কঠিন শর্তের ঋণে মিটারগেজ ৭০ ইঞ্জিন কিনছে রেলওয়ে

কঠিন শর্তের ঋণে মিটারগেজ ৭০ ইঞ্জিন কিনছে রেলওয়ে

ইসমাইল আলী:
যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ২০১১ সালে ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরবরাহকারীর ঋণে (সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট) ইঞ্জিনগুলো কেনায় কয়েক দফা দরপত্র আহবান করা হয়। তবে উপযুক্ত প্রস্তাব না পাওয়ায় তা বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব চুড়ান্ত করেছে রেলওয়ে, যদিও মিটারগেজ রেলপথ পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ইঞ্জিনগুলো কেনার জন্য নিতে হবে কঠিন শর্তের ঋণ। এছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিও এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

এতে বলা হয়েছে, ৭০টি ইঞ্জিন কেনায় সর্বশেষ আহবানকৃত দরপত্রে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম ও স্পেনের ভসলো এসপানা কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। এদের আর্থিক প্রস্তাবনা যাচাই করে দেখা যায়, ইঞ্জিনগুলোর জন্য হুন্দাই রোটেম দর প্রস্তাব করেছে এক হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। আর ভসলো এসপানা প্রস্তাব করে এক হাজার ৮৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতা ভসলো এসপানা।

যদিও ইঞ্জিনগুলো কেনায় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৫১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৭০টি ইঞ্জিন কেনায় ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা বা ২১ শতাংশ বেশি ব্যয় হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ৭০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৩০টি পূর্ণাঙ্গ, ২৫টি আংশিক খোলা ও ১৫টি সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় কেনা হবে। আংশিক ও সম্পূর্ণ খোলা ইঞ্জিনগুলো পাবর্তীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় সংযোজন করা হবে। এজন্য দাম কিছুটা কম পড়বে বলে ধরা হয়। যদিও রেলওয়ে এর আগে আংশিক খোলা ও সম্পূর্ণ খোলা ইঞ্জিন ক্রয় করেনি। এ কারণে ডিপিপিতে অনুমাননির্ভর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ ক্রয়মূল্য এক্ষেত্রে বিবেচনা করাহয়নি।

পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনের এককপ্রতি দাম এক্ষেত্রে ধরা হয় ২২ কোটি টাকা, আংশিক খোলা ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও সম্পূর্ণ খোলা ইঞ্জিনের দাম ১৪ কোটি টাকা ধরা হয়। তবে ভসলো এসপানা সব ইঞ্জিনের দাম ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছে। এটি ডিপিপিতে উল্লেখিত দরের চেয়ে বেশি হলেও সর্বশেষ কেনা ইঞ্জিনের চেয়ে কম। কারণ ২০১১ সালে সর্বশেষ কেনা ইঞ্জিনের দাম পড়েছিল ভ্যাট-শুল্ক ছাড়া ২৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এদিকে ইঞ্জিনগুলো কেনায় ঋণপ্রস্তাব বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে নমনীয় ঋণ প্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই বলে ইআরডির বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি সংশোধনপূর্বক অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর এ প্রকল্পে অর্থ সরবরাহের ঋণ প্রস্তাব ইআরডি কর্তৃক চ‚ড়ান্ত করা হবে।

তথ্যমতে, ভসলো এসপানার ইঞ্জিনের জন্য ঋণ সরবরাহ করবে তিনটি ব্যাংক। এজন্য সুদহার হবে ছয় মাস মেয়াদি লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেটের (লায়বর) সঙ্গে দুই দশমিক ৩০ শতাংশ যোগ করলে যা হবে তা। এছাড়া রয়েছে সাত দশমিক ৪০ শতাংশ ইন্স্যুরেন্স ফি, এক দশমিক ২৫ শতাংশ ব্যবস্থাপনা ফি, এক দশমিক ৫০ শতাংশ অ্যারেঞ্জমেন্ট ফি ও বার্ষিক ২০ হাজার ইউরো এজেন্সি ফি। সব মিলিয়ে ঋণের বিপরীতে ১০ কোটি ২৯ লাখ ইউরো সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। অথচ ইঞ্জিনগুলো কেনায় ঋণ দেওয়া হচ্ছে ২১ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো। ১৪ বছরে সুদসহ এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, বাজারদরের চেয়ে অনেক কমে ইঞ্জিনগুলোর দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সুদের হার দেখার বিষয় ইআরডির। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এদিকে ইঞ্জিন কেনার চুক্তির আগেই বিক্রি হয়ে গেছে স্পেনের ভসলো এসপানা। সুইজারল্যান্ডের স্ট্যাডলার রেইল কিনে নিয়েছে ভসলো এসপানাকে। এজন্য ইআরডি ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মতামত চাওয়া হয়। এতে আপত্তি তোলে সিপিটিইউ। এক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হয়, দরপত্র দাখিলের পর নাম পরিবর্তন আইনি ধারাবাহিকতাকে ক্ষুণœ করবে এবং ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে রেলপথ মন্ত্রণালয় যুক্তি দেখায়, বিষয়টি যাচাইয়ে স্পেনের দূতাবাসের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টির এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে ইঞ্জিন কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছে রেলওয়ে।

সুত্র:শেয়ার বিজ, ২৩.০৭.২০১৭


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।