শিরোনাম

পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন লাইনচ্যুত, বহু হতাহতের আশঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন লাইনচ্যুত, বহু হতাহতের আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক:  ভারতের পশ্চিবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ এক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে বিকানের-গৌহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি। তার জেরে বহু যাত্রীর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দোমোহনি এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির অন্তত ১০টি বগি লাইনচ্যূত হয়েছে। এতে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর পরই উদ্ধারকারী দলের সাথে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনরা। খবর আনন্দবাজার, জিনিউজ।

জানা যায়, পটনা থেকে গুয়াহাটিগামী ওই ট্রেনটি বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় একটি উদ্ধারকারী দল। ট্রেনটির ১০টি বগি দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। তার জেরে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্রেনটির ইঞ্জিনের পর থেকে ১২টি কামরা দুর্ঘটনার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৭টি কামরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক বাবে জানা গিয়েছে, ওই ট্রেনটি ছাড়ার সময় তাতে প্রায় ৭০০ যাত্রী ছিলেন। পরে বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাত্রীরা নামা-ওঠা করেন।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জনসংযোগ আধিকারিক নীলাঞ্জন দেব বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ গুয়াহাটি-বিকানের এক্সপ্রেস লাইনচ্যূত হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের নিউ ময়নাগুড়ি এবং নিউ দোমোহনি সেকশনে এই ঘটনা ঘটেছে। রিলিফ ভ্যান যাচ্ছে। ডিআরএম-রাও যাচ্ছেন। বাকি তথ্য এখনও জানতে পারিনি। জানলেই জানাব।’

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী বলেন, ‘রেলের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য উদ্ধারকাজ।’

আলিপুরদুয়ারের ডিআরএম দিলীপ সিংহ বলেন, ‘লাইনচ্যুত হয়েছে বিকানের এক্সপ্রেস। এখনও হতাহতের খবর নেই। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আগে উদ্ধার কাজ। পরে অন্য কিছু। চারটে কামরা উল্টেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি।’

দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটি থেকে অনেকে নিজে বের হয়ে এসেছেন। বাকিদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে রেলের উদ্ধারকারী দলও। ইতিমধ্যেই আশপাশের সদর হাসপাতাল এবং অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় রেললাইনের কী অবস্থা ছিল, দুর্ঘটনার জেরে কামরাগুলিতে কী প্রভাব পড়েছে এবং সেগুলি কতটা দূরে ছিটকে পড়েছে তা প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি তৈরির প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার অনলাইন।

এদিকে, এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির জেলা প্রশাসক মৌমিতা গোদারা বসু। তিনি বলেছেন, আমরা তিন জনের মরদেহ পেয়েছি। উদ্ধারকাজ চলছে। ময়নাগুড়ি স্টেশনে ঢোকার মুখেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা আলোর ব্যবস্থা করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছি।

এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ১০ থেকে ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মাঝেই ট্রেন দুর্ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সমস্ত রকম ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেন।

খবর জি নিউজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।