বাংলাদেশ রেলওয়ে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৮ টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন

নিউজ ডেস্ক: গতকাল দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২ নম্বর জেটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া ইঞ্জিন আনলোড করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের পর ‘ডামি’ চাকা লাগিয়ে ইঞ্জিনগুলো প্রাথমিকভাবে ঢাকার টঙ্গী স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান…


রেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করবে ওয়াটার এইড

নিউজ ডেস্ক: রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও সংস্কারসহ ওয়াশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করবে ওয়াটার এইড।গত বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ওয়াটার এইডের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি পারস্পরিক শিখন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন…


শিগগিরই রেলে ১০-১৫ হাজার জনবল নিয়োগ

মোজাহেদুল ইসলাম : রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেলওয়েতে নিয়োগ বিধিমালা সম্পন্ন হয়েছে। এই বিভাগে অনেক জনবলসংকট রয়েছে। জনবলসংকটে ব্যাহত হচ্ছে রেলসেবা। রেলসেবা ত্বরান্বিত করতে দু-এক মাসের মধ্যে ১০-১৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকার…


৬ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

নিউজ ডেস্ক:৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন গিয়ে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে, সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি)…


২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রেনে যাওয়া যাবে কক্সবাজার

নিউজ ডেস্ক: রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইনের কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হবে। ফলে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে রেলে চড়ে কক্সবাজার যাতায়াত করা…


চট্টগ্রামে ফের সচল হচ্ছে ডেমু ট্রেন

সাইদুল ইসলাম: দীর্ঘ ৭ বছর আগের অচল ডেমুকে (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ফের সচল করার তোড়জোড় শুরু করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। বেশ কয়েকটি ডেমু ট্রেন চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তবে শঙ্কা কাটেনি যাত্রীদের। কারণ এই ট্রেন…


আইসিডির অভাবে গতি পাচ্ছে না কার্যক্রম

সুজিত সাহা : রেলপথে ভারত থেকে কনটেইনারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের জুলাইয়ে। শুরুতে স্লাইডিং ডোর (পার্শ্ব-দরজাবিশিষ্ট) কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের অনুমতি নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয় ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। পরবর্তী সময়ে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেলওয়েকে স্লাইডিং ডোর সুবিধা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কনটেইনারে পণ্য পরিবহনে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরিতে সিরাজগঞ্জে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও সীমান্তবর্তী শুল্ক স্টেশনে পণ্য আনলোডিংয়ের কারণে বাড়তি বিড়ম্বনায় কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না রেলপথে ভারত-বাংলাদেশ কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল কার্যক্রম। রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত জুলাইয়ে কার্যক্রম শুরুর পর প্রতি মাসে গড়ে চার-পাঁচটি কনটেইনারবাহী ট্রেন ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহন করে। স্লাইডিং ডোর সুবিধা সংবলিত এসব কনটেইনারে গার্মেন্টস সামগ্রী, কেমিক্যাল, সুতা, চাল, পোলট্রি ফিড, ধানবীজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়। তবে চাহিদা সত্ত্বেও সরাসরি ঢাকায় পণ্য পরিবহনের সুযোগ না থাকায় এ কার্যক্রম এখনো সীমিত আকারেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে আইসিডি সুবিধা দেয়া হলে প্রতি মাসেই গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি কনটেইনার ট্রেন সার্ভিস চালানো সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কনটেইনার ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৭-৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে সভার অনুচ্ছেদ-১১ (৩) এ বেনাপোল/দর্শনা সেকশনে রেলযোগে কনটেইনার ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ভারত থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল জনপ্রিয় হচ্ছে না ব্যবসায়ীদের কাছে। রেলওয়ে প্রতিদিন গড়ে একটি করে কনটেইনারবাহী ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা করলেও বর্তমানে সেটি চার-পাঁচটিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাছাড়া করোনাকালে বিশেষ ব্যবস্থায় স্লাইডিং ডোর সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে কনটেইনারে পণ্য আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম চালুর পর ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল কনটেইনারে পণ্য পরিবহন করে ঢাকাস্থ কমলাপুর আইসিডিতে পণ্য নিয়ে আসা। কিন্তু যমুনা সেতু দিয়ে কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচলে ভারতীয় রেলের আপত্তি থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আইসিডি সুবিধা না থাকায় বেনাপোল স্থলবন্দরেই পণ্যের কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যার কারণে ভারত থেকে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনে নতুন জটিলতায় পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। কার্যক্রম শুরুর পর ব্যবসায়ীদের শতভাগ সেবা প্রদান ও বাড়তি বিড়ম্বনা এড়াতে সিরাজগঞ্জে একটি আইসিডি নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেয় রেলওয়ে। তবে পরিকল্পনাটি প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির পর্যায়ে থাকায় ভারতের সঙ্গে কনটেইনারে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম বৃদ্ধি সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছে রেলওয়ে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, কনটেইনারবাহী ট্রেনের জন্য ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের চাহিদা রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত জটিলতায় এখনো সক্ষমতার শতভাগ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে ভারতের আর্থিক সহায়তায় সিরাজগঞ্জ বাজারে একটি আইসিডি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীবাহী ট্রেনের মতো ভারত-বাংলাদেশ রেলপথে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম আরো বেশি বেগবান হবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে সড়কপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের ৪ মে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য আনা-নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাস, এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সব ধরনের পণ্য আপাতত রেলপথে আমদানির অনুরোধ জানানো হয়। এরপর রেলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য গত বছরের ২০ মে রেলওয়ে এনবিআরকে একটি চিঠি দেয়। পরবর্তী সময়ে এনবিআর শর্তসাপেক্ষে স্লাইডিং ডোর কনটেইনারের মাধ্যমে শুধু কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয় ২০২০ সালের ৪ জুন। বর্তমানে আগের তুলনায় কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের হার বাড়লেও সেটি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) সভাপতি মাহবুব আলম বণিক বার্তাকে বলেন, যেকোনো নতুন কার্যক্রম শুরু হলে শুরুতে বিভিন্ন জটিলতা থাকে। ভারত থেকে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি এখনো নতুন। ব্যবসায়ীরা বেশ কিছুটা জটিলতায় পড়েছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়েসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ল্যান্ডিং অবকাঠামোগত জটিলতা নিরসন করা গেলে পণ্য পরিবহনের সময়, ব্যয় উভয়ই কমে আসবে, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য যুগান্তকারী হবে বলে আশা করছেন তিনি। সূত্রমতে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে ভারতীয় বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বৈঠকে রেলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যালোচনা সাপেক্ষে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) বেগম শরিফা খানকে সভাপতি করে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাত সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০২০ সালের ১৭ মে একটি প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এক সময় আটটি ইন্টারচেঞ্জ (ক্রস বর্ডার) থাকলেও বর্তমানে বেনাপোল-পেট্রাপোল, দর্শনা-গেদে, রহনপুর-সিঙ্গাবাদ ও বিরল-রাধিকাপুর দিয়ে আন্তঃদেশীয় মালামাল পরিবহন ও যাত্রী চলাচল হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুধু কভিড-১৯ কালে সাইডিং ডোর সুবিধার মাধ্যমে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের সুপারিশ করেছে। ফলে কভিড-১৯ প্যানডেমিক শেষে সাইডিং ডোর সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে রেলপথে কনটেইনারে পণ্য পরিবহন সুবিধা আরো সীমিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলছেন, ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা নানান বিড়ম্বনার শিকার হন। রেলপথে কনটেইনারের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করলে খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সময়ে পণ্য সংগ্রহ করা যায়। সাইডিং ডোর সুবিধায় কনটেইনারে পণ্য আমদানির অনুমতি না থাকায় ভারত থেকে রেলপথে কনটেইনার ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। কভিডের কারণে বর্তমানে শুরু হলেও বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের তা সারা দেশে নিয়ে যেতে হয়। এতে বাংলাদেশে পণ্য আসার পর ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বিড়ম্বনা। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিরাজগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রস্তাবিত আইসিডি নির্মাণকাজ শুরু হলে ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় কনটেইনার ট্রেন চলাচল কার্যক্রম গতি পাবে বলে মনে করছেন তিনি সূত্র:বণিক বার্তা, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১


ঢাকার প্রস্তাবিত সার্কুলার রেললাইনে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা

তুহিন শুভ্র অধিকারী: ঢাকার চারপাশে সার্কুলার রেললাইন তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনায় কেরানীগঞ্জ এবং পুরো পূর্বাচল অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, সে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।…


২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী

নিজস্বপ্রতিবেদক: রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ট্রেন চালু হবে। গতকাল কক্সবাজারে আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়ে তিনি…


বিনিয়োগে আগ্রহী চীনের দুই কোম্পানি, পিপিপিতে নির্মাণের প্রস্তাব

শামীম রাহমান : ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এজন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পর চীন ও বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে রেলপথটির বিস্তারিত নকশাও তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রেলপথটি নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিআরসিসি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে রেলপথটি নির্মাণের প্রস্তাব করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইস্পিড রেলপথটি নির্মাণ করতে চায় চীনের নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠান সিআরসিসি ও সিসিইসিসি। বাংলাদেশের চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে সরকারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মতামত চাওয়ার জন্য এ প্রস্তাবটি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি। বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণের জন্য ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে করা হয়েছে রেলপথটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যাতে খরচ হয়েছে ১১০ কোটি টাকা। সমীক্ষায় হাইস্পিড রেলপথটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৪০ কোটি ডলার (শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম অংশ)। বর্তমান বিনিময় হারে (প্রতি ডলারে ৮৪ টাকা ৮৭ পয়সা) এর পরিমাণ ৯৬ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এ বিনিয়োগের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (এফআইআরআর) ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর ইকোনমিক ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (ইআইআরআর) ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। হাইস্পিড রেলপথটি নির্মাণ করা হবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম রুটে। রুটটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২২৭ কিলোমিটার। রেলপথটি হবে শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্য। ডিজাইন স্পিড ধরা হয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার। স্ট্যান্ডার্ড গেজের দুটি লাইন নির্মাণ করা হবে, যেগুলোর এক্সেল লোড হবে ১৭ টন ধারণক্ষমতার। বিদ্যুচ্চালিত রেলপথটি হবে পাথরবিহীন। ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ‘অটোমেটিক ব্লক’ সিগন্যাল ব্যবস্থা। রেলপথটিতে একটি ট্রেন বিরতিহীনভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে সময় নেবে ৫৫ মিনিট। আর বিরতি দিয়ে চললে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে সময় লাগবে ৭৩ মিনিট। দিনে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে হাইস্পিড রেলপথটি দিয়ে। চীনের দুটি কোম্পানি পিপিপির মাধ্যমে নির্মাণের প্রস্তাব করলেও হাইস্পিড রেলপথটির অর্থায়ন পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত করে উঠতে পারেনি রেলপথ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাকার অংকে এটি হবে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাইলে হাইস্পিড রেলপথটির ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. কামরুল আহসান বণিক বার্তাকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশার কাজগুলোই করছি। অর্থায়ন বা বিনিয়োগের বিষয়ে আমরা কোনো কাজ করছি কিনা। এমনকি প্রকল্প পিপিপি বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হবে—তা-ও ঠিক হয়নি। বর্তমানে রেলপথটির নকশা তৈরির কাজ চলমান আছে। প্রকল্প পরিচালক ড. কামরুল আহসান জানিয়েছেন, নকশা প্রণয়ন কাজের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত থাকলেও তা এরই মধ্যে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। আগামী মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত নকশা তৈরি হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। চীনের ‘চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন’ (সিডিআরসি) ও বাংলাদেশের ‘মজুমদার এন্টারপ্রাইজ’ বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ নির্মাণে বিনিয়োগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, এটা অনেক টাকার প্রকল্প। বিদেশী সাহায্য ছাড়া আমাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা কঠিন। বিনিয়োগের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে যাচ্ছি। মন্ত্রী আরো বলেন, হাইস্পিড রেলপথের সঙ্গে আরো কিছু বিষয় জড়িত। রেলপথটিতে যেসব ট্রেন চলাচল করবে, সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা ওয়ার্কশপ লাগবে। দক্ষ জনবলও লাগবে। রেলপথটি যেহেতু এলিভেটেড হবে, সেহেতু কমলাপুরের সঙ্গে এর সংযোগটি নিয়েও বিশদ পরিকল্পনার প্রয়োজন। হাইস্পিড ট্রেনের বিষয়টা মাথায় রেখে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সব কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সূত্র:বণিক বার্তা, জানুয়ারি ০৯, ২০২১