ঘুরে আসুন পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘর

পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘর

চট্টগ্রামকে বলা হয় চারশ’ বছরের পুরনো শহর। চার শতকের এ শহর যেমন ইতিহাসে সমৃদ্ধ তেমন ঐতিহ্যে ভরপুর। শত শত বছর ধরে এখানে শাসন করেছে মোগল, ব্রিটিশ থেকে শুরু করে আধুনিক গণতন্ত্রের প্রতিনিধিরা। এ দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম পরিপূর্ণ হয়েছে ঐতিহ্যের নানা রসদে। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসও বহুদিনের, সেই ব্রিটিশ আমল থেকে।

এত পুরাতন একটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে তার যন্ত্রপাতির এবং কালে কালে কোন কোন যন্ত্র হয়েছে বিকল। তাই বলেতো আর সেগুলোকে একেবারে ফেলে দেয়া যায় না। রেলওয়ের পুরাতন জিনিসপত্রগুলোকে ফেলে না দিয়ে কি করা যায় তা নিয়ে শুরু হলো চিন্তাভাবনা। রেলওয়ের তৎকালিন ডিজি রেজাউল করিম রেলওয়ের পুরনো অথচ গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতির সংরক্ষণে এখানে একটি জাদুঘর তৈরির প্রস্তাব নিয়ে যান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত হল একটি রেলওয়ে জাদুঘর স্থাপনের জন্য।

একটি জাতির ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, স্বকীয়তা এবং মূলকে ধারণ করে সে দেশের জাদুঘরগুলো। চট্টগ্রামে অবস্থিত রেলওয়ে মিউজিয়াম সেরকমই একটি আত্মপরিচয়ের জায়গা আমাদের। ১৮৬২ সাল হতে শুরু করা বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ পেরিয়ে এসেছে দেড়শ’ বছর। এর মধ্যে হয়েছে অনেক পরিবর্তন, রেল প্রত্যক্ষ করেছে অনেক পালাবদল।

রেলওয়ে জাদুঘরসময়ের এই বিশাল পরিক্রমাকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের রেলওয়ে কেরিজ এন্ড ওয়াগন কারখানার অপরপাশে নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতির মাঝে প্রায় ১২ একর জায়গার উপরে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ রেলওয়ে জাদুঘর।

সিআরবি ভবনের পাশের উঁচু পাহাড়ি রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে বহুল পরিচিত সেই কাঠের বাংলো। ইতিহাস ও দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীর এক যুগল বন্ধন যেন এই কাঠের বাংলোটি! দক্ষিণমুখী এক ব্যতিক্রমী নকশার কাঠের বাংলোয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এই জাদুঘর। জাদুঘরের মূল গ্যালারিতে ঢুকতেই ফটকের ওপর ড্রাগন খোঁদিত কাঠের গেটে ইংরেজি হরফে লেখা আছে বাংলোর নির্মাণকাল।

ধারণা করা হয়, এখানে রেলওয়ে ভবনগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে পুরনো। এই দ্বিতল ভবনটির চতুর্পার্শ্বের পরিবেশও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

উঁচু টিলার উপর অবস্থিত এই কাঠের বাংলোটি তার মাঝে ধারণ করে আছে রেলের এই ১৫০ বছরের ইতিহাস। সমগ্র বাংলোটি প্রায় ৪২০০ বর্গফুট এবং কাঠের তৈরি দোতালা।

প্রবেশের জন্য নিচ থেকে উঠে এসেছে একটি পাকা সিঁড়ি যার উপরে একপাশে খুব দুর্বল হাতের কাজের একটি বাঘের ভাস্কর্য। এই টিলার পাশে শাহজাহান মাঠের এক কোণায় অবস্থিত ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর স্মৃতি বিজড়িত ইউরোপিয়ান ক্লাব। শুক্রবারসহ সপ্তাহের প্রতিদিন ৩টা হতে ৬ টা পর্যন্ত এই জাদুঘরটি খোলা থাকে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে জাদুঘর সমগ্র বাংলাদেশ রেলের প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস, কৃষ্টির ধারক ও বাহক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই জাদুঘরটি হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্রুবতারা। আপনিও দেখে আসতে পারেন।

সুত্র:বিবার্তা২৪.নেট, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।