ঢাকায় ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির

ঢাকায় ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির

ঢাকায় বৃত্তকার রেললাইনে ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশের বিষয়ে কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে ঢাকায় যখন সার্কুলার ট্রেন চালু হবে, তখন যেন ডাবল ডেকার ট্রেন চালু হয়, আমরা সেই সুপারিশ করেছি।’

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ডাবল ডেকার ট্রেন চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।’

তবে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক ডাবল ডেকার ট্রেনের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে যা বলেছে, তা তাদের বরাত দিয়ে আপনি লিখুন। এ বিষয়ে এখন আমার কোনও মন্তব্য নেই। আমরা যখন বলব, তখন আপনারা লিখবেন।’

সার্কুলার রেল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকায় সার্কুলার রেল চালু করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এ বিষয়ে সমীক্ষা যাচাই চলছে।’

জানা গেছে, যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারদিকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে ২০১৪ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেলওয়ের তথ্যমতে, ঢাকা শহরের বাইরে দিয়ে চারদিকে নির্মাণ করা হবে সার্কুলার রেলপথ। এটি রূপগঞ্জের তারাবো সেতু এলাকা থেকে শুরু হয়ে ইস্টার্ন বাইপাস, আবদুল্লাপুর, ডিএনডি বাঁধ, লালবাগ, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী (প্রথম বুড়িগঙ্গা) সেতু এলাকা, কদমতলী হয়ে আবার তারাবো গিয়ে শেষ হবে। লেভেল ক্রসিংয়ের ঝামেলা এড়াতে পুরো রেলপথটি হবে এলিভেটেড (উড়ালপথে)। আর বৃত্তাকার এ রেলপথে স্টেশন থাকবে ৪০টি।

রেলপথটি হবে স্ট্যান্ডার্ড গেজ ডাবল লাইন ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার (ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন)। এ রেলপথে চালানো হবে অত্যাধুনিক লাইট (হালকা) রেল। এ জন্য ছয় বগিবিশিষ্ট ৩০ সেট ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) কেনা হবে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৫ মিনিট পর পর দুই দিক থেকেই ট্রেন ছাড়বে। আর সার্কুলার রেলপথের টিকিট ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড।

সোমবারের বৈঠকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন অব্যবহৃত জমির ওপর মেডিক্যাল কলেজ ,নার্সিং ইনস্টিটিউট ও সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম নতুন রেল স্টেশন এলাকায় আইকন ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে কমিটি সুপারিশ করে। বৈঠকে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন যাবতীয় জমির তালিকা কমিটিতে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মো. আলী আজগার, মোহাম্মদ নোমান, ইয়াসিন আলী ও ফাতেমা জোহরা রানী অংশ নেন।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন,এপ্রিল ২৪, ২০১৭

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।