অনিয়ম ও অসংগতি

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে বেড়েছে বিনা টিকিটে ভ্রমণ

নিউজডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারীর পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে রেলওয়ের স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা। কিন্তু দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোয় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দাঁড়িয়েই যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই তারা ভাড়া না দিয়েই ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা নিচ্ছেন। প্রতিদিন এ অঞ্চলের হাজারো যাত্রী বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করলেও এ অনিয়ম ঠেকাতে পারছে না পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্দেশনা না থাকায় স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। তবে যেসব যাত্রী টিকিট ছাড়াই ট্রেনে যাতায়াত করছেন, টিকিট পরীক্ষকরা তাদের জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করছেন। এতে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চলতি বছরের টিকিট পরীক্ষকদের ভাড়া ও জরিমানা আদায় দুই-ই বেড়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিনা টিকিটের যাত্রীর কাছ থেকে কৌশলে ভাড়ার নামে অর্থ আদায় করছেন কর্তব্যরত কিছু গার্ড, টিকিট পরীক্ষক, অ্যাটেনডেন্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, পাওয়ারকার ড্রাইভার এমনকি রেলওয়ে পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। সে টাকা কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরাই রেখে দিচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন পশ্চিম রেলওয়ের কয়েকজন টিকিট পরীক্ষক। টিকিট পরীক্ষকরা জানান, ট্রেনের এক প্রান্তের কোচ থেকে টিকিট যাচাই করে অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই বিনা টিকিটের যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নেমে যাচ্ছেন। সরেজমিনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বিনা টিকিটের যাত্রীদের আটকাতে ট্রেন পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই স্টেশনের প্রবেশপথে অবস্থান নেন টিকিট পরীক্ষক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বিনা টিকিটের যাত্রীদের আটকে ভাড়া আদায়ও করেন তারা। ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক রুবেল ইসলাম বলেন, অনেক সময় জরিমানা আদায়ে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষে ভাড়া নিয়েই যাত্রীদের ছেড়ে দিতে হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, করোনার কারণে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৯টি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্ধ রয়েছে ‘স্ট্যান্ডিং’ টিকিট বিক্রি। তবে স্বল্প দূরত্বের কিছু ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীসংখ্যা ঠেকানো যাচ্ছে না। যারা অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে উঠছেন তাদের কাছে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোনো টিকিট পরীক্ষক ভাড়ার নামে অর্থ নিয়ে রেখে দিচ্ছেন এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির কথা ভাবা হচ্ছে। করোনার মধ্যে কীভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে প্রস্তাব চেয়ে বিভিন্ন ইউনিটে চিঠি পাঠিয়েছেন তারা। প্রস্তাব এলেই বিষয়টি ভেবে দেখবেন। সূত্র:বণিক বার্তা, মার্চ ২১, ২০২১


পোশাকশিল্পের কাঁচামাল নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আটকে আছে ট্রেন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটে এক সপ্তাহ ধরে আটকে আছে একটি পার্সেল ট্রেন। বেনাপোল বন্দর ও রেল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ট্রেনটি বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না। এতে এসব পণ্যের আমদানিকারকরা সমস্যায় পড়েছেন। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল…


অস্বাভাবিক বেশি ব্যয়ে রেলের ১০০ কোচ মেরামত প্রকল্প!

ইসমাইলআলী: অকেজো/অব্যবহৃত ১০০টি যাত্রীবাহী কোচ পুনর্বাসন তথা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে রেলের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে অকেজো এ কোচগুলো মেরামতে ব্যয় ধরা হয়েছে সমজাতীয় অন্যান্য প্রকল্পের চেয়ে…


দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

ইসমাইল আলী: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কিনেছে রেলওয়ে। গত বছর আগস্টে ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করে কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি। তবে ইঞ্জিনগুলোয় দরপত্রের শর্তানুসারে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়নি। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা…


কোটচাঁদপুর স্টেশন এলাকায় প্রায়ই লাইনচ্যুত হচ্ছে ট্রেন

নিউজ ডেস্ক: দর্শনা-যশোর সেকশনের কোটচাঁদপুর ও সাবদারপুর স্টেশন এলাকায় প্রায়ই ঘটছে ট্রেনের লাইনচ্যুতের ঘটনা। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও রেলওয়ের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। রেলের পশ্চিম জোনের এক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ঢাকা থেকে খুলনাগামী…


ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে রিভার্সেল হ্যান্ডেল চুরি

নিউজ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের ভেতর থেকে রিভার্সেল হ্যান্ডেল (ট্রেন চালু ও আগে-পিছে নেওয়ার চাবি) চুরি হয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী থাকা সত্ত্বেও গত রবিবার রাতে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনে ট্রেনটি অবস্থানকালে এ…


দুর্বল লাইন-ইঞ্জিন দুর্ঘটনার কারণ

সজিব ঘোষ, বিশ্বজিৎ পাল বাবু ও ইয়াহইয়া ফজল  :চলতি মাসে আট দিনের ব্যবধানে সিলেট রেলপথে দুটি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর দুর্ঘটনা নিয়ে আবার আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে আজ বুধবার দায়িত্বশীল সবাইকে নিয়ে বৈঠক…


মানহীন স্লিপার এনেছে ঠিকাদার লারসেন

সাইদ শাহীন :খুলনা-মোংলা ৬৫ কিমি রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার কাজ পরিচালনা করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলটি) লিমিটেড। রেলপথ নির্মাণে ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে বিভিন্ন মান ও পরিমাণে স্লিপার সরবরাহ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে সরবরাহকৃত সেই পণ্য বুয়েটের টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বাতিল করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সব পণ্য। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। খুলনা থেকে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ (প্রথম সংশোধনী) প্রকল্পটির ওপর সম্প্রতি নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষা করেছে আইএমইডি। সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলটি) লিমিটেডের সরবরাহ করা পণ্য বুয়েটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির সেসব মালামাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি তার মধ্যে রয়েছে—প্রায় ৪০ হাজার বিজি প্রিপেইড মনো ব্লক কনক্রিট (পিএসসি) স্লিপারস ফর ফিক্সিং ইউআইসি, ছয় সেট পিএসসি স্লিপার ফর ১ ইন ১২ টারমাউনটস উইথ ইউআইসি ৬০ কেজি রেলস, সিএমএস ক্রসিং অ্যান্ড কার্ভ সুইচ, ৩৫ সেট বিজি ওয়ান ইন ১২ টারমাউনটস উইথ ইউআইসি ৬০ কেজি রেলস অন পিএসসি স্লিপার্স উইথ সিএমএস ক্রসিং, ২৩ সেট বিজি ওয়ান ইন ৮ দশমিক ৫ টারমাউনটস উইথ ইউআইসি ৬০ কেজি রেলস অন পিএসসি স্লিপার্স উইথ সিএমএস ক্রসিং। মানহীন পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতাসহ নানা কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না প্রকল্পটি। তিন বছরের প্রকল্পটি ১০ বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আইএমইডির তথ্যমতে, ২০১০ সালে খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়। তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৭০ শতাংশ। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে অগ্রগতি ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এখন প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। চলতি বছরের ডিসেম্বর সময়ে প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও মানহীন মালামাল সরবরাহ ও ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলে আগামী বছরের জুনের আগে শেষ প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করা প্রায় অসম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটির ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। যথাযথ মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানহীন কোনো পণ্য দিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না। যথাযথভাবে মান পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে পণ্য নেয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প কার্যক্রম শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। ছোট ছোট বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ১০ বছরের বেশি সময় পার হলেও জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৬৯ শতাংশ। খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ছিল ১ হাজার ২০২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ও সরকারের নিজস্ব তহবিল ৫১৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবায়নে বিলম্ব ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শেষে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। এতে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও প্রকল্প সহায়তা ছিল ২ হাজার ৩৭১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে গেছে ২ হাজার ৮০ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রমে পাইলিংয়ে জটিলতা মেটাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। আটটি স্টেশনের মধ্যে দুটি স্টেশন বিল্ডিংয়ের (আরাংঘাট ও মোহাম্মদপুর নগর) ছাদ করা হয়েছে। অন্যান্য রেল স্টেশনের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে ট্র্যাক নির্মাণ ও সিগন্যালিংয়ের কাজ সরেজমিনে এখনো শুরু হয়নি। এছাড়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি অনভিজ্ঞ সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করায় দীর্ঘসূত্রতা বাড়ছে। রেললাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৫৪ শতাংশ। আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটি আইএমইডি সম্প্রতি নিবিড় পরিবীক্ষণ করেছে। সমীক্ষায় উঠে আসা বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সমাধানের উপায়ও বের করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি জনগণের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও দক্ষতার মাধ্যমে মানসম্পন্ন প্রকল্প সম্পন্ন করার। প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নে বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছে আইএমইডি। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের রেললাইনের পিছিয়ে থাকা কাজ এগিয়ে নিতে যথাযথ জনবল নিয়োগ দেয়া ও টার্গেট অনুযায়ী ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে জনবল নিয়োগে বরাদ্দ ও কাজে ব্যয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বক্ষণিক মনিটর করতে হবে। কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে কাজের গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেয়া ও চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঠিকাদারের আইপিসি পরিশোধ ও পরামর্শকদের বিলও সময়মতো পরিশোধ করতে বলেছে আইএমইডি। এছাড়া প্রকল্পের আগের পরিকল্পনা সংযুক্ত করে নতুন রেললাইন হিসেবে ট্রেন অপারেশন, স্টেশন মাস্টার, স্থাপন ও রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, যথাযথ মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। তাই সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সঠিক ও মানসম্পন্ন মালামাল ক্রয় করে প্রকল্প শেষ করার জন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। ভূমিসংক্রান্ত জটিলতাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। সূত্র:বণিক বার্তা, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১


কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ছাড়া বিরতি নেই কোনো ট্রেনের

নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শতবর্ষী তালশহর রেল স্টেশনে আগের মতো নেই যাত্রীদের উপস্থিতি। এই স্টেশনে বর্তমানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি হয় না। শুধু ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (ডাউন) তালশহর স্টেশনে বিরতি করে। ট্রেনের যাত্রাবিরতি না…


দ্রুত আয়ু হারাচ্ছে রেলের ওয়াগন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সাধারণত একটি ২০ ফুট কনটেইনারে সর্বোচ্চ ৩০ টন ও ৪০ ফুট কনটেইনারে ৩০ দশমিক ৫ টন পণ্য পরিবহন করা হয়। তবে চট্টগ্রাম-ঢাকা আইসিডির মধ্যে চলাচল করা বিএফসিটি ওয়াগনগুলোতে নিয়মিত পরিবহন করা হচ্ছে এর চেয়ে বেশি পণ্য। এতে কনটেইনার পরিবহনের ওয়াগনগুলোতে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি। দ্রুত কমে যাচ্ছে অর্থনৈতিক আয়ু। এমন পরিপ্রেক্ষিতে কনটেইনার শিপিং এজেন্টদের নির্ধারিত ওজনসীমার মধ্যেই পণ্য পরিবহনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়েতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সব মিলিয়ে ১৩৯টি অতিরিক্ত ওজনের কনটেইনার পরিবহন করা হয়েছে। প্রতি মাসেই এ রকম হারে অতিরিক্ত ওজনের কনটেইনার পরিবহন করছে সংস্থাটি। যেসব কনটেইনারের ওজন নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি, সেগুলো পরিবহনের ক্ষেত্রে কনটেইনার শিপিং এজেন্টদের রেলওয়ের কাছে আবেদন করতে হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ের সিএমই (পূর্ব) সিওপিএসের (পূর্ব) অনুমোদন দেয় সেগুলো পরিবহনের। বর্তমানে রেলওয়েতে লোকোমোটিভ ও রোলিংস্টকের সংকট থাকায় ওভারওয়েট কনটেইনার পরিবহন করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সাধারণ কনটেইনার ট্রেন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডিতে পৌঁছতে সময় নেয় ১২-১৩ ঘণ্টা।  কিন্তু কনটেইনারের ওজনসীমা বেশি হলে প্রয়োজন হয় বিশেষ ট্রেনের। অতিরিক্ত ওজনবাহী কনটেইনার ট্রেনটির নম্বর ৬০৯। এ ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয় ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। পাশাপাশি রাতের বেলা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। কম গতি আর রাতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অতিরিক্ত ওজনবাহী একটি কনটেইনার ট্রেন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডিতে পৌঁছতে তিনদিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওভারওয়েট কনটেইনারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। টানা ওভারওয়েট কনটেইনার পরিবহনের কারণে রেলওয়ের ৯৪ সিরিজের বিএফসিটি ওয়াগনের আন্ডার গিয়ার ফিটিংসে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে যান্ত্রিক ত্রুটি। দ্রুত কমে যাচ্ছে আয়ুষ্কাল। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিক্সা) চেয়ারম্যান বরাবর আনুষ্ঠানিক একটি চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) এএমএম শাহনেওয়াজ। চিঠিতে তিনি শিপিং এজেন্টদের ৪০ ফুট কনটেইনারে ৩০ দশমিক ৫ টন এবং ২০ ফুট কনটেইনারে ৩০ টনের মধ্যে ওজন সীমিত রেখে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। ১৯৮৭ সাল থেকে কনটেইনার পরিবহন শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডির (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) মধ্যে কনটেইনার পরিবহন করছে সংস্থাটি। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিএফসিটি কনটেইনার আছে ৪৬৬ ইউনিট। ২০১৬-১৭ অর্থবছর ৭ লাখ ৪২ হাজার টন কনটেইনার পরিবহন করেছিল রেলওয়ে। পরের অর্থবছর (২০১৭-১৮) কনটেইনার পরিবহন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮১ হাজার টনে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলে ৭ লাখ ৬ হাজার টন কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে যত কনটেইনার পরিবহন হয়, তার মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ রেলপথে পরিবহন হচ্ছে। কনটেইনার পরিবহনকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে ২০১৬ সালের ১৭ মে সিসিবিএল প্রতিষ্ঠা করেছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সুপারিশে ভারতের কনটেইনার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (কনকর) আদলে গড়ে তোলার কথা সংস্থাটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার চার বছর পার হলেও সিসিবিএল কোনো কাজই করতে পারেনি। রেল ভবনে কোম্পানিটির জন্য বরাদ্দ আছে মাত্র দুটি কক্ষ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকলেও কোম্পানি সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চুক্তিতে। কোনো জনবলও নেই। এখন পর্যন্ত কনটেইনার পরিবহন পরিচালনাও শুরু করতে পারেনি সংস্থাটি।