জমি ইজারার অর্থ আদায় করতে পারছে না রেলওয়ে

জমি ইজারার অর্থ আদায় করতে পারছে না রেলওয়ে

ইসমাইল আলী: সারা দেশে রেলওয়ের জমি রয়েছে ৬১ হাজার ৮৬০ দশমিক ২৮ একর। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার একর জমি। লাইসেন্সের মাধ্যমে এসব জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকমতো আদায় হচ্ছে না ইজারা মূল্য। ফলে ভূমি থেকে রেলের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রতিবছর কম থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি রেলওয়ের জমির ওপর উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এতে সারা দেশে রেলের জমির বর্তমান অবস্থা, বিক্রি ও ইজারাসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ইজারা দেওয়া জমির পরিমাণ চার হাজার ৯৭১ দশমিক ৯১ একর। পশ্চিমাঞ্চলে ইজারা দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৫০৬ দশমিক ৬৮ একর। সব মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৫৯ একর ইজারা দেওয়া আছে সারা দেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইজারা দেওয়া হয়েছে কৃষিকাজে। এ খাতে রয়েছে ১২ হাজার ৪১৬ দশমিক ৫৬ একর।

এর বাইরে বাণিজ্যিক খাতে ৯১৮ দশমিক ৫৯, মৎস্য খাতে ৮৮৫ দশমিক ৭২ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে ১৫৯ দশমিক ৭৬ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৪১ দশমিক ৩২, নার্সারির জন্য ৩০ দশমিক ৫৫, খাদ্য বিভাগকে সাত দশমিক ৩৬ এবং ওয়াসাকে ছয় দশমিক ২৬ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জমি ইজারা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেলওয়ের রাজস্ব আয় হয় ৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও পূর্বাঞ্চলে ৩৫ লাখ ৪০ লাখ টাকা। আর আদায় হয়েছে যথাক্রমে ২০ কোটি ৪৪ লাখ ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এছাড়া গত অর্থবছর জমি ইজারা থেকে আয় বেশ কিছুটা কমে গেছে। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের মধ্যে পার্থক্যও অনেক বেড়ে গেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে জমি ইজারা থেকে রেলওয়ের আয় হয় ৪৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যদিও সে সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ কোটি টাকা। যদিও আয় হয় ৪০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জমি ইজারা থেকে আয় ও লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ও ৪৫ কোটি টাকা। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে জমি ইজারা থেকে রেলওয়ের আয় ও লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ও ৪০ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, জমি ইজারার মূল্যের ভিত্তিতে মূলত এ খাতের আয়ের প্রাক্কলন করা হয়। তবে এটা অনেক প্রতিবছর কিছুটা বাড়ানো হয়। ফলে ইজারা থেকে আয় ও লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পার্থক্য বেড়ে গেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে রাজস্ব আয় কিছুটা ধীর। তবে যারা নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ করছে না তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইজারা বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাওনা আদায়ে নোটিশ প্রদান ও মামলাও পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে জমি ইজারা থেকে আয় বৃদ্ধিতে বেশ কিছু সুপারিশ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, স্টেশনের বাণিজ্যিক জমি লাইসেন্স দেওয়া হবে সেগুলো থেকে ইজারা মূল্য আদায় নিয়মিত করতে হবে। ইজারা মূল্য পরিশোধ না করলে উচ্ছেদের পাশাপাশি মামলাও পরিচালনা করতে হবে। রেলের হাটবাজারগুলো ব্যবস্থাপনা আনয়ন করতে হবে। ঘাটগুলো থেকে ইজারা আয় বৃদ্ধি করতে হবে। আর কৃষি ও জলাশয় দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যে ইজারা দিতে হবে। এছাড়া জমি ইজারা নীতিমালা আধুনিকায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

সুত্র:শেয়ার বিজ

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।