শিরোনাম

বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে জিডি করা যাবে অনলাইনে

ছবিঃ সংগৃহীত

।। নিউজ ডেস্ক ।।
১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পুলিশের প্রাচীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট রেলওয়ে। অধিক্ষেত্রে জেলা পুলিশের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, তদন্ত ও অন্যান্য পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করে এই রেলওয়ে পুলিশ।

ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে রেলওয়ের পরিধি বাড়তে থাকে। বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে রেললাইন ঘিরে চুরি-ডাকাতিসহ নানা রকম অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়। এজন্য শুরুতে আধা-সামরিক বাহিনী ও পরে রেল পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাকিস্তান হওয়ার পর পুরো রেল পুলিশকে একটি রেঞ্জের আওতাভুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর অঞ্চল (জোন) করে চলছিল রেল পুলিশের কার্যক্রম। ঢাকা রাজধানী হলেও পুলিশের এ বিভাগ ছিল চট্টগ্রামের অধীনে। ২০১৭ সালে পুলিশের এ ইউনিটের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। অঞ্চল ধারণার বাইরে গিয়ে তৈরি করা হয় জেলা রেলওয়ে পুলিশ। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, পাবনা, সিলেট ও খুলনা রেলওয়ে জেলা পুলিশ করা হয়েছে। ছয়টি জেলায় ছয় পুলিশ সুপার দায়িত্বে আছেন। তাদের ওপর আছেন একজন করে ডিআইজি ও অতিরিক্ত আইজিপি। রেলওয়ে জেলাগুলোর অধীনে রয়েছে রেলওয়ে থানা ও ফাঁড়ি।

পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের মতো রেলওয়ে পুলিশেও প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু প্রযুক্তি চালু হয়েছে। আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি সন্নিবেশিত হচ্ছে এ ইউনিটে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাটাবেজ সিস্টেমে কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এই ইউনিটে প্রযুক্তিগত চমকের মধ্যে রয়েছে অনলাইনে জিডি করার সুবিধা। অর্থাৎ কেউ যদি এক স্টেশন থেকে উঠে অন্য স্টেশনে নেমে যাওয়ার পর মনে করেন তিনি কোনো কিছু ফেলে রেখে এসেছেন বা কোনো কিছু হারিয়ে গেছেন, সেক্ষেত্রে তিনি বাসায় বসেই তার কাঙ্ক্ষিত জিডিটি (সাধারণ ডায়েরি) করতে পারবেন। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলওয়ে পুলিশ তাদের সেবা দিতে সক্ষম হবে। সেবাগ্রহীতাও কোনো ভোগান্তি ছাড়া পুলিশের সাহায্য নিতে পারবেন। এভাবে রেলওয়ে থানার জিডিগুলো সেন্ট্রালাইজড (কেন্দ্রীভূত) থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা জেলার অধীনে পুলিশের ২৪টি থানা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) পরিধি ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত। এ এলাকার রেললাইনের ৩০ ফুটে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার তদন্তভার পড়ে কমলাপুর থানার ওপর। ট্রেনে কাটা পড়ে কেউ মারা গেলে সেই মরদেহের সুরতহাল, মর্গে পাঠানো, তদন্ত সব কাজই করতে হয় রেল পুলিশকে। এভাবে দেশের প্রতিটি রেলওয়ে থানা এলাকা অনেক লম্বা হয়ে থাকে।

সূত্র জানায়, রেলওয়ে পুলিশ ছোট ইউনিট হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকটা পেছনেই পড়ে থাকে। রেল পুলিশে যে পরিমাণ কাজ, তার চেয়ে জনবল অনেক কম। লোকবল কম থাকায় প্রতিটি ট্রেনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া রেললাইনের ওপর যে কোনো অপরাধের ঘটনা তদন্ত করতে হয় রেল পুলিশকে। তবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশেরও সহযোগিতা পায় তারা।

গত ২৬ জানুয়ারি ৭৬৪টি পদে নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে রেল পুলিশের সংখ্যা দাঁড়াবে দুই হাজারেরও বেশি।অবস্থা বিবেচনায় পুলিশের এই ইউনিটকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ রয়েছে সরকারের।

রেল পুলিশের ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) মো. শাহ আলম বলেন, ‘রেল পুলিশ হচ্ছে—এ পার্ট অব বাংলাদেশ পুলিশ। আলাদাভাবে রেল পুলিশে নিয়োগের সুযোগ নেই। নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে হয়। পুলিশে নিয়োগ হওয়ার পরে সেখান থেকে রেল পুলিশে বদলি করা হয়। সেভাবেই রেল পুলিশ জনবল পায়। রেল পুলিশে জনবল সংকটের দুটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। একটি মঞ্জুরিকৃত জনবল বাড়াতে হবে। কারণ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটে যেভাবে জনবল বেড়েছে রেল পুলিশে তুলনামূলকভাবে জনবল কম বেড়েছে। দ্বিতীয়টি রেল পুলিশে যে জনবল রয়েছে সবটুকু পেতে হবে। এ দুটি বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টি দেখছেন।’

রেল নিরাপদ করতে প্রযুক্তিগত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—জানতে চাইলে এই ডিআইজি বলেন, ‘পুলিশের অন্যান্য থানার মতো রেলওয়ে পুলিশও ডাটাবেজ সিস্টেমে কাজ করে। রেলওয়ে থানার জিডিগুলো আমরা সেন্ট্রালাইজড করেছি। অর্থাৎ আমাদের সব স্টেশনে থানা নেই, ফাঁড়িও নেই। কমলাপুর থেকে ট্রেনে ওঠার পর পূবাইল নেমে যাওয়ার সময় মনে হলো কোনো জিনিস হারিয়ে গেছে। এজন্য একটি জিডি করা প্রয়োজন। এই জিডি করতে আপনাকে থানায় যেতে হবে না। আপনি আপনার বাসায় বসেই দায়িত্বরত থানায় অনলাইনে জিডি করতে পারবেন। রেলওয়ে পুলিশে অনলাইন জিডির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। রেলওয়ের ২৪টি থানায় কার্যক্রম চালু রয়েছে। তাদের আমরা প্রস্তুত করছি। প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, গত কয়েক মাসে এ সুবিধাটি চালু করেছি। আশা করছি শিগগির রেলওয়ের সব থানায় এ সেবা চালু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইন জিডির ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজড তথ্য আসবে এবং তথ্যটি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দেখতে পারবেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য কাজ করা হবে। পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের পাশাপাশি রেল পুলিশও প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত সেবাদানে সক্ষম হচ্ছে।’

পাথর ছোড়া ও ছিনতাই রোধে বিট পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে রেল পুলিশের ডিআইজি শাহ আলম বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সঙ্গে বিট পুলিশিংয়ের পার্থক্যটা হচ্ছে—আমরা একটি কমিউনিটিকে নিয়ে কাজ করি। আর বিট পুলিশিং হচ্ছে—নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বা বিশেষ পুলিশ সদস্যদের স্থায়ীভাবে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া। থানার অফিসারদের তাদের বিট ভাগ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ নিজ নিজ বিটের মধ্যে ওই অফিসারদের মুভ করতে হয়। পুলিশ অফিসাররা যখন মুভ করবেন, তখন এমনিতেই অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের অফিসারদের দেখতে পাই—কে, কোথায় আছেন।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।