শিরোনাম

আরো ১৭টি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

আরো ১৭টি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

সুজিত সাহা : দীর্ঘ ৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শতভাগ অনলাইন টিকিটিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলছে এসব ট্রেন। সরকার ১৫ জুন পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখায় ১৬ জুন  থেকে আরো ১৭টি যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে এসব ট্রেন চালু করতে অফিস আদেশ আসবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

৩১ মে ও ৩ জুন থেকে দুই দফায় ৩৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পর নতুন করে আরো ১৭টি ট্রেন চালুর বিষয়ে সম্প্রতি রেলওয়ের উভয় অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করে রেলভবন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উভয় অঞ্চলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা ১৬ জুন থেকে নতুন বেশকিছু যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব অনুসারে ট্রেনগুলো চালানোর বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে রেলভবন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব ট্রেন চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। এরই মধ্যে ট্রেনগুলো চালানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দুই অঞ্চলের রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুন থেকে চালু হতে যাওয়া ট্রেনগুলো হচ্ছে ঢাকা-তারাকান্দি-ঢাকা রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭২৫/৭৩৬), ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটের হাওড় এক্সপ্রেস (৭৭৭/৭৭৮), ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের এগারসিন্দুর প্রভাতী (৭৩৭) ও ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯/৭১০)। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলের সম্ভাব্য ট্রেনগুলো হচ্ছে ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটের পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯/৭৬০), ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫/৭২৬), ঢাকা-বীরশ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম-ঢাকা রুটের একতা এক্সপ্রেস (৭০৫/৭০৬), ঢাকা-রংপুর-ঢাকা রুটের রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১/৭৭২) ও রাজশাহী-চিলাহাটি-রাজশাহী রুটের তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৩/৭৩৪)। তবে নতুন প্রস্তাবিত ট্রেনগুলোর মধ্যে যাত্রী চাহিদা ও গুরুত্বের বিবেচনায় সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সরদার শাহাদাত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে যাত্রীবাহী ট্রেন সেবাও চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে আরো বেশকিছু ট্রেন চালানোর চিন্তাভাবনা চলছে। সবকিছু নির্ভর করছে রেলভবনের ওপর। আনুষ্ঠানিক চিঠি বা নির্দেশনা এলে নতুন কিছু রুটে ট্রেন চালু করতে প্রস্তুতি নেয়া আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাধারণ ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত প্রত্যাহারের পর ৩০ মে সীমিত পরিসরে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের ঘোষণা দেয় রেলওয়ে। নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ট্রেন চালানোও শুরু করে। এর মধ্যে ৩১ মে চলাচলকারী ৮ জোড়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০১/৭০২) ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৭/৭৮৮), ঢাকা-সিলেট রুটের কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩/৭৭৪), ঢাকা-বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রুটের পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৩/৭৯৪), ঢাকা-রাজশাহী রুটের বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১/৭৯২), ঢাকা-লালমনিরহাট রুটের লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫১/৭৫২), চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২৩/৭২০) এবং ঢাকা-খুলনা রুটের চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩/৭৬৪) ট্রেনগুলো।

আর ৩ জুন থেকে চলাচলকারী ১১ জোড়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটের তিস্তা এক্সপ্রেস (৭০৭/৭০৮), ঢাকা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেস (৭৯৫/৭৯৬), ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস (৭৬৫/৭৬৬), খুলনা-চিলাহাটি রুটের রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭/৭২৮), খুলনা-রাজশাহী রুটের কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৫/৭১৬), রাজশাহী-গোয়ালন্দঘাট রুটের মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫/৭৫৬), চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯/৭৩০), ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮১/৭৮২) এবং ঢাকা-নোয়াখালী রুটের উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১/৭১২), ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৩/৭৪৪) এবং ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস (৭৯৭/৭৯৮) ট্রেনগুলো।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট এএমএম শাহনেওয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, নতুন করে আরো যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর কথা শুনেছি। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ৩১ মে থেকে চালু হওয়া ট্রেনগুলোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ চলাচল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা কম কিংবা যেসব ট্রেনের যাত্রী চাপ বেশি, সেগুলো বিবেচনায় এনে নতুন করে ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মন্ত্রণালয় ও রেলভবনের।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সীমিত পরিসরে চলাচলরত ট্রেনগুলোর জন্য যাত্রীদের কঠোর স্বাস্থ্য নির্দেশনা পরিপালনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে অধিকাংশ ট্রেনেই স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রেল স্টেশনে যাত্রীদের হাত ধোয়া, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরাসহ বিভিন্ন নির্দেশ থাকলেও অনেক যাত্রী এসব নিয়ম মানতে চাইছে না। বিষয়টি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে পৃথক দুটি চিঠি দেয়া হয়েছে রেলভবনে। তবে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় বাধ্য করতে সুনির্দিষ্ট সমাধান বের করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বণিক বার্তাকে বলেন, তৃতীয় পর্যায়ে শিগগিরই আরো বেশকিছু ট্রেন চালানো হতে পারে। এজন্য উভয় অঞ্চল থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের নাম প্রস্তাব এসেছে। এ ট্রেনগুলো চালানোর জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে শতভাগ অনলাইন টিকিট বিক্রি হলেও কাউন্টার সার্ভিসও খুলে দেয়া হবে। তবে আগের মতো স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকবে। অনলাইনের ক্ষেত্রে আগে কোটা থাকলেও নতুন নিয়মে অনলাইন/স্টেশন কাউন্টার সমান্তরালে টিকিট বিক্রি হবে। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন ছাড়াও বেশকিছু নতুন নির্দেশনা আসবে।

সূত্র:বণিক বার্তা, জুন ১৩, ২০২০


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।