শিরোনাম

বিগত অর্থবছরে লোকসান ১২০০ কোটি টাকার বেশি

আবারও রেকর্ড লোকসানে রেলওয়ে

ইসমাইল আলী :
আয় বৃদ্ধি ও লোকসান কমানোর জন্য ট্যারিফ রিফর্ম পলিসি করেছে রেলওয়ে। এর আওতায় গত পাঁচ বছরে দুই দফা বেড়েছে রেলের ভাড়া। এতে আয় কিছুটা বাড়লেও সংস্থাটির লোকসান কমেনি। উল্টো বছরের পর বছর লোকসান বেড়ে চলেছে রেলওয়ের। গত অর্থবছরও রেকর্ড এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান করেছে সংস্থাটি। তবে লোকসান কমানোর জন্য ভাড়া প্রস্তাব দিলেও তা ফেরত দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রেলওয়ের তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রে আয় বাড়ে। পাশাপাশি অন্যান্য খাত থেকেও আয় বাড়ে। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে রেলের আয় হয়েছে এক হাজার ৩০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর ওই সময় সংস্থাটির ব্যয় দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৩২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরে রেলের লোকসান হয় এক হাজার ২২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এর আগের অর্থবছর রেলের আয় ছিল এক হাজার ২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর ওই সময় সংস্থাটির ব্যয় দাঁড়ায় দুই হাজার ২২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেলের লোকসান হয় এক হাজার ২০৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেলের আয় ছিল ৯৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর ওই বছর সংস্থাটির ব্যয় ছিল এক হাজার ৮২৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেলের লোকসান হয় ৮৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুধু বেতন-ভাতা খাতেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খাতেও ব্যয় বাড়ে। ফলে সে বছর লোকসান অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তবে গত অর্থবছরে ব্যয়ের পাশাপাশি রেলের আয়ও বেড়েছে। ফলে গত অর্থবছরে লোকসান খুব বেশি বাড়েনি।

সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন খাতে রেলের আয় হয় ৭৮৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ও পণ্য পরিবহনে ২৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ দুই খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৯৬ কোটি ৪৩ লাখ ও ১৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এছাড়া গত অর্থবছরে টেলিকম লিজ বাবদ ৯৮ কোটি ৯৪ লাখ, পার্সেল পরিবহনে ১৮ কোটি আট লাখ, ফ্রেইট কনটেইনার পরিবহনে ৩৯ কোটি ৮৮ লাখ, জমি ইজারা বাবদ ৪১ কোটি ৪১ লাখ ও পুরোনো স্ক্র্যাপ বিক্রি থেকে ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আয় হয়।

এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণের শর্তের কারণে ২০১৫ সালে ট্যারিফ রিফর্ম পলিসি করে রেলওয়ে। এর আওতায় ব্যয় বৃদ্ধির অনুপাতে প্রতি বছর রেলের ভাড়া বাড়ানোর কথা। এতে আয় বৃদ্ধি ও রেলের লোকসান নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করা হয়। ওই পলিসি অনুযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছর রুটভেদে যাত্রী পরিবহন ভাড়া ৭-৯ শতাংশ বাড়ানো হয়। পণ্য পরিবহনেও একই হারে ভাড়া বাড়ানো হয়। একই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরও রেলের ভাড়া ১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। তবে এ প্রস্তাব অনুমোদন করেনি রেলপথ মন্ত্রণালয়।

ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান এ-প্রসঙ্গে বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি না করেও ট্রেনের যাত্রীসেবা লাভজনক করা সম্ভব। এজন্য ট্রেনপ্রতি কোচের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। এতে খরচ না বাড়লেও যাত্রী পরিবহনে আয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ট্রেনের টার্ন অ্যারাউন্ড বাড়িয়ে ট্রিপ বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা ট্রেনের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আর জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রেলের আয় অনেক বাড়বে। অথচ তা না করে রেলওয়ের অদক্ষতার বোঝা যাত্রীদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেলওয়ের আয় ছিল ৯৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ও ব্যয় এক হাজার ৭৩৪ টাকা। অর্থাৎ সে বছর লোকসান ছিল ৮০৩ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সংস্থাটির আয় ও ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৮০৪ কোটি ও এক হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। সে বছর রেলের লোকসান হয় ৮৮১ কোটি টাকা। আর ২০১১-১২ অর্থবছরে আয় ছিল ৬২৯ কোটি ও ব্যয় এক হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। ফলে ওই বছর সংস্থাটির লোকসান হয় এক হাজার ৫০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০ বছর ভাড়া না বাড়ানোয় রেলের লোকসান ক্রমশ বাড়তে থাকে। এতে ২০১১-১২ অর্থবছরে তা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে ভাড়া বাড়ানোর পর লোকসান কিছুটা কমে। কিন্তু বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় বাড়ার প্রভাবে গত বছর তা অনেক বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে রেলের পূর্বাঞ্চল থেকে আয় হয় ৭২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, তার আগের অর্থবছরে যা ছিল ৫৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর গত অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল থেকে সংস্থাটির আয় হয় ৪৭৮ কোটি ১১ লাখ টাকা, তার আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩৩৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই অঞ্চল থেকেই রেলের আয় বেড়েছে।

সুত্র:শেয়ার বিজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।