শিরোনাম

মিতালী এক্সপ্রেস চলবে ভিসার জটিলতা কাটলেই

নতুন ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেসের উদ্বোধন

।। নিউজ ডেস্ক ।।
ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রেল রুটে পর্যটকদের আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক বছর আগে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই রুটে যাত্রী পরিবহন করেনি ট্রেনটি। নানান জটিলতায় আটকে থাকা এই রুটে এ বছরের ২৬ মার্চ থেকে যাত্রী পরিবহন শুরুর কথা থাকলেও তা আটকে গেছে। দু-দেশের পর্যটক ভিসা নিয়ে জটিলতার কারণেই এবার আটকে গেছে মিতালীর যাত্রা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা সেনানিবাস রেল স্টেশন থেকে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে মিতালীর। কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ভিসা জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে যাত্রী নিয়ে আর ছোটা হয়নি। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই এ রুটে মালবাহী ট্রেন চলছে। এখন দুই দেশেই করোনা সংক্রমণের হার কমেছে। এর ফলে শিগগির ভিসা জটিলতা নিরসন হবে বলে আশা বাংলাদেশ রেলওয়ের।

গত বুধবার (২৪ মার্চ) ঢাকার রেল ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উভয়পক্ষের আলোচনায় আন্তঃদেশীয় মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের টুরিস্ট ভিসা চালু হলেই এসব ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জাগো নিউজকে বলেন, করোনার কারণে ভারতের সঙ্গে সব রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এখন মিতালী এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য ট্রেনগুলোতে যাত্রী পরিবহনের সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত ট্রেন যাতায়াতের ভিসা দিলেই যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। ভিসা জটিলতার বিষয়টি ভারতের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় মিতালী এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু উদ্বোধনের সময় দুই দেশেই করোনার প্রকোপ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে তখন আর যাত্রী পরিবহন করেনি মিতালী।

এ বছরের ২৬ মার্চ থেকে মিতালী এক্সপ্রেসে যাত্রী পরিবহন করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়েকে চিঠি দেয় ভারতের রেলওয়ে। কিন্তু এখনো ট্রেনে যাতায়াতে ভিসা চালু করেনি ভারত। এমন জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২১ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই সূত্রে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ে। এখন অপেক্ষা তাদের সিদ্ধান্তের।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা চালু হলে বাংলাদেশ থেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার মিতালী এক্সপ্রেস ছেড়ে যাবে। ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত নয়টা ৫০ মিনিটে, ভারতে পৌঁছাবে সকাল সাতটা ৫ মিনিটে। ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছাড়বে রোববার ও বুধবার। ট্রেনটি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছাড়বে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। এর মধ্যে ট্রেনটি দিনের বেলা ৪৫৬ আসন নিয়ে এবং রাতে ৪০৮ আসন নিয়ে চলাচল করবে।

ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেনের ভাড়া ও দূরত্ব

এই রেল পথের দূরত্ব ৫৩০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারত অংশে ৮৪ কিলোমিটার। আর বাংলাদেশ অংশে ৪৪৬ কিলোমিটার। ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে হলদিবাড়ি হয়ে সীমান্ত পার হবে। তারপর বাংলাদেশের চিলাহাটি, নীলফামারী, পার্বতীপুর, হিলি, নাটোর, ঈশ্বরদী আর টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছবে।

এই পথের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এসি চেয়ার ২ হাজার ৭০৫ টাকা, এসি সিট ৩ হাজার ৮০৫ টাকা এবং এসি বার্থ ৪ হাজার ৯০৫ টাকা। ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলাচল শুরু হলে ট্রেনটিতে চিলাহাটি স্টেশন থেকেও যাত্রীরা ওঠানামা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে চিলাহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ির ভাড়া হবে ১ হাজার ২৩৫ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিতালী এক্সপ্রেস চালু হলে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের সহজে দার্জিলিং ভ্রমণের সুযোগ মিলবে। নেপালের হিমালয় পাদদেশের ভারতীয় জেলা দার্জিলিং। এই দার্জিলিংয়ে একদিকে রয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘার উচ্চতম পর্বতশ্রেণি অন্যদিকে বৈচিত্র্যময় পাহাড়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের এ জেলা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া ট্রেনটি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের অন্যান্য অংশে যেমন বাংলাদেশি পর্যটকরা বড় সংখ্যায় অনায়াসে যেতে পারবেন, তেমনি ওইসব অঞ্চলের মানুষও সহজে বাংলাদেশে আসতে পারবেন।

তবে পর্যটন শিল্প এই ট্রেনটি নিয়ে আশাবাদী হলেও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় অথবা সিকিমের মানুষ কতটা এই ট্রেনে চেপে বাংলাদেশে আসবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কোনো ভিসা কেন্দ্র নেই। তাই দার্জিলিংয়ের পর্যটকদের এই ট্রেনে চাপতে হলে কলকাতায় যেয়ে ভিসা করে আসতে হবে।

রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, এক সময় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন রেলপথ চালু ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-দার্জিলিং রেলপথ হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে তৃতীয় রেলপথ। প্রথম রেলপথ ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়। এরপর ২০২১ সালের ১ আগস্ট চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল দীর্ঘ ৫৬ বছর পর পুনরায় চালু হয়। ৫৫ বছর পর ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথটি চালু হলে বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের পর্যটনের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী জাগো নিউজকে বলেন, ভারত যখনই ভিসা চালু করবে তখনই মিতালী এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করবে। এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।