভিন্ন সমস্যায় বারবার বন্ধ হতে থাকে প্লান্টটি। ২০১২ সালে একটানা প্রায় এক বছর বন্ধ থাকে। ২০১৪ সালের মার্চ থেকে আবার একটানা বন্ধ থাকে প্রায় এক বছর। এ সময় থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অন্তত ১০ বার বন্ধ হয় প্লান্টটি। প্রতিবারই বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময়। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী ছাতকে এ প্লান্ট পরিদর্শনের সময় দ্রুত চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশে গড়ে ওঠা বেসরকারি স্লিপার কারখানাগুলোকে সুবিধা করে দিতে নানা অজুহাত দেখিয়ে বারবার প্লান্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তারা যুক্ত থাকায় রেলের কাজে ছাতকের ওই প্লান্ট থেকে স্লিপার নেয়া কমিয়ে দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ প্লান্টের এক শ্রমিক বলেন, এ কারখানার ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষেরও তেমন কোনো আগ্রহ নেই। ফলে তুচ্ছ কারণেও উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। উৎপাদিত স্লিপারের মান নিয়েও তেমন নজরদারি করা হয় না। ফলে স্লিপার কারখানাটির কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্লান্টের দায়িত্বে থাকা ছাতকে রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী হাবিব উল্লাহ বলেন, এ প্লান্ট অনেক পুরনো হয়ে গেছে। তাই মাঝে মাঝেই এখানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ওভারহোলিং করতে হয়। এছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব জনবল নেই। তাই ঠিকাদারের মাধ্যমে জনবল দিয়ে চালাতে হয়। অনেক সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। আবার কাঁচামাল সংকটও রয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন সময় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে এ কারখানাটিতে যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালু রাখা যায়, সে ব্যাপারে রেলওয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার কথায়, সর্বশেষ করোনার কারণে এ বছর এখানে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ায় যান্ত্রিক কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সূত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ০৯, ২০২০