অনিয়ম ও অসংগতি

ঝুঁকিতে ঈশ্বরদী জংশনের রেলওয়ে ফুটওভারব্রিজ

নিউজ ডেস্ক: চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ফুটওভারব্রিজ। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের সময় কাঠের পাটাতন ব্যবহার করা হয়। স্বাধীনতার পর আশির দশকে কাঠের পাটাতন পরিবর্তন করে কংক্রিটের পাটাতন স্থাপন করা…


নারায়ণগঞ্জে রেললাইনের দুপাশ জুড়ে অবৈধ বাজার

হাবিবুর রহমান বাদল: নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান ও কাঁচাবাজার। এসব দোকান ও বাজার চলে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। অবৈধ দোকান ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বা উচ্ছেদে কোনো পদক্ষেপ…


তিন রেল স্টেশনের দায়িত্বে এক জন !

একটি রেল স্টেশনের মাস্টার তিনটি রেল স্টেশনের দায়িত্ব পালন করছেন। স্টেশনমাস্টার হাবিবুর রহমান জয়পুরহাট রেল স্টেশনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ঐ জেলার তিলকপুর ও বগুড়া জেলার সান্তাহার রেল জংশনের স্টেশনমাস্টার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে…


ফেঞ্চুগঞ্জ রেল স্টেশনে ঝুলছে তালা

ফেঞ্চুগঞ্জ সিলেটের শিল্পসমৃদ্ধ একটি উপজেলা। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এখানকার রেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন কোনো ট্রেনও থামে না এই স্টেশনে। এক সময়ের কোলাহলমুখর ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনটি এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। রেলওয়ে সূত্র জানায়,…


প্রকল্পের ভারে ধুঁকছে রেল

শিপন হাবীব  : উন্নয়ন প্রকল্পের ভারে ধুঁকছে রেল। বর্তমানে রেলওয়েতে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আগে বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৯টি উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার…


৩৯% বেশি দামে ২০০ কোচ কিনতে যাচ্ছে রেলওয়ে

ইসমাইল আলী: যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ২০০ ব্রডগেজ কোচ কিনবে রেলওয়ে। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) ঋণে কোচগুলো কেনার কথা রয়েছে। এগুলোর মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৩১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যদিও সম্ভাব্যতা যাচাইকালে এ ব্যয়…


রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ মার্কেট

সৈয়দপুরে রেললাইন ঘেঁষে দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ মার্কেট। রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, ১ নম্বর রেল গেটসংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ মার্কেট। আর এ মার্কেটে সব সময় থাকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। সৈয়দপুর রেলওয়ে…


নতুন রেললাইনে ২০% পাথর কম, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

শামীম রাহমান টঙ্গী -ভৈরব বাজার সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুনে। নকশা ও দরপত্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী  রেলপথটিতে স্লিপারের নিচে পাথরের (ব্যালাস্ট) পুরুত্ব কমপক্ষে ২২০ মিলিমিটার হওয়ার কথা। অথচ পাথর দেয়া হয়েছে এর চেয়ে ২০ শতাংশ কম। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সরেজমিন পরিদর্শনে রেলপথটিতে পাথরের পুরুত্ব পাওয়া গেছে ১৫০-২০০ মিলিমিটার। একইভাবে পাথর কম দেয়া হয়েছে রেলপথটির শোল্ডারেও। পাথর কম থাকায় রেলপথটিতে ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রকৌশলীরা। বাংলাদেশ রেলওয়ের টঙ্গী-ভৈরব বাজার সেকশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের চারটি অঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকায় চলাচল করা ট্রেনগুলো সেকশনটি ব্যবহার করে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-নোয়াখালী রুটের ২৭ জোড়া ট্রেন প্রতিদিন টঙ্গী-ভৈরব বাজার সেকশনটি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ২০ জোড়া এক্সপ্রেস ট্রেন, এক জোড়া কমিউটার, দুই জোড়া মেইল ও চার জোড়া কনটেইনার এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। ৬৪ কিলোমিটার মূল লাইন ও ২২ কিলোমিটার লুপ লাইনের সেকশনটি সিঙ্গেল থেকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। পরের পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রেললাইনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগে ১২ বছর। ২ হাজার ১৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেলপথটি পুরোপুরি চালু হয় ২০১৮ সালের জুনে। নকশা ও দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী টঙ্গী-ভৈরব বাজার রেলপথের মূল লাইনে স্লিপারের নিচে পাথরের পুরুত্ব থাকার কথা ২২০ মিলিমিটার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিদর্শনে লাইনটিতে পাথরের পরিমাণ এ মাত্রায় পায়নি আইএমইডির প্রতিনিধি দল। এর মধ্যে রেলপথটির ২৮৯/৮-৯ কিলোমিটারে ১৮০ মিলিমিটার, ২৮৭/৩-৪ কিলোমিটারে ১৭০, ২৮১/৯-২৮২/০ কিলোমিটারে ১৬০, ২৭৯/৩-৪ কিলোমিটারে ১৭০, ২৭২/৬-৭ কিলোমিটারে ১৭৫, ২৬২/২-৩ কিলোমিটারে ১৭০, ২৫৫/৭-৮ কিলোমিটারে ১৭০, ২৫১/৫-৬ কিলোমিটারে ১৫০, ২৪১/২-৩ কিলোমিটারে ১৬০ ও ২৩৪/৯-২৩৫/০ কিলোমিটারে পরিদর্শনকালে স্লিপারের নিচে পাথরের পুরুত্ব ২০০ মিলিমিটার পাওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে টঙ্গী-ভৈরব বাজারের মূল রেললাইনে পাথরের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু মূল রেললাইনই নয়, উল্লিখিত স্থানগুলোর শোল্ডারেও রয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে কম পাথর। নকশা অনুযায়ী, রেললাইনটির শোল্ডারে পাথরের পুরুত্ব হওয়ার কথা ৪২০ মিলিমিটার। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে রেলপথটির ২৮৯/৮-৯ কিলোমিটারে ৩০০ মিলিমিটার, ২৮৭/৩-৪ কিলোমিটারে ৩৮০, ২৮১/৯-২৮২/০ কিলোমিটারে ৩৯০, ২৭৯/৩-৪ কিলোমিটারে ৩৮০, ২৭২/৬-৭ কিলোমিটারে ৩৭০, ২৬২/২-৩ কিলোমিটারে ৪০০, ২৫৫/৭-৮ কিলোমিটারে ৩৪০, ২৫১/৫-৬ কিলোমিটারে ৩৩০, ২৪১/২-৩ কিলোমিটারে ৩৫০ ও ২৩৪/৯-২৩৫/০ কিলোমিটারে পরিদর্শনকালে শোল্ডারে পাথরের পুরুত্ব পাওয়া গেছে ৩৯০ মিলিমিটার। সামগ্রিকভাবে রেলপথটির শোল্ডারে পাথর কম রয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। রেললাইনে পাথর কম থাকার বিষয়ে আইএমইডি বলছে, ‘কিছু’ পাথর হয়তো নিত্যনৈমিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষয় হয়ে গেছে। পাথর কম থাকার বিষয়টি তদন্তপূর্বক নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমইডি। বাংলাদেশ রেলওয়েতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গী-ভৈরব বাজার রেললাইনে ব্যবহারের জন্য সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৪৫ ঘনমিটার পাথর সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ বলছে, সংগৃহীত পাথরগুলো শতভাগ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে শতভাগ ব্যবহার হলে রেলপথটি চালুর দেড় বছরের মাথায় ২০ শতাংশের বেশি পাথর কমে যাওয়ার কোনো কারণ জানাতে পারেননি রেলওয়ের প্রকৌশলীরা। সদ্য নির্মিত টঙ্গী-ভৈরব বাজার রেলপথ পরিদর্শন করে আইএমইডি পাথরের পরিমাণ কম পেলেও বিষয়টি সম্পর্কে এখনো জানেন না রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আইএমইডি কিংবা রেলওয়ের এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতেও রাজি নই। সূত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ০৮, ২০২০


নারায়ণগঞ্জে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

হাবিবুররহমানবাদল: মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে, কেউ হেডফোনে গান শুনতে শুনতে, কেউ আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অরক্ষিত রেলক্রসিং পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনেকাটা মৃত্যুর দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে নগরবাসীর। তারপরও যেন কিছুতেই থামছে না ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের দৃশ্য। শহরের চাষাঢ়া রেলক্রসিং থেকে শুরু করে ১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত রেললাইনের ওপর দিয়ে অহরহ মানুষ যাতায়ত করছে। তার ওপর ১ নম্বর গেট থেকে ২ নম্বর গেট পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশ জুড়ে শত শত অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। আর এসব দোকানে মালামাল কিনতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে নগরবাসী। শহরের উকিলপাড়া, গলাচিপা, বালুর মাঠসহ বেশ কয়েকটি লেভেলক্রসিং দিয়ে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, ছোট-বড় যানবাহন। ফলে সময় বাঁচানোর নামে জীবনবাজি রাখতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছেন অনেকে। এভাবে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটলেও সচেতন হয়নি মানুষ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উকিলপাড়া রেলক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রেললাইনের দুই পাশে অবৈধভাবে লোহার অবকাঠামো দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কিছু দোকান-পাট। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ রেলক্রসিং দিয়ে রিকশায় করে, অনেকে আবার পায়ে হেঁটে পার হচ্ছেন। ট্রেন আসছে দেখেও অবলীলায় রেলক্রসিং পার হচ্ছেন তারা। মাত্র কয়েক হাত দূরে ট্রেন দেখেও যাত্রী নিয়ে পার হচ্ছে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা। এভাবেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছেন মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ মিয়া বলেন, এ লেভেলক্রসিংয়ে সিগন্যালবার ও গেটম্যান নেই। বেশ কয়েকবার মানুষ ও যানবাহন পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে লেভেলক্রসিং পার হতে হয়। রেললাইন সংলগ্ন একটি মার্কেটের এক দোকানদার বলেন, ‘এখানে লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যান ও সিগন্যালবারের প্রয়োজনীয়তা আমরা ছাড়া আর কেউ উপলব্ধি করে না। ঝুঁকি নিয়ে আমাদের লেভেলক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ এলাকার ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা নিরুপায়।’ পথচারী রিপন আহমেদ বলেন, ‘এখান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই এ ধরনের চিত্র আমাদের চোখে পড়ে। মানুষ দ্রুত পার হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে পার হতে চায়। ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা আরো জানান, ‘এটি শহরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রেলক্রসিং। এখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া ও অন্যান্য এলাকায় যাতায়াত করে। পাশাপাশি এসব এলাকা থেকে কাজ শেষে প্রতিদিন তারা আবার নিজ বাড়িতে ফেরেন এ রেলক্রসিং পার হয়ে। কিন্তু এ রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান বা সিগন্যালবার। এক সময় বাঁশ দিয়ে দুই পাশ আটকে দিতাম আমরা। সেই বাঁশ ভেঙে যাওয়ায় ক্রসিং পার হতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয় আমাদের। ’ নারায়ণগঞ্জ স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘উকিলপাড়া রেলক্রসিংটি আমাদের তথা রেলওয়ের অনুমোদিত না। তবে চলমান ডাবল রেল লাইন প্রকল্পের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সবগুলো রেলক্রসিংয়ের জন্য সিগন্যালবার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সূত্র:ইত্তেফাক,  ০৭ নভেম্বর, ২০২০


শাস্তি না হওয়ায় রেলে বন্ধ হচ্ছে না তেল চুরি

আনু মোস্তফা: কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না রেলের তেল চুরি। দুই অঞ্চলে রেলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার তেল চুরি হচ্ছে। লোকোশেড ছাড়াও পাওয়ার কার, ডিপো ও ট্রেন ইঞ্জিন থেকেই তেল চুরির ঘটনা ঘটছে। তেল চুরির…