তিন মাসে পণ্য পরিবহনে আয় ১৫ কোটি টাকা

তিন মাসে পণ্য পরিবহনে আয় ১৫ কোটি টাকা

সাইদ সবুজ : করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটির শুরু থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকলেও রেলের পণ্য পরিবহন সেবা চালু রয়েছে। কনটেইনার ট্রেন, গুডস ট্রেন ও জ্বালানিবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি ল্যাগেজ ভ্যানের বিশেষ ট্রেনও পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গত তিন মাসে (মার্চ-মে) পণ্য পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে ১৪ কোটি ৮৪ হাজার টাকা। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে ২০ শতাংশের বেশি।


লকডাউনের শুরু থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকা ও দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকায় প্রতিদিন একটি করে ট্রেন কৃষিপণ্য পরিবহন শুরু করে। তারপর গুডস ট্রেনের পাশাপাশি লাগেজ ভ্যান ট্রেন চালু করা হয়। তবে কৃষিপণ্যের জন্য পার্সেল ট্রেন চালু করা হলেও পর্যাপ্ত পণ্য পরিবহন করতে না পারায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পার্সেল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে। দেখা যায়, গত ১-৩ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলাচলকৃত পার্সেল ট্রেনটির ছয়টি বগির মধ্যে পাঁচটিই খালি ছিল ওই তিন দিন। তাই ক্ষতির মুখে পড়ায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পার্সেল ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরকারি খাদ্য, কনটেইনার, তেল, এমআরসি, সামরিক পণ্য, পাথর ইত্যাদি পণ্য নিয়ে নিয়মিত চলাচল করেছে মালবাহী ট্রেন।


রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গত তিন মাসে রেলওয়ে পণ্য পরিবহন করে ১২ হাজার ৪৫১টি ওয়াগন। এর মধ্যে পণ্য পরিবহন করা হয় এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন, যার পরিবহন বাবদ রেলওয়ে আয় করে ১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে মার্চ মাসে আয় হয় সাত কোটি ৫২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ওয়াগন পরিবহন হয় ছয় হাজার ৩৬৫টি, যার মধ্যে পণ্যবোঝাই হয়েছে ৮২ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন।


এপ্রিল মাসে পণ্য পরিবহন আরও কমে যায়। এ সময় ওয়াগন ব্যবহার করা হয় দ্ইু হাজার ৫১৫টি। তার মধ্যে পণ্য পরিবহন হয় ৩৬ হাজার ৫২ মেট্রিক টন, যা পরিবহন করে রেলওয়ের আয় হয় তিন কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার টাকা। সর্বশেষ মে মাসে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল পণ্য পরিবহন করে আয় করে চার কোটি ২০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এ টাকা আয় করতে রেলওয়েকে পণ্য পরিবহন করতে হয় ৪৮ হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন, আর এসব পণ্য পরিবহনে ওয়াগন ব্যবহার হয়েছে তিন হাজার ৫৭১টি।


এদিকে গত বছরের একই সময়ের (মার্চ-মে) তুলনায় দেখা যায়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে রেলওয়ের পণ্য পরিবহন বাবদ আয় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৯ বছরের এই তিন মাসে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করে দুই লাখ দুই হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন পণ্য। এসব পণ্য পরিবহন করতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫৫৫টি ওয়াগন। বিনিময়ে রেলওয়ে আয় করেছিল ১৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।


এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনসার আলী শেয়ার বিজকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রতিকূলতার মধ্যে গুডস ট্রেন চলাচল করছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এতে ট্রেনের পণ্য পরিবহনের ওপর প্রভাব পড়ে। এ কারণে পণ্য পরিবহন গত অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। এপ্রিলে পরিবহন কম হয়ে মে মাস থেকে পণ্য পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে। আশা করি করোনার প্রভাব কমলে পণ্য পরিবহনের অবস্থাও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র: শেয়ার বিজ, জুন ২৭, ২০২০

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।