শিরোনাম

রেলপথে পণ্য আমদানীতে মাসে রাজস্ব আয় কোটি টাকা


।। নিউজ ডেস্ক ।।
১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ৬ সেপ্টেম্বর থেকে এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় রেলপথটিও তুলে ফেলা হয়েছিল। এই রেলপথটি পুনরায় চালু করতে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নতুন করে রেললাইন স্থাপনের মাধ্যমে তা ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর চালু করা হয়। ওই সময় ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্ধোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর রেলপথটি উদ্ধোধনের পর গত বছরের (২০২১) পহেলা আগস্ট থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের কোচবিহারের হলদিবাড়ি রেলপথে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল রেল ও ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হয়। এতে দেখা যায় প্রতিদিন সরকার রাজস্ব আয় করছে ৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা। গত তিন মাসে সরকার এই স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আয় করেছে প্রায় তিন কোটি টাকা।ফলে চিলাহাটি ও হলদিবাড়ি স্থলবন্দর বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে চাঙা করছে। চালুর প্রথম দিনে ভারতের উত্তরবঙ্গের আলিপুর ডিভিশনের ডামডিম রেলস্টেশন থেকে পাথরবোঝাই ৪০টি ওয়াগনের একটি মালবাহী ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভাড়া বাবদ বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৫ লাখ টাকা আয় করে। এ ছাড়া প্রথম দিনেই বাংলাদেশ রেলওয়ে ও কাস্টম রাজস্ব আয় করে ২৬ লাখ ১ হাজার ২৭৫ টাকা।

এদিকে পণ্য আমদানি বেড়ে মাসে রাজস্ব আয় কোটি টাকা ছাড়িয়েছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে। সময় ও দুরত্ব কম হওয়ায় এইরুটটিকে প্রাধান্য দিয়েছে আমদানীকারক গন। কিন্তু অর্থ বরাদ্দের অভাবে নীলফামারীর চিলাহাটি রেলষ্টেশন ভবন ও লুপ লাইন স্থাপনের নির্মান থমকে আছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) নীলফামারী সদর সার্কেলের (কাস্টমস) রাজস্ব কর্মকর্তা তুষার কান্তি বলেন, গত তিন মাসে তিন কোটি টাকার বেশি আয় করেছে রেলওয়ে। চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে চালুর মাসে ৭টি মালবাহী ট্রেন আসে। যাতে মোট ১২ হাজার ৫২ টন ভারতীয় পাথর এসেছে। এতে রেলওয়ের আয় হয়েছে ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫২ টাকা। এখন এই পথে ভারত থেকে পাথর আমদানী করা হচ্ছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে সরকারের রাজস্ব আসছে এক কোটি টাকা।

এদিকে এই পথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও চিলাহাটি রেলষ্টেশনের নতুন ভবন ও লুপ লাইনের নির্মান কাজ স্থাপন থমকে গেছে। অথচ বাংলাদেশের মোংলা পোর্ট হয়ে ভারতের উত্তরপূর্ব অংশ নেপাল এবং ভুটানের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো মনোন্নয়নের মাধ্যমে নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্তকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু চিলাহাটি এলাকায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি হলেও বরাদ্দের অভাবে চিলাহাটি আন্তর্জাতিক রেলষ্টেশনের মূল ভবনের নির্মাণ কাজ থমকে গেছে। গত ১১ মাস আগে মাটি খুড়ে পাইল ক্যাপের উপর ৯২টি পিলারের রড স্থাপনের পর আর কোন কাজের অগ্রগতি হয়নি। এমন কি চিলাহাটি রেলষ্টেশন ঘিরে যে ২.৪৬ কিলোমিটার বিস্তৃত চারটি লুপ লাইনের নির্মাণ কাজও অস¤পূর্ণ থেকে গেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাসট্রাকচারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামান সিয়াব বলেন, প্রায় ২০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ করা হয়েছে। বাড়তি প্রকল্পর কাজগুলো ডিপিপি থেকে আরডিপি না হওয়ায় নতুন করে অর্থ সংস্থান হচ্ছে না তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় লুপ লাইন বসানোর কাজও শুরু করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় প্রকৌশলী (পাকশী-২) আবদুর রহিম স্বীকার করেছেন যে নির্মাণে এই বিলম্ব অবিলম্বে সমাধান করা উচিত।”চিলাহাটি রেলস্টেশনে লুপ লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়ানো এবং অন্যান্য অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে আমরা আরও আমদানি পেতে পারি,” বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিলাহাটি আন্তর্জাতিক রেলষ্টেশন ভবন ও লুপ লাইন নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অর্থ বরাদ্দ ও জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব মঞ্জুর করতে বলেছি।”

সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।